
মেদিনীপুর 3 রা মে :
রাত ফুরালেই ফলাফল ঘোষণা রাজ্যের আর সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যবাসী। তবে তার আগেই ২০০ মিটারের দায়িত্ব নিলও কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্দেশিকা টাঙ্গানোর পরেই অবৈধ জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হল। স্ট্রংরুমে বাড়ানো হলো কঠোর নিরাপত্তা, যদিও অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীদের দেখা গেল বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিতে।

রাত ফুরোলেই ফলাফল তবে তার আগেই এলাকা দখলে নিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ২০০ মিটারের মধ্যে সমস্ত দোকানপাট বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি সেইসঙ্গে দুই চাকা চার চাকা এবং বাইক আরোহীদেরও আটকে স্ট্রংরুম নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলল কমিশন। এমনই ছবি দেখা গেল খোদ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরে। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীরা হাজির হলেন মন্দিরা মন্দিরে পুজো দিতে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গোটা রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন কাউন্টিং সেন্টার গুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, এক্সট্রা করে বাহিনী এসেছে পোস্ট পোল ভায়োলেন্স রুখতে।

নির্বাচন কমিশন প্রতিদিনই দফায় দফায় নতুন নতুন নির্দেশিকা জারি করছে আর সেই নির্দেশিকা জারি হচ্ছে গোটা রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। ইতিমধ্যে প্রথম দফার ভোটেই পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধানসভায় ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ নির্বিঘ্নে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই ১৫ টি বিধানসভার জন্য তিনটি কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে। চন্দ্রকোনা,দাসপুর ঘাটাল মোট তিনটি বিধানসভার জন্য ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী কলেজ এ কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে, অন্যদিকে খড়্গপুর সদর, খড়গপুর গ্রামীণ,কেশিয়াড়ি সবং, পিংলা বিধানসভা নিয়ে কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে খড়্গপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়। এরপর বাকি রয়ে যাওয়া গড়বেতা, শালবনী,মেদিনীপুর, কেশপুর সেই সঙ্গে দাঁতন ডেবরা ও নারায়ণগড়ের কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে মেদিনীপুর কলেজ ও কলেজিয়েট স্কুল রাত ফুরোলেই ৪ ঠা মে তাই সকাল আটটা থেকে শুরু হবে এই কাউন্টিং।

তবে দিন সকাল থেকেই এলাকা দখলে নিল কেন্দ্র বাহিনী, ব্যারিকেড করে চেটানো হলো নির্দেশিকা,অবৈধ জমায়েতের উপর জারি হল নিষেধাজ্ঞা। সেই সঙ্গে যাতে সুষ্ঠুভাবে ফলাফল ঘোষণা হয় এবং কোন রকম অশান্তির সৃষ্টি না হয় তার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন। সকাল হতেই একে একে নির্বাচনী প্রার্থীরা ঢুকবেন কাউনটিং, সেন্টারে আর এরপরই সকাল আটটা থেকে শুরু হবে গণনা। এখন সরকার কে গঠন করবে সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী?

উল্লেখ্য, এই বারে মোট দু দফায় ভোটের প্রথম দফায় ভোট পশ্চিম মেদিনীপুর সহ ১৫২ টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট হয় কলকাতা সহ প্রায় ১৪২ টি কেন্দ্রের। প্রথম দফায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, সবং, পিংলা খড়গপুর সহ মোট ১৫ টি বিধান সভার নির্বাচন এক সঙ্গে হয় যা মেদিনীপুর,খড়গপুর ও ঘাটালের কাউন্টিং সেন্টারে বন্দি রয়েছে ইভিএম।এই ভোটে মনোনয়ন তোলা জমা দেওয়ার সময় ছিল ৬ ই থেকে ৯ ই এপ্রিল।জেলা নির্বাচন কমিশন তথা জেলাশাসকের তথ্য অনুযায়ী এবারে পশ্চিম মেদিনীপুর ১৫ টি বিধানসভায় ১২২ জন প্রার্থী লড়াই করছে। এবারে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ লক্ষ ৭০,৭৯৪জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৪৬ জন স্ত্রী ভোটার ১৮ লক্ষ ১৮,৫১,২২৮ জন।

তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা ছিল ২০ জন, PWD ভোটার ২০,৩৯৭ জন।পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধানসভার মোট পোলিং স্টেশনের সংখ্যা ছিল ৪৩৩৩ টি অক্সুলারি হিসেবে ৪৭৫৩ টি ছিল। মহিলা বুথে সংখ্যা ৪০৮ টি। মডেল বুথ এর সংখ্যা ১৫ টি টি।কমিশন সূত্র অনুযায়ী যেহেতু ভোট নিতে যাওয়া পুরুষদের সংখ্যা কম তাই মহিলাদেরকে এগিয়ে আনার জন্যই মহিলা বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল,নেওয়া হয় মহিলা বাহিনী। তবে সব জায়গার ভোট নির্বিঘ্নে মিটলেও ফলতাই ফের পুনর্নির্বাচন করাবে কমিশন যা হবে আগামী একুশে মে।