
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
এবার চোখের জলেই ধরা পড়বে জটিল রোগ এমনই কিট আসতে চলেছে ভারতীয় দের কাছে।নমুনা সংগ্রহের মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে নাকি ফলাফল চলে আসবে।এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে শংসাপত্র পাওয়ার অপেক্ষায়।আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বাজারে চলে আসতে পারে এই কিট।

এতদিন বড় জটিল রোগ ধরতে গেলে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হতো,করতে হতো আল্ট্রাসোনো গ্রাফি,MRI,CT স্ক্যান। এবার এত ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে চোখের জলে রোগ শনাক্তকরণের কিট তৈরি হচ্ছে ভারতে!অ্যালঝাইমার্স হোক বা ক্যানসার, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হোক বা রেটিনোপ্যাথি, সব জটিল অসুখ ধরা পড়বে কয়েক ফোঁটা চোখের জলে! ভারতে প্রথম চোখের জলে রোগ শনাক্তকরণের কিট তৈরি হচ্ছে বেঙ্গালুরুর ‘নারায়ণ নেত্রালয়ের গ্রো রিসার্চ ল্যাবোরেটরি’-তে। সেই হাসপাতালের চিকিৎসক রোহিত শেট্টি জানাচ্ছেন, স্টেরাইল কাগজের টুকরো ব্যবহার করা হবে এই পদ্ধতিতে। নমুনা সংগ্রহের মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে নাকি ফলাফল চলে আসবে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে শংসাপত্র পাওয়ার শেষ ধাপে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বাজারে চলে আসতে পারে এই কিট।

কী ভাবে রোগ শনাক্ত হবে?
রোগটি দানা বাঁধার আগে চোখে এবং শরীরে নানাবিধ প্রদাহজনিত বদল ঘটে। চোখের জল সেখান থেকেই রোগটি ধরে ফেলতে পারবে। অশ্রু আসলে রোগের প্রাক-সতর্কতা হিসেবে কাজ করতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং আরও কিছু প্রদাহজনিত রোগের লক্ষণ হাড়ে দেখা দেওয়ারও আগে শনাক্ত করা সম্ভব। চোখের জল ব্যবহার করে পরীক্ষা করার পদ্ধতি অন্যান্য পরীক্ষা-পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম খরচসাপেক্ষ।

কোন কোন রোগ শনাক্ত করতে পারবে?
অ্যালঝাইমার্স রোগটি ধরা পড়ার নির্দিষ্ট কোনও লক্ষণ নেই। এমআরআই-এর ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না। কিন্তু চোখের জলে এমন একটি প্রোটিন (নাম, তাউ) পাওয়া গিয়েছে, যার কিনা অ্যালঝাইমার্সের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। এই প্রোটিন আগেভাগে চিহ্নিত করা গেলে মস্তিষ্ককে বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।এ ছাড়া, স্তন ক্যানসার, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার থেকে শুরু করে যৌনাঙ্গ, প্রস্রাবজনিত রোগের প্রাক-লক্ষণ চিহ্নিতকরণের বিষয়েও কাজ চলছে। চোখের শুষ্কতা, ডায়াবিটিস, মায়োপিয়া, রেটিনোপ্যাথির মতো রোগগুলি শনাক্তকরণের বিষয়েও গবেষকেরা আশাবাদী।