
খড়গপুর 24 সে এপ্রিল :
এদিন সবার নজর ছিল টিভির পর্দায় কিন্তু ভোট শেষে শাসকবিরোধী অন্যরকম ছবি খড়্গপুরে। রেল শহর খড়গপুরে দিলীপ ঘোষ ও প্রদীপ সরকার একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন এবং বলার সুযোগ করে দিলেন। তবে এক বাক্যেই শাসক বিরোধী দুই প্রার্থী স্বীকার করলেন ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ।

সকাল থেকেই কর্মীদের মোটরবাইকে পিছনে চড়ে বুথে বুথে ঘুরেছেন খড়গপুর সদর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। এদিকে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ সকাল থেকেই ছিলেন খোশ মেজাজে। তিনি সকালে মর্নিং ওয়াক করে প্রথম দফায় বিভিন্ন বুথে ভোট প্রক্রিয়া কেমন চলছে তা ঘুরে দেখে। তারপরে আবার তিনি বাড়িতে ফিরে এসে বিশ্রাম নেন দীর্ঘ সময়। এরপর বিভিন্ন এলাকায় পাটি কর্মীদের সাথে দেখা করেন নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। সকাল থেকেই কোন পক্ষের মধ্যে কোনরকম অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। শহর জুড়ে ছিল শান্তি বুথে বুথে ছিল দীর্ঘ ভোটারদের লাইন। বিকেলে এদিন মুখোমুখি হন দুই প্রার্থী। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুজনেই দাবি করেন ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ। খড়গপুরের ভোটাররা তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তারা দুজনে সৌজন্য বিনিময় করেন। বলেন যা হবে ফলাফল ৪ তারিখ দেখতে পারবেন।

আমাদের খড়গপুরের মানুষজনের মধ্যে যে যে রাজনৈতিক দলই করুক না কেন সৌজন্য সর্বদাই বজায় থাকে। আমি গাড়িতে গেলে পিছন দিক থেকে আমাকে ডাক দেয় দিলীপ দা ঘুরে দেখি প্রদীপ স্কুটি নিয়ে যাচ্ছে। এমনটাই আমাদের সম্পর্ক।

উল্লেখ্য, এই বারে মোট দু দফায় ভোটের প্রথম দফায় ভোট পশ্চিম মেদিনীপুর সহ ১৫২ টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট হবে কলকাতা সহ প্রায় ১৪২ টি কেন্দ্রের। প্রথম দফায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, সবং, পিংলা খড়গপুর সহ মোট ১৫ টি বিধান সভার নির্বাচন একসঙ্গে। মনোনয়ন তোলা জমা দেওয়ার সময় ছিল ৬ ই থেকে ৯ ই এপ্রিল। ভোট গণনা ৪ ই মে। জেলা নির্বাচন কমিশন তথা জেলাশাসকের তথ্য অনুযায়ী এবারে পশ্চিম মেদিনীপুর ১৫ টি বিধানসভায় ১২২ জন প্রার্থী লড়াই করছে। এবারে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ লক্ষ ৭০,৭৯৪জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৪৬ জন স্ত্রী ভোটার ১৮ লক্ষ ১৮,৫১,২২৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধানসভার মোট পোলিং স্টেশনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৩৩ টি অক্সুলারি হিসেবে রাখা হয়েছে ৪৭৫৩ টি । মহিলা বুথে সংখ্যা ৪০৮ টি। মডেল বুথ এর সংখ্যা ১৫ টি টি।কমিশন সূত্র অনুযায়ী যেহেতু ভোট নিতে যাওয়া পুরুষদের সংখ্যা কম তাই মহিলাদেরকে এগিয়ে আনার জন্যই মহিলা বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে,নেওয়া হয়েছে মহিলা বাহিনী। এছাড়াও বেশ কিছু বুথ কে সনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো জন্য বেশি নিরাপত্তা আটোসাটো করা হয়।