Head Master : শহরের এক স্কুলে পড়ুয়াদের সঙ্গে আশালীন আচরণ প্রধান শিক্ষকের!এই শিক্ষক কোথাও চাকরি যেন না পায় সঙ্গে চায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি অভিভাবক থেকে পড়ুয়াদের

Share

মেদিনীপুর 1লা আগস্ট :

পড়ার বাহানায় প্রধান শিক্ষকের কুকীর্তি খুদে পড়ুয়াদের উপর যা নিয়ে হৈচৈ মেদিনীপুর শহরের একটি প্রাইমারি স্কুলে। অবশেষে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে রাখে অভিভাবকরা। পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায় নিজেদের হেফাজতে। যদিও অভিভাবক থেকে পার্শ্ব শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক এর একাধিক কুকীর্তির। সেই সঙ্গে তাদের দাবি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এই শিক্ষকের।

মেদিনীপুর জেলা শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে এক সুইপারের কুকীর্তি নিয়ে বেশ কয়েকদিন আগে উত্তাল হয়েছিল মেদিনীপুর। আবার ফের এক প্রধান শিক্ষকের কুকীর্তি ধরা পড়ল একটি প্রাইমারি স্কুলে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়,মেদিনীপুর শহরের গুড়গুড়িপাল থানা এলাকার শহরের একটি প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক তার স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের জোর করে চুমু খেয়ে নিতেন। পড়ার বাহানায় জড়িয়ে ধরতেন বলে অভিযোগ পড়ুয়া ও তার অভিভাবকদের। এই স্কুলের এমন অভিযোগ রয়েছে রান্না করার রাঁধুনীদের সঙ্গেও ওই শিক্ষক জোরজবস্তি জড়িয়ে ধরার। এই নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছিল এলাকাবাসী কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। এদিন একই ঘটনার জেরে ফের এবার শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালো এই খুদে পড়ুয়ার অভিভাবকসহ গ্রামবাসীরা। পড়ুয়াদের অভিযোগ এই শিক্ষক পড়ার বাহানায় তাদের জড়িয়ে ধরে চুমু খায়, বারণ করলে মারধর করার ভয় দেখায়।

এটা দিনের পর দিন চলতে থাকে। এ ঘটনায় পড়ুয়ারা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে তার বাবা-মাকে জানালে তারা এসে স্কুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবং স্কুল শিক্ষককে ঘিরে তারা ক্ষোভ দেখাতে থাকেন। যদিও এই ঘটনায় সরব হয়েছেন এই স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকরা। তারাও অভিযোগ করেছেন এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তারা বলেন এর আগে ২০২৪ সালে একই রকম অভিযোগও হয়েছিল কিন্তু তারপরও তিনি রেহাই পেয়ে যান কোন অজ্ঞাত কারণে। আমরা চাই এই শিক্ষক যেন কোথাও চাকরি না করতে পারে। সেই সঙ্গে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দরকার। একই দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন অভিভাবকেরা। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা থেকে অভিভাবকেরা বলেন এই শিক্ষকের যেমন কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হয়।সেই সঙ্গে কোন স্কুলে যেন উনি চাকরি করতে না পারেন সেই বিষয়টা প্রশাসন ও সরকারকে দেখার আবেদন জানায়।

এই বিষয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর খুদে পড়ুয়ারা বলে,’ এই প্রধান শিক্ষক প্রতিদিনই কোন না কোন ছাত্রীকে জোর করে ধরে চুমু খেয়ে নেয়। পড়ার বাহানায় কাছে ডেকে জড়িয়ে ধরে। আমরা তাই কেউই ওই শিক্ষকের কাছে যেতে চাই না এবং আমরা চাই না উনি আমাদের ক্লাসে পড়া নিক। এই ধরনের নোংরা শিক্ষককে আমরা স্কুলে চাই না, উনার শাস্তি হয়।”

অন্যদিকে অভিভাবকরা বলেন,”এর আগেও একটা ঘটনা ঘটেছিল যার জেরে আমরা অভিযোগ জানিয়েছিলাম তখনও ঐ শিক্ষক বিষয়টা সামলে নেন টাকা পয়সা দিয়ে। সেই সঙ্গে যে অভিযোগ করেছিল তাকে জোর করে টিসি দিয়ে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও এই শিক্ষক তার কুকীর্তি করে যাচ্ছে স্কুলে যা আমাদের কোন বাচ্চাদের উপর কুপ্রভাব পড়ছে। আমরা চাই ওই শিক্ষকের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি যেন পায়।”

এ বিষয়ে এক পার্শ্ব শিক্ষক বলেন,”আমাদের কাছে অভিভাবকেরা প্রায় সময় অভিযোগ করেন অভিযোগ করতো খুদে পড়ুয়ারা কিন্তু আমরা প্রধান শিক্ষককে বলে কিছুই বলে উঠতে পারতাম না। এর আগেও ২০২৪ সালে অভিযোগ করেছিলেন এই অভিভাবকরা আমরাও সেই অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম কিন্তু তারপর তিনি রেহাই পেয়ে যান। আমরা চাই এই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি হোক যাতে কোন শিক্ষকই তার স্কুলের বদনাম করতে না পারে।”

যদিও এই ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছেন এই অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি বলেন,” ২০২৪ সালের কয়েকটা ঘটনা ঘটেছিল।যদিও পরে তা মিটে যায়। তবে আজকে তিনি কিছু করেন নি,কয়েকদিন আগে অভিভাবকেরা যেটা অভিযোগ সেটা সত্যি। আমি শিক্ষক হিসেবে মাঝে মাঝে চুমু খেয়ে নিই। এটা আমার ভুল হয়ে গেছে।”

এলাকার বিজেপি এক নেতা নিরঞ্জন হালদার বলেন,”এই স্কুলে আমি আগে দায়িত্ব ছিলাম। আমাকে বিনা কারণে অভিযোগ তুলে বাদ দিয়ে দেয় ওরা। ঐ শিক্ষকের নামে ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযুক্ত শিক্ষক সকল পড়ুয়ার সঙ্গে এ ধরনের আশালীন আচরণ করে থাকেন। ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *