Puruliya tree Grandfather:রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েও চিরদিন গাছ গোঁজার ঠাঁয় থেকে বঞ্চিত ‘গাছ দাদু’! অব শেষে খোঁজ পেয়ে সাহায্যের হাত বিরোধী দলনেতার

Share

নিজস্ব প্রতিনিধি,পুরুলিয়া:

পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়েও চিরদিন অন্ধকারে রয়ে গেলেন পুরুলিয়ার বিশ্ব বিখ্যাত গাছ দাদু।অবশেষে খোঁজ পেয়ে পাকাপোক্ত বাড়ি নির্মাণের আশ্বাস বিরোধী দল নেতার,দিলেন সাহায্য।রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত ৮০ বছর বৃদ্ধের মুখে ফুটলো হাসি, কথা বললেন ভিডিও কলে।

গাছে দাদুর নাম শুনেছেন কখনো!যদিও এখন গাছ দাদুর নাম সোশ্যাল মাধ্যমে টেন্ডিং।আর এই রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত পুরুলিয়ার গাছ দাদুর পাশে দাঁড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী।পাকা বাড়ি তৈরি জন্য প্রথম ধাপে ২ লক্ষ টাকা এবং আগামী দিনে পুরো পাকা বাড়ি তৈরি জন্য আর্থিক ভাবে সমস্ত কিছু সহায়তা করার আশ্বাস দিলেন। কে এই দুঃখ মাঝি ? চলুন শুনে নিই তার গল্প।দুখু মাঝি হলেন পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার সিন্দ্রি গ্রামে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ। ছোট থেকেই নেশা ছিল পরিবেশ সচেতনতা এবং গাছ লাগানো। সেই নেশাতে নিজের ১৫ বছর বয়সে থেকে মাঠে, ঘাটে, শ্মশানে গাছ লাগাতে শুরু করেছিলেন।এখন তার ৮০ বছর বয়স।এই বৃদ্ধ বয়সেও তিনি সেই একইভাবে গাছ লাগিয়ে চলেছেন অযোধ্যা পাহাড় লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায়।আর এই জন্যই তাকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে দেশ থেকে। ঝুলিতে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার থাকলেও দীর্ঘদিন ভাঙ্গাচেরা মাটির বাড়িতে ঠাঁই দুখু মাঝির।

কয়েকটা ত্রিপল দিয়ে টাঙানো স্যাঁতসেঁতে ভিজা ঘরে তার বসবাস। আর্থিক অনটনে কোনরকমে টেনেটুনে চলে সংসার।পরিবার বলতে রয়েছে বৃদ্ধ স্ত্রী,বিকলাঙ্গ ছেলে। যদিও বড়ো ছেলে আলাদা থাকেন।আবাস যোজনার বাড়ি পেলেও সেই বাড়িতে থাকে বড় ছেলের সংসার।তাই আজও মাটির বাড়িতেই দিনযাপন করেন দুখু মাঝি ও তার পরিবার।এই খবর পেয়েই দুখু মাঝির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। তার নির্দেশে এদিন পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার সিন্দ্রি গ্রামে দুখু মাঝির বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিনিধি হিসেবে গৌতম রায় এবং অন্যান্য সমর্থকরা।সেখানে ভিডিও কলের মাধ্যমে দুখু মাঝিকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তাতেই চোখে জল এসে যায় এই পরিবারের।

এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিনিধি বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন,”পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের একজন এই বৃদ্ধ যিনি পুরো জীবনটাই বিলিয়ে দিলেন পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়ে।যিনি গোটা জগতের মানুষকে গাছ লাগিয়ে ছায়া দিচ্ছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন অথচ তিনি ছিলেন অসহায় সম্বলহীন একটি ত্রিপল চাপা বাড়িতে।যে কোনো সময় তার দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।এই খবর বিরোধী দলনেতার কানে পৌঁছতে তিনি তার বেতন থেকে তাকে বাড়ি তৈরি করার দু লক্ষ টাকা দিলেন।সেই সঙ্গে আরও টাকা দিয়ে তার পাকাপোক্তা বাড়ি তৈরি করে দেবেন এবং কালীপুজোর সময় এনার বাড়িতে এসে খাবারও খেয়ে যাবেন একসাথে বসে।

যদিও এই ঘটনায় আপ্লুত দুখু মাঝি।তিনি বলেন শুভেন্দু অধিকারী আমার ভগবান তুল্য।আমার জীবনের শেষ জীবনের একটাই স্বপ্ন ছিল নিজের একটা বাড়ি হওয়ার।তিনি এই যে গরীব মানুষটার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আমার স্বপ্ন তো পূরণ করে দিয়েছেন তাই তাকে অশেষ ধন্যবাদ।আমি ওনার কাছে কৃতজ্ঞ চিরকাল থাকবো।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in