
দাসপুর 6 ই সেপ্টেম্বর :
বাসুদেবপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রী শ্রেয়া হাইতের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গৌতম সিনহাকে আড়াল করা এবং তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল নেতা তথা বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও বাসুদেবপুর হাইস্কুলের প্রাক্তন সভাপতি কাজল সামন্ত।

দীর্ঘ ছয় মাস পর গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল নেতা। অভিযোগ দশম শ্রেণী ছাত্রী শ্রেয়া হাইতের রহস্য মৃত্যুর জন্যই দায়ী শিক্ষক। তাকে আড়াল করা এবং পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এই তৃণমূল নেতা। তার সঙ্গে শ্রেয়ার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ কল চ্যাট রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাসুদেবপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী শ্রেয়া হাইতের (১৫) রহস্যমৃত্যু হয়। পরে তাঁর বাবা বিশ্বজিৎ হাইত দাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, তদন্তে উঠে আসে ঘটনার আগে শ্রেয়ার সঙ্গে ইংরেজির শিক্ষক গৌতম সিনহার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ কল ও চ্যাট হয়েছিল। ছাত্রীর ফোন থেকে শিক্ষকের সঙ্গে হওয়া চ্যাট উদ্ধার এবং কিছু মেসেজ মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলে পুলিশের দাবি। এমনকি শ্রেয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের রিকভারি নম্বর হিসেবেও শিক্ষকের ফোন নম্বর যুক্ত থাকার তথ্য তদন্তে সামনে আসে।।এই ঘটনার প্রায় ছয় মাস কেটে যায়। এরপর গত ১০ আগস্ট পুলিশ গৌতম সিনহাকে গ্রেপ্তার করে।

তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।এরপর তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষককে আড়াল করা এবং মৃতার পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কাজল সামন্তের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজল সামন্ত।।শনিবার কাজল সামন্তকে গ্রেপ্তারের পর শ্রেয়া হাইতের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দাসপুর থানার পুলিশ। যদিও এই বিষয়ে কাজল সামন্তের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন এবং তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। অন্যদিকে, শ্রেয়ার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, পুলিশ তদন্ত করছে এবং এই ঘটনায় যারা অপরাধী, তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের শাস্তি হওয়া উচিত।

এই বিষয়ে শ্রেয়ার মা বলেন,” আমি শ্রেয়ার মা, আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটাই দাবি করব। কারণ এই ঘটনায় অনেকেই জড়িত আছে বলে শুনেছি।” অন্যদিকে পরিবারের আরেক সদস্য শ্রেয়ার মামা রাহুল নায়েক বলেন,” এই মর্মান্তিক ঘটনায় যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গতকাল আরেক জন গ্রেফতার হয়েছে। আমরা পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট। পুলিশ।দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি গ্রহণ করুক।”
এই বিষয়ে দাসপুরের বিজেপি নেতা প্রশান্ত বেরা বলেন,”শ্রেয়া হাইতের মৃত্যুর পেছনে মূল যারা পান্ডা ছিল তারা লুকিয়ে ছিল এতদিন। অবশেষে পুলিশি তদন্তে তারা ধরা পড়েছে এর জন্য পুলিশকে সাধুবাদ। এই কাজল সামন্ত শুধু শ্রেয়ার মৃত্যুর জন্য নয়, এ দাসপুরে একাধিক দুষ্কৃতি মূলক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাই আমরা চাই এই কাজল সামন্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।

যদিও এ বিষয়ে দাসপুরের এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একটি কেশ রয়েছে। যার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজকে তাকে কোর্টে পাঠানো হবে।