Saree Distribution : দুর্গাপুজোয় অসহায় মানুষের হাতে নতুন শাড়ি বিতরণ করে সামাজিক দায়িত্ব পালন করলো নির্ণয় প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড পলিক্লিনিক

Share

খড়্গপুর 17 ই অক্টোবর :

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর শহরে দুর্গাপুজো উপলক্ষে ফের মানবিক উদ্যোগ নিল নির্ণয় প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড পলিক্লিনিক। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে দুর্বল, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সঙ্গে দুর্গাপুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করল সংস্থাটি।

এই বিষয়ে নির্ণয় প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ইনচার্জ উমাশঙ্কর কুম্ভকার জানান, তাঁরা এই কর্মসূচিকে শুধুমাত্র বস্ত্র বিতরণ বলতে চান না। তাঁদের কাছে এটি হল, যাঁদের পক্ষে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে, তাঁদের কাছে দুর্গাপুজোর সামান্য আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার একটি ছোট্ট প্রয়াস। আমরা একে বস্ত্র বিতরণ বলব না। আমরা বলতে চাই, যতজন অসহায় ও প্রয়োজনমতো সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছি, তাঁদের সঙ্গে দুর্গাপুজোর সামান্য আনন্দ ভাগ করে নিতে পারছি। পুজোর সময় গরিব ও অসহায় মানুষের হাতে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট্ট উপহার তুলে দিতে পারলে আমাদেরও খুব ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বত্র আনন্দ, উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু সেই আনন্দের ভাগ সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। উৎসবের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি।

খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ল্যাবরেটরি ও প্রতিষ্ঠান সারা বছর নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও উৎসবের সময় দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ সর্বত্র দেখা যায় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন উমাশঙ্করবাবু। তাঁর বক্তব্য, শুধু ব্যবসা করাই নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। তিনি জানান, নির্ণয় প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতি বছর দুর্গাপুজো উপলক্ষে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দুঃস্থ মানুষের হাতে উপহার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। শুধু পুজোর সময়ই নয়, সারা বছর ধরেই সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজকর্ম করা হয়। এর মাধ্যমে প্রয়োজনমতো অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের লক্ষ্য। উমাশঙ্কর কুম্ভকারের কথায়, “টাকা উপার্জন করুন, কিন্তু সেই উপার্জনের কিছুটা অংশ অসহায় মানুষের জন্যও খরচ করুন।” তাঁর মতে, কঠিন সময়ে গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষের সংখ্যা কম। তাই সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে এগিয়ে এসে তাঁদের সাহায্য করা উচিত।

দুর্গাপুজোর আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার বার্তা দিল নির্ণয় প্লাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড পলিক্লিনিক। শাড়ির মতো একটি ছোট্ট উপহারও যে উৎসবের মরশুমে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরল সংস্থার এই উদ্যোগ।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *