
নিজস্ব প্রতিনিধি,ঘাটাল:
ঘাটালে বন্যা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ঘাটাল শহরের আড়গোড়া চাতালে জলমগ্ন রাজ্যসড়কে বন্যা পরিদর্শন করেন বন্যাদুর্গতদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া থেকে বন্যার্তদের সাথে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপর আড়গোড়া চাতাল থেকে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মাদার হাব পরিদর্শন করে মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরই মাইক হাতে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।

হুগলির বানভাসি মানুষদের খাবার বিতরণসহ সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার পর অবশেষে ঘাটালে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন ঘাটাল শহরের আড়গোড়া চাতালে জলমগ্ন রাজ্য সড়ক পরিদর্শন করেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের সাংসদ অভিনেতা দীপক অধিকারী,মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া,শিউলি সাহা,বিভিন্ন বিধায়কের পাশাপাশি জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদেরী,পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার সহ তৃণমূল নেতা নেত্রীরা। জল পরিদর্শনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক হাতে করে বলেন,”এবারে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে গোটা রাজ্যজুড়ে।তারই সঙ্গে অতিরিক্ত জল ছেড়েছে ডিভিসি এবং বিভিন্ন বাঁধগুলি।আর তাতেই ব্যাপক জলমগ্ন রয়েছে ঘাটাল।আমরা ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান করার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছি।প্রায় ৫০০ কোটি টাকা প্রস্তুত আছে এই প্ল্যান পুরোপুরি সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করতে।

ইতিমধ্যে সেচ মন্ত্রী,ঘাটালের সাংসদ,জেলাশাসক পুলিশ সুপারদের নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি করে তোলা হয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণে।এরপরই মাইক হাতে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকারকে।তিনি বলেন বন্যার সময় অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি টাকা পায় আসাম রাজ্য কিন্তু বঞ্চিত কেবলমাত্র বাংলা।কারণ বাংলা হল সৎ সন্তান। তাই কেন্দ্র সরকার বিমাতৃক সুলভ আচরণ করে এই আমাদের বাংলা সাথে।এরপর বাংলা ভাষা নিয়ে বিভিন্ন বিপ্লবী,মনীষীদের উক্তি ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র সরকার অপমান করেছে বলেও অভিযোগ করেন।তিনি এও বলেন যা করেছি বেশ করেছি,আগামী দিনে করব।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, টানা মাস দেড়েক বৃষ্টির পর অবশেষে বৃষ্টি কমতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে ঘাটালে। শুধু ঘাটাল না,সেই সঙ্গে চন্দ্রকোনা ওয়ান,টু ও,দাসপুর কেশপুরের বেশ কিছু অংশ নাড়াজোল সহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো জলমগ্ন।ধীরে ধীরে জল কমেছে ঘাটাল মনসুকার ঝুমি নদীতে।তবে ঝুমির জলে প্লাবিত এখনও বেশ কিছু এলাকা।মনসুকা ১ গ্রাম পঞ্চায়েত সহ বেশকিছু এলাকা এখনও জলমগ্ন।এদিকে ঘাটাল পুর এলাকা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন।জলের তলায় রাস্তাঘাট,কৃষি জমি থেকে বেশকিছু নিচু এলাকার দোকানপাট।বন্যার জলে প্লাবিত এখনও অনেক স্কুল,ডিঙি নৌকায় জল পেরিয়ে চলছে জরুরি প্রয়োজনে নিত্য যাতায়াত।

প্রশাসনের তরফে ঘাটাল পুর শহর ও ঘাটাল ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে চলছে ত্রাণ বিলি থেকে চিকিৎসা,পানীয় জল সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ।তবে চলতি মরসুমের বর্ষায় এই নিয়ে কয়েকদিন অন্তর পাঁচ বার বন্যার কবলে ঘাটাল বাসী।দেড় মাস হতে চললো এখনও জলমগ্ন ঘাটাল, স্বাভাবিক ভাবেই প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি আরও বেড়েছে।তবে ঝুমি ও শিলাবতীর জলস্তর কমতে শুরু হয়েছে,প্লাবিত বেশ কিছু জায়গায় জল ধীরগতিতে কিছুটা কমেছে। এখনই ঘাটালের জলবন্দি দশা ঘোচার কোনো লক্ষ্মণ নেই, এই জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি কবে মিলবে উত্তর নেই ঘাটাল বাসীর।