
নিজস্ব প্রতিনিধি,গোপীবল্লভপুর:
শ্রেণী কক্ষে দুষ্টুমি করায় স্যার বকেছিলেন।মেরেছিলেন গালে এক থাপ্পড়। সেই রাগে ইতিহাসের শিক্ষকে পিস্তল দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করল দশম শ্রেণীর এক ছাত্র।সোমবার দুপুরে গোপীবল্লভপুর দুই ব্লকের চোরচিতা চৌরেশ্বর হাইস্কুলের ঘটনা।পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম বেঁধে যায়।পরে খবর পেয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্র কে বেলিয়াবেড়া থানার পুলিস পিস্তল,ছোরা ও পাঞ্জা সহ আটক করেছে।ঘটনায় স্তম্ভিত স্কুলের শিক্ষকরা।

ঘটনা ক্রমে জানা যায় বিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক পরিমল অট্ট এদিন সেকেন্ড পিরিয়ডে ইতিহাসের ক্লাস নিচ্ছিলেন।সেই সময় লাস্ট বেঞ্চে বসে দশম শ্রেণীর এই পড়ুয়া সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল।বারবার বলা স্বত্বেও দুষ্টুমি না থামানোয় পরিমল বাবু বকাঝকা করেন।এরপর তার কাছে গিয়ে ক্লাসে পড়ানোর বিষয় জানতে চাইলে এই ছাত্র বেপরোয়া আচরণ করতে শুরু করে।এরপরেই ছাত্রটির গালে চড় মারেন এই শিক্ষক।এই ঘটনার পরই ক্লাস থেকে বেরিয়ে ওই ছাত্রটি সটান প্রধান শিক্ষকের ঘরে গিয়ে ইতিহাস শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। প্রধান শিক্ষক একটি কাজে স্কুল থেকে বাইরে থাকায় টিফিন পিরিয়ডে প্রধান শিক্ষকের ঘরে পরিমল বাবু ও অন্য একজন শিক্ষক বসেছিলেন।সেই সময় বাইরে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে জানলা দিয়ে দেখেন ওই পড়ুয়ার হাত থেকে তিনজন ছাত্র পিস্তল কাড়ার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনায় স্কুলে হুলুস্থুল পড়ে যায় স্কুলে। সেই সময় স্কুলের বাইরে থেকে সিভিক ভলিন্টিয়াররা ছুটে এসে পিস্তলটি কেড়ে নেয়।বেলিয়াবেড়া থানার ওসি খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে আসেন। অভিযুক্ত ছাত্রটিকে পিস্তলসহ আটক করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্কুল চত্বরে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত পরিমল বাবু ফোনে বলেন,’ঘটনাটি আমি এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না।সেকেন্ড পিরিয়ডে ইতিহাসের ক্লাস নিচ্ছিলাম। লাস্ট বেঞ্চে বসে অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল ও।বারবার থামতে বলার পরেও থামছিল না।তাই বকাঝকা করি।ক্লাসে বসে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেই গালে চড় মারি। সে রেগে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের ঘরে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য যায়। এরপর কেটে গেছে অনেকটা সময়। পরে টিফিন পিরিয়ডে প্রধান শিক্ষকের ঘরে ছিলাম আমি সঙ্গে অন্য আরও একজন শিক্ষক ছিলেন।

এরপর বাইরে চেঁচামেচির শব্দ শুনে জানলার কাছে এসে দেখি ওই অভিযুক্ত ছাত্র আমাকে গুলি মারার জন্য বন্দুক নিয়ে এসেছে। তা জানতে পেরে ওরই বন্ধুরা পিস্তল কেড়ে নেওয়ায় গুলি করতে পারেনি। সবার সামনে জানায় আমাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করতে এসেছিল।থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি’।

এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অন্তর্যামী রানা বলেন,’ঘটনার সময় ছিলাম না।বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে’। বেলিয়াবেড়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়,পুলিশ পিস্তল,ছোরা ও পাঞ্জা সহ ওই পড়ুয়াকে আটক করা হয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।দশম শ্রেণীর ছাত্র কোথা থেকে পিস্তল পেল তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।