
নিজস্ব প্রতিনিধি:
স্ত্রী এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ যুবকের চা স্টল।মূলত ২০১৯ সালে বিয়ে,২০২২ সালে রাজস্থানের এক তরুণের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীর। সেই মামলার এই আইনি লড়াইয়ের জন্য তরুণকে ২২০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসতে হয়। এই হয়রানির প্রতিবাদে ও পুরুষদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে তিনি ‘৪৯৮এ টি ক্যাফে’ নামে চায়ের দোকান খুলে বসেন তরুণ। তা-ও একেবারে শ্বশুরবাড়ির নাকের ডগায়।

বিনা কারণে স্ত্রী এর মামলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যুবক এবার প্রতিবাদের ভাষা ঠিক অন্যভাবে।সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে,আথানা শহরের বাসিন্দা কৃষ্ণ কুমার ধাকাড ওরফে কেকে ২০১৯ সালে রাজস্থানের বারান জেলার আন্তা শহরের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তাঁর পেশা ছিল মৌমাছি পালন। চার বছর ঘর করার পর ২০২২ সালে কেকে-র স্ত্রী পিত্রালয়ে ফিরে আসেন।পরবর্তী কালে কেকে-র বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন (ধারা ৪৯৮এ) এবং ক্ষতিপূরণের (ধারা ১২৫) মামলা দায়ের করেন তাঁর স্ত্রী। সেই মামলার শুনানিতে যোগ দিতে প্রায়ই কৃষ্ণকুমারকে ২২০ কিমি দূরে ছুটে আসতে হত। ফলে জীবন ও জীবিকায় টান পড়তে শুরু করে তাঁর। হয়রানির শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ কেকে স্থির করেন শ্বশুরবাড়ির কাছেই আন্তায় একটি ক্যাফে খুলবেন।৯ জুন ক্যাফেটি উদ্বোধন করেন তিনি।

সে দিন হাতকড়া অবস্থায় কেকে ঘোষণা করেছিলেন, ‘‘যত ক্ষণ না আমরা ন্যায়বিচার পাব, তত ক্ষণ চা ফুটতে থাকবে।’’কেকে জানান যে তিনি দেড় মাস ধরে টাকা জমিয়ে চেয়ার-টেবিল এবং চায়ের সরঞ্জাম, দোকানের জিনিসপত্র কিনেছেন। কৃষ্ণকুমার বিশ্বাস করেন যে অনেক মহিলা ন্যায়বিচারের জন্য আইন ব্যবহার করলেও, কিছু মহিলা আছেন যাঁরা এর অপব্যবহার করেন। ফলে নিরীহ পুরুষ এবং তাঁদের পরিবারের উপর দুর্ভোগ নেমে আসে। সংবাদমাধ্যমে ওই তরুণ বলেন ‘‘আমার স্ত্রী নিশ্চয়ই আমাকে এ ভাবে দেখে শান্তি পেয়েছেন।

তিনি এও বলেন,আদালতে কেবল তারিখ পাওয়া যায়, ন্যায়বিচার পাই না। তাই আমি এখানে চা বিক্রি করে আমার আইনি লড়াই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি হাল ছাড়ব না।’’