
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
অঙ্গনওয়াড়ি খাবারের মধ্যে শুঁয়োপোকা যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ালো মেদিনীপুর শহরের এক শিশু সুসংহত কেন্দ্রে।এই শুঁয়োপোকা নিয়ে জেলা শাসক কে চিঠি বিজেপির অন্যদিকে এই শুঁয়োপোকা বিজেপির রাজনীতি বলে দাবি তৃণমূল ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৌরভ বসুর।

গোটা রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ির খাবারে বিভিন্ন পোকা মাকড় সাপ,টিকটিকি,ব্যাঙের পর এবার মেদিনীপুরে শুঁয়োপোকা।তাও আবার খোদ মেদিনীপুর শহরের শহরকেন্দ্রিক অঙ্গনওয়াড়ি এক স্কুলে যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছাড়ালো সংশ্লিষ্ট এলাকায়।ঘটনা ক্রমে জানা যায় মেদিনীপুর শহরে ৯ নং ওয়ার্ডে লালদীঘির পূর্বপাড় এলাকায় বহু পুরানো একটি অঙ্গনওয়াড়ি স্কুল রয়েছে।এই স্কুলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ এর ওপর খাবার তৈরি করেন দিদিমনিরা।এদিন এলাকারই এক অভিভাবক সকালবেলায় টিফিন কারি করে খাবার নিয়ে যান এই কেন্দ্র থেকে।এরপর যখন তিনি বাচ্চাকে থালায় ঢেলে সেই খাবার দিতে যান তখন একটা সবুজ আকৃতি পোকা দেখতে পান এই খিচুড়িতে।এরপর তিনি তার কাজের লোক এবং বাড়ির লোকেদের দিয়ে পরীক্ষা করালে দেখা যায় সেটি একটি শুঁয়োপোকা।যা খিচুড়িতে ঘাটা অবস্থায় রয়েছে।এরপর তিনি তৎক্ষণাৎ দৌড়ে আসেন এই সেন্টারে এবং দিদিমণি সহ এলাকার মানুষকে দেখান সঙ্গে ছবিও তুলে রাখেন।

এই ঘটনায় আশেপাশে লোক জানাজানির পাশাপাশি জানতে পারেন বিজেপি নেতা শংকর গুছাইত।তিনি এই ঘটনায় তড়িঘড়ি জেলার জেলা শাসককে এটি নিয়ে অভিযোগও জানিয়ে দেন অনলাইনে এবং এটা খতিয়ে দেখার আবেদনও করেন। অন্যদিকে এই শুঁয়োপোকার খবর চাউর হতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মেদিনীপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার সৌরভ বসু।এলাকা খতিয়ে দেখার পর তারা অঙ্গনওয়াড়ির পাশে থাকা গাছ কেটে ফেলেন।এই খিচুড়ির ওপর শুঁয়োপোকা তা তারা মানতে অস্বীকারও করেন।তিনি সরাসরি এই শুঁয়োপোকার জন্য বিজেপির রাজনৈতিক পরিকল্পনার অভিযোগ করেন।তিনি এও বলেন এই স্কুল থেকে কোন শুঁয়োপোকা পড়েনি বরং ওই বিজেপির ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য।যদিও এই নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।

এই বিষয়ে অভিযোগকারী পরিবার অনিমা সাউ বলেন,”প্রতিদিনের মতন আজকেও বাচ্চার জন্য খিচুড়ি আনতে গেছিলাম এই অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলে।টিফিন কারীতে করে সেই খাবার ঢাকা দিয়ে নিয়ে আসি আমরা বাড়িতে।যথারীতি প্রতিদিনের মতো এই দিনও থালায় ঢেলে খাবার দিতে গিয়ে একটা সবুজ রংয়ের বস্তু দেখতে পায়।প্রথমে ভেবেছিলাম উচ্ছে বা অন্য কোন সবজি।কিন্তু পরে দেখলাম এটা আস্ত একটা শুঁয়োপোকা। এরপরে আমরা সেন্টারে দৌড়ে যাই বিষয়টা জানাই।আমরা মনে করছি এ বিষয়ে আরো সতর্ক সচেতন হওয়া উচিত স্কুলের রান্নার দিদিমণিদের।

এই বিষয়ে বিজেপি জেলা সহ সভাপতি শংকর গুছাইত বলেন,”এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্বিষহ ও বেদনাদায়ক। যেখানে একটি শিশুদের খাবারের মধ্যে আস্ত শুঁয়োপোকা পাওয়া যাচ্ছে।শুধু এখানে নয় এই ঘটনা রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই আমাদের চোখে পড়ে।যেখানে স্কুল নেই এবং একটা বদ্ধ আবর্জনাময় পরিবেশে রান্না করা হয়।তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের জেলার জেলাশাসক কে অভিযোগ জানিয়েছে আমি।

অন্যদিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলার সৌরভ বসু বলেন, “আমাদের স্কুল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং যিনি রান্না করে দিয়েছেন তা অন্য কোন বাচ্চার সমস্যা হয়নি। আমরা মনে করি এই শুঁয়োপোকা এই স্কুল থেকে পড়েনি।তবে যিনি অভিযোগ করছেন বা যার মারফত জেলা শাসক কে জানানো হয়েছে তিনি এর আগেও একাধিক অভিযোগ করেছেন এই ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে।আমরা মনে করি তিনি পরিকল্পিত ভাবে ওয়ার্ডের উন্নয়নকে বন্ধ করা সেই সঙ্গে বদনাম করার জন্য এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন।যদিও আমরা পাড়ার সমাধানে এই স্কুলের উন্নতি করার জন্য উদ্যোগ নিয়ে নিয়েছি।

এই নিয়ে এই অঙ্গন ওয়াড়িতে রান্না করা রাঁধুনি শ্যামলী বিশাই বলেন,”রান্না করার সময় দেখেই রান্না করেছে এবং সেই খাবার বাকি বাচ্চারাও খেয়েছে।তাদের কোন এখনও পর্যন্ত সমস্যা হয়নি।তবে যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি বলতে পারবেন পুরো বিষয়টা।কারণ এই খাবার দেওয়ার সময় অনেক অভিভাবক সেখানে ছিলেন।তাছাড়া আমরা অনেক খেয়াল করি খাবার দিয়েছি।এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।