
কুশপাতা 27 সে আগস্ট:
খাবারের দোকানে বাচ্চাকে রেখে বেপাত্তা মা,কয়েক ঘণ্টা পর খবর দেওয়া হয় থানায়, শিশুটিকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হোমে। যদিও এই ঘটনায় সমস্ত সিসিটিভি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।খোঁজখবর চালানো হচ্ছে ওই মহিলার।

এক অমানবিক ঘটনা ঘাটাল এলাকায়। এক শিশুর মা বাথরুম যাওয়ার নাম করে শিশুকে ছেড়ে দিয়ে গেল দোকানে।অবশেষে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যাওয়ার পরও না ফিরে আসায় শিশুর স্থান হলো পুলিশের মাধ্যমে হোমে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় এ নিয়ে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।মূলত ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল কুশপাতা এলাকার। সূত্র অনুযায়ী জানা যায় মঙ্গলবার সকালে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালেএর দ্বিতীয় গেটের পাশেই একটি খাবারের দোকানে এক মহিলা শিশুটিকে নিয়ে হাজির হয়।সেখানেই এক থেকে দেড় বছরের এই শিশু পুত্রকে বসিয়ে রেখে চলে যান ওই মহিলা।দোকানের মালিক গঙ্গা রাম বলেন এইদিন সকালে এক মহিলা শিশুটিকে নিয়ে দোকানে আসে এবং বলে কাকিমা আমার ছেলেটিকে একটু দেখবেন আমি এক্ষুনি আসছি বলে দোকান থেকে বেরিয়ে যায়।এরপর ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেলেও আর ফিরে না আসায় খবর দেওয়া হয় ঘাটাল থানায়।

পরে পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।ঘাটাল মহকুমা পুলিশ সূত্রে জানা যায় একটি শিশু উদ্ধার হয়েছে এখনো পর্যন্ত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।তাই শিশুটিকে হোমে পাঠানো হয়েছে।সিসি ক্যামেরা ছবি দেখে সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন নিজের শিশুকে ছেড়ে দিয়ে গেল মা, সত্যিই কি ওই মহিলা শিশুটির মা?পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।

এ বিষয়ে দোকানের এক সদস্য পূজা রাম বলেন, “সকালবেলায় দোকান খোলার পর এক মহিলা ওই বাচ্চাটিকে নিয়ে আসে।কিছুক্ষণ পর বলে যে বাথরুম থেকে আসছি একটু বাচ্চাটাকে দেখুন।এরপর বাচ্চা রেখে দিয়েছে মহিলা গিয়েছে আর ফিরে আসেনি।বছর দেড়েকের এই বাচ্চা এরপর এখানেই থাকে।আমরা এই পরিস্থিতিতে পুলিশে অভিযোগ জানাই এবং পুলিশের হাতে বাচ্চাটিকে তুলে দিয়েছি।

অন্যদিকে এই শিশুটিকে উদ্ধার করা ঘাটাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দুর্লভ সরকার বলেন,”সকাল দশটা নাগাদ খবর আসে অতটুকু বাচ্চা দোকানে রেখে ওই মহিলা চলে গিয়েছে।আমরা বাচ্চাটাকে নিয়ে আসি এবং তদন্ত করে জানতে পারি যে বছর ২৫ এর একটি মহিলা সেই বাচ্চা কে সকালবেলায় রেখে দিয়ে চলে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।যথারীতি আমরা সমস্ত সিসিটিভি খতিয়ে দেখছি সেই সঙ্গে এই মহিলাকে গতকালও দেখা গিয়েছিল তার ও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। যদিও ওই বাচ্চাটিকে আমরা চাইল্ড লাইন এর সঙ্গে কথা বলেছি এবং যাবতীয় সরকারি নিয়ম নির্দেশ অনুসারে হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আমরা পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখছি কিভাবে বাচ্চা রেখে পালালো ওই মহিলা।