
ডেবরা 23 সে অক্টোবর :
এবার এক অনাথ আদিবাসী কন্যাকে দত্তক নিলেন বিজেপি জেলা সভাপতি দম্পতি। মানবিক বার্তা সমাজে। মূলত ডেবরার মঠ বিষ্ণুপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঝর্ণা নায়েক অনাথ। কয়েক বছর আগে বাবা মারা গিয়েছিলেন দুর্ঘটনায়। সেই শোক সামলাতে না পেরে মায়েরও মৃত্যু হয় পরে। হতদরিদ্র পরিবারের অনাথ মেয়ের ঠাঁই হয় মাসির বাড়িতে। মাসি-মেসোও গরিব। ফলে বড্ড কষ্টে দিন কাটাতে হয় ঝর্ণাকে।এই দুর্গাপূজোর সময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী সর্বজনীন দুর্গাপুজো সমিতির মন্ডপে অনাথ এই আদিবাসী কন্যা পূজিতা হল দেবী রূপে। সেই পুজো উদ্বোধনে এসেই এই অনাথ কন্যাকে নিজের কন্যা রূপে গ্রহণ করলেন, দায়িত্ব নিলেন সমস্ত পড়াশুনার খাওয়া-দাওয়ার এবং বেড়ে ওঠার আর্থিক বিষয়টি।তাঁদের কথায়, ‘নারীর মধ্যেই তো লুকিয়ে রয়েছে দেবী শক্তি।

তাই তো আমরা দেবী দুর্গার সঙ্গে কুমারী পুজো করি। পুজোর মাহাত্ম্য কিন্তু আলো, মন্ডপ সজ্জায় আবদ্ধ থাকতে পারে না। যতক্ষণ না আমরা প্রতিটি নারীকে সম্মান দিতে পারি, তাঁদের জন্য কিছু করতে পারি, ততক্ষণ পুজোর প্রকৃত সার্থকতা মেলে না বলেই আমার বিশ্বাস। তাই আমরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনাথ কন্যাকে দেবী রূপে পুজো করার পাশাপাশি কন্যা রূপেও তাকে গ্রহণ করেছি। তার সমস্ত দায়িত্ব এখন আমার।’

ইতিমধ্যেই দু’টি স্কুলের সঙ্গে কথাও হয়েছে তন্ময়ের। যে স্কুলের হস্টেলে রেখে ঝর্ণাকে পড়াশোনা করাবেন। তবে তার আগে স্কুল এবং হস্টেলের পরিবেশ দেখে নিতে চান তন্ময়-পাপিয়া। তারপরই সিদ্ধান্ত নেবেন। আর তাঁদের এই কাজ দেখে যদি অন্যরাও নিজেদের এলাকায় এমন কন্যাকে দেবী রূপে পুজো করে সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাতে আরও আনন্দ পাবেন তন্ময়। তন্ময়ের কথায়, ‘এভাবেই বিভিন্ন পুজো কমিটি যদি একজন করে কন্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলেও বহু অনাথ, গরিব কন্যা একদিন নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে নজির সৃষ্টি করতে পারে।’