
মেদিনীপুর 8 ই জুন :
ডিজিটাল-ই সবার কাছে পৌঁছে যেতে ‘আমার বিধায়ক’অ্যাপস চালু করলেন মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক শংকর গুছাইত। এদিন এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অ্যাপস চালু হলো। বিধায়কের দাবি তিনটে অফিস থেকে কোনোভাবে দু লাখ ৬১ হাজার মানুষের অভাব অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল না, সেই সমস্যা সমাধান করতেই এই ডিজিটাল অ্যাপস চালু। রাজ্যে এই প্রথম এই ধরনের ডিজিটাল অ্যাপস চালু করল বিজেপি বিধায়ক।

গত ৪ ই মে পরিবর্তন হয়েছে , দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে সিংহাসনে বসেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যখন মুখ্যমন্ত্রী তখন অন্যদিকে মেদিনীপুর বিধানসভার নাগরিকদের সুবিধা দিতে এবং সমস্যার সমাধানে ডিজিটাল অ্যাপস চালু করলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। এবার আর অফিসিয়ালি বসে অভিযোগ জানানোর হবে না বরং বাড়িতে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে সরাসরি বিধায়ককে অভিযোগ জানাতে পারবেন মেদিনীপুর বাসি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,ভোটে জেতার পর থেকেই মানুষের অভাব অভিযোগ শুনছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত সেই সঙ্গে তিনি বিজেপি জেলা পার্টি অফিস, ধর্মার অফিস সহ আরো একটি অফিস খুলেছিলেন এবং সেখানে তিনি জনতার দরবার বসিয়েছিলেন মানুষের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য।

তবে তাতেও মানুষের অভাব অভিযোগ মিটছে না কারণ মেদিনীপুর বিধানসভার এলাকা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষ করে একদিকে যখন রয়েছে শালবনির চারটি অঞ্চল তখন অন্যদিকে রয়েছে মেদিনীপুর সদরের ধেড়ুয়া, চাঁদড়া সহ প্রায় পাঁচটি অঞ্চলের লোকজন। ফলে তার দূরত্ব প্রায় ২২ থেকে ৩০ কিলোমিটার। এই পরিস্থিতিতে সকল মানুষ বিধায়কের অফিসে এসে অভিযোগ শোনাতে পারছেন না, পারছেন না বয়স্ক এবং স্পেশাল মানুষজন। তাই এবার বিধায়ক খোদ নিজেই উদ্যোগ নিলেন যাতে ঘরে বসেই বিধায়ক অভিযোগ জানাতে পারেন এবং তিনি তার সমস্যা সমাধান করতে পারেন। তাই চালু হলো ‘আমার বিধায়ক’ ডিজিটাল অ্যাপস। এদিন শহরের একটি হোটেলে এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই অ্যাপস এর উদ্বোধন করলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত।

এরই সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন মেদিনীপুরের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা, সেইসঙ্গে ব্লক মহকুমা অধিকারীকেরা এবং বিজেপির কার্যকর্তারা। এই অ্যাপস এর মাধ্যমে যেমন এলাকার রাস্তাঘাট, জল লাইটের সমস্যা জানাতে পারবেন ঠিক তেমনি পৌরসভা সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে,শোনানো যাবে অভাব অভিযোগ ঠিক তেমনি মেদিনীপুর হাসপাতালে ভর্তি করার ক্ষেত্রে সেইসঙ্গে এখান থেকে রেফার করে দেওয়া রোগীদের কলকাতায় ভর্তির ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া হবে। সুবিধে দেওয়া হবে পড়ুয়াদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে এবং কলেজে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে। পাশাপাশি এই পোর্টালে একটি জায়গা রাখা হয়েছে যেখানে মেদিনীপুরের উন্নতি সংক্রান্ত সাজেশনও জানানো যাবে। যার ফলে এইভাবেই মেদিনীপুর কে সাজানোর পাশাপাশি সমস্যার সমাধানে তৎপর হচ্ছেন বিধায়ক শংকর কুমার গুছাইত।

এ বিষয়ে মেদিনীপুরের বিধায়ক বলেন,”আমার বিধানসভার প্রায় ২ লক্ষ ৬১ হাজার ভোটার রয়েছেন আর আমি তার সবার বিধায়ক। যেহেতু আমার কার্যালয় থেকে অনেকের বাড়ি বহু দূরে তাই এখন ডিজিটাল হবে বিধায়কের কার্যালয়। যেখানে এক ক্লিকেই সমস্যা সমাধান করবেন বিধায়ক খোদ নিজে। আমার এলাকার শেষ পর্যায়ে বর্ডারে থাকা মানুষ জনও এই অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে তাদের নিজের বিধায়ক কে তার হাতের কাছে পাবেন।সেই সঙ্গে অভাব অভিযোগ যেমন শোনা হবে সেই সঙ্গে তার সমাধান হলো কিনা তারও ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি মেদিনীপুর কে সাজানোর ক্ষেত্রে প্রত্যেকের সাজেশন নেওয়া হবে এই আমার বিধায়ক অ্যাপসের মধ্যে দিয়ে।”

যদিও অন্যদিকে এই অ্যাপস চালু হওয়ায় খুশি মেদিনীপুরে মানুষজন। ছাত্র থেকে যুবক, শিক্ষক থেকে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা সকলে এক বাক্যে স্বীকার করেছেন মেদিনীপুরের সমস্যার সমাধানে বিধায়ক চেষ্টা করছেন ভালো কিছু করার।