Widow Vata : দুই মানসী থাকা সত্ত্বেও এক বিধবার অ্যাকাউন্টে মাসে মাসে ডবল টাকা আর অন্যের ভাগ্যে জুটলো শুধু অভিযোগ করার অপশন! শোরগোল দাসপুরে

Share

দাসপুর(2) 9 ই সেপ্টেম্বর :

নাম পদবি একই! দুজনের নাম মানসী মাইতি।একই ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা দু’জনে।দুজনেই বিধবা মহিলা।আবেদন করার ছ’বছর পরেও এক মানসীর একাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা না ঢুকে অন্য মানসীর একাউন্টে ঢুকছে।শুধু তাই নই,এক মানসী আবার ২৩-এর পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে সিপিএমের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।তিনিই অপর মানসীর ভাতার টাকা সহ নিজের বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন।ডবল বিধবা ভাতা পাচ্ছেন পঞ্চায়েতে ভোটে লড়া তৃণমূলের মানসী মাইতি।এদিকে ছ’বছর ধরে ভাতার টাকা না পেয়ে প্রশাসনের দুয়ারে হন্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অন্য মানসী মাইতি।দাসপুর-২ ব্লকের ডবল ডবল ভাতা পাওয়ার তথ্য ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দাসপুর জুড়ে।এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন।

ঘটনা চক্রে জানা গিয়েছে,দাসপুর-২ ব্লকের পলাশপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের জোতকেশব গ্রামের বাসিন্দা মানসী মাইতি(৪৬)।তাঁর স্বামী শিশির মাইতি ২০১০ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যান।একচিলতে ঝিটে বেড়ার অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ঘেরা বাড়িতে একাই থাকেন তিনি।দু’কাঠার মতো জমি রয়েছে সাথে ভাগ চাষ করে চলে তিনি জানিয়েছেন।২০২০ সালে দুয়ারে সরকার শিবিরের মাধ্যমে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেন তিনি।আবেদন অ্যাপ্রুভও হয়।তাঁর দাবি,আবেদন করার পরও এখনও পর্যন্ত তাঁর একাউন্টে ভাতার টাকা ঢোকেনি।টাকা না পেয়ে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ খবরও নেন।বিধবা ভাতার টাকা পেতে ২০২১ সালে ১৪ ডিসেম্বর ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও জানান।তিনি জানান,পঞ্চায়েত হোক কিংবা ব্লক প্রশাসনের কাছে গেলে তাঁকে জানানো হয় তাঁর একাউন্টে টাকা ঢুকছে।প্রশাসনের কাছে তাঁকে এও শুনতে হয় ভাতার টাকা পাওয়ার পরও তিনি নাকি মিথ্যা বলছেন।একথা বলবেই না কেন?কেননা একই নামের আরেক মানসী মাইতি রয়েছে এখবর নাকি প্রশাসনের কাছে ছিলই না।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরে শুনতে হয়েছে যে,মানসী মাইতি নামের মহিলা তো বিধবা ভাতা পাচ্ছেন অথচ মানসী মাইতির দাবি,তাঁর একটি মাত্র ব্যাঙ্ক একাউন্ট তাতে বিধবা ভাতার কোনো টাকাই ঢোকেনি।প্রায় ছ’বছর ধরে ভাতার টাকা পেতে প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরেও সুরাহা মিলেনি বলে অভিযোগ।তাহলে জোতকেশব গ্রামের মানসী মাইতির বিধবা ভাতার আবেদন অ্যাপ্রুভ হওয়ার পরেও তাঁর টাকা যাচ্ছে কোথায়?সম্প্রতি মানসী মাইতি পরিচিত কয়েকজনের কাছে পুনরায় তাঁর ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি জানালে তাঁরাই খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন মানসী মাইতি একজন নেই আরও একজন মানসী মাইতির হদিশ পান তাঁরা।অপর আর এক মানসী মাইতির একাউন্টে জোতকেশব গ্রামের মানসী মাইতির বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে।শুধু তাই নই,ডবল বিধবা ভাতার টাকা পাচ্ছেন সেই মানসী।এই ঘটনা জানতে পেরে মানসী মাইতি জানান,ছ’বছরের তাঁর প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন দাসপুর-২ ব্লকের জোতঘনশ্যাম পঞ্চায়েতের নারায়ণচক গ্রামের অপর এক মানসী মাইতি(৪৪)।

জানা গিয়েছে, নারায়ণচক গ্রামের মানসী মাইতির স্বামী কালিপদ মাইতি বছর পাঁচেক আগে মারা গিয়েছেন।তাঁর দুটি ব্যাঙ্ক একাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে।নিজের ভাতার টাকার পাশাপাশি জোতকেশব গ্রামের মানসী মাইতির ভাতার টাকাও পাচ্ছেন তিনি।মাসে মাসে সেই টাকা তিনি তুলেও নিতেন।তবে ডবল বিধবা ভাতার টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন নারায়ণচক গ্রামের মানসী মাইতি।তাঁর দাবি,আমি আমার বিধবা ভাতার টাকা পাচ্ছি।আমার অন্য একটি একাউন্টেও হাজার টাকা করে ঢুকতো সেটি কিসের টাকা তিনি জানতেন বলে জানিয়েছেন।ইতিমধ্যে স্থানীয় পঞ্চায়েতের লোকজন নারায়ণচকে মানসী মাইতির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছে।ব্লক অফিসে তাঁকে ডাকাও হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই নারায়ণচক গ্রামের মানসী মাইতি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের টিকিটে পঞ্চায়েতের প্রার্থী হয়েছিলেন।যদিও সিপিএম প্রার্থীর কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।প্রশ্ন উঠছে তাহলে তৎকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেই কি ডবল বিধবা ভাতা পেয়েও কাউকে না জানিয়ে সেই টাকা মাসের পর মাস তুলেছেন মানসী মাইতি? এক্ষেত্রে বিগত সরকারের ত্রুটির দিকে আঙুল তুলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দাসপুরের বিজেপি বিধায়ক।আর দাসপুর-২ ব্লকের তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য সৌমিত্র সিংহ রায় জানিয়েছেন,দুটি একাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছে অথচ তা জেনেও উনি সারেন্ডার করেননি।এটা আইনত অপরাধ।সে যেই দলেরই হোক তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিক প্রশাসন।

এই বিষয়ে টাকা না পাওয়া মানসী মাইতি বলেন,’২০১০ সাল থেকে আমি আবেদন করেছি বিধবা ভাতা কিন্তু অবাক করা লক্ষ্য করে গেছি যে আমি তো টাকা পায়নি উল্টে তিনি বিধবা হননি তবুও তিনি তার একাউন্টে টাকা নিচ্ছেন। এরপর বারে বারে আবেদন করে গেছি তারপরও আমার একাউন্টে টাকা ঢোকেনি কিন্তু আরেক মানসী তার অ্যাকাউন্টে দীর্ঘদিন টাকা ঢোকার পর তার স্বামী যখন মারা যায় তারপরও একটা অন্য একাউন্ট দিয়ে আবার নতুন করে টাকা নিচ্ছেন।আমি টাকা পাচ্ছি না কেন এই নিয়ে বারে বারে BDO এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আজও আমায় ডেকেছিল অভিযোগ করলাম এবং আমি চাই আমার প্রাপ্য টাকা ফিরিয়ে দেওয়া সেই সঙ্গে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।’

অন্যদিকে ডবল ভাতা পাওয়া মানসী মাইতির দাবি,’দীর্ঘ বছর ধরে আমার দুটো অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার টাকা করে ঢুকছে এটা সত্যি এবং সেই টাকা তুলে আমি খরচাও করেছি। কিন্তু আমি কখনই ঘুণাক্ষরে টের পাইনি এই টাকা অন্য মানসী মাইতির।যার অ্যাকাউন্টের টাকা আমার একাউন্টে ঢুকেছে। আমাকে অঞ্চল থেকে সম্প্রতি ফোন করেছে জানিয়েছে এবং ডেকেও পাঠিয়েছে। আমি সমস্ত কাগজপত্র দিয়েছি এবং আমি মনে করি আমার দুটো টাকা ঢোকা উচিত নয়, অবশ্যই স্যারেন্ডার করা উচিত।’

এই বিষয়ে পলাশপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীব্যেন্দু চক্রবর্তী বলেন,’দুই মহিলার বাড়িতে পঞ্চায়েত থেকে লোক পাঠিয়ে ফিল্ড ভেরিফিকেশন ও দুই মহিলার তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।কি কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে যাচাই না করে বলা সম্ভব নই।তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ব্লক প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ডবল ভাতা পাওয়া মহিলাকে নোটিশ করে টাকা ফেরতের কথা বলা হয়েছে।’

যদিও দাসপুরের বিজেপি বিধায়ক তপন দত্ত অভিযোগ করেন,’তৃণমূল আমলে পুরুষ হয়েও লক্ষীর ভান্ডার পেয়েছে পুরুষ হয়েও বিধবার ভান্ডারের টাকা ও ভাতা পেয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। এক্ষেত্রেও এক বিধবার টাকা অন্য বিধবার একাউন্টে ঢুকে যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখেনি তৎকালীন সরকার। এই বিষয়ে আমাদের সরকার নতুন করে তদারকি করছে,খতিয়ে দেখছে তাই হয়তো টাকা ঢুকতে দেরি হচ্ছে। তবে দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে তাদের বারে বারে আবেদন জমা নেওয়ার পরও কেন সঠিক করা হয়নি তাও প্রশ্ন রয়ে গেছে আমাদের। আর এভাবেই টাকা নয় ছয় করেছে বিগত রাজ্য সরকার।’

অন্যদিকে দাসপুর-২ ব্লক তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য সৌমিত্র সিংহ রায় বলেন,’ উনি জেনে শুনে কিভাবে দুটো বিধবা ভাতা টাকা নিজের একাউন্টে নিলেন তা আইনের চোখে অপরাধ আমরা চাই উনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *