Ghatal Master Plan: বর্ষার মুখে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্লুইলিসগেট পরিদর্শনে এসে জমি জট নিয়ে ভগবান কৃষ্ণের সমস্যা-সমাধানের প্রসঙ্গ টেনে দায় এড়ালেন মন্ত্রী

Share

নিজস্ব প্রতিনিধি,ঘাটাল:

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান জমি জটে কিছুটা আটকে এই অবস্থায় বর্ষার মুখে সেই কাজের তদারকি করতে ঘাটালে এক প্রস্তুত দৌড়ে এসে আধিকারিকদের কড়া সমালোচনা মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার।পাশাপাশি জমি-জট কাটিয়ে কত তাড়াতাড়ি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রুপায়ন হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের ব্যাখ্যা শুনিয়ে দায় এড়ালেন।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পাঁচটি স্লুইলিসগেট তৈরীর কাজ পরিদর্শন করে,সেচ দপ্তরের আধিকারিক দের কাজের গতি বাড়াতে ধমক দিলেন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া।রাজ্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর শুরু হয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পাঁচটি স্লুইলিসগেট তৈরীর কাজ।কয়েক মাস ধরে তৈরী হচ্ছে ঘাটালে শিলাবতী ও দাসপুরে রূপনারায়ণ নদীর উপর পাঁচটি স্লুইলিসগেট তৈরীর কাজ।এইদিন সেই পাঁচটি স্লুইলিসগেট তৈরীর কাজ পরিদর্শন করে সেচ দপ্তরের আধিকারিক সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজের গতি বাড়াতে ধমক দিলেন রাজ্যের জল সম্পদ ও উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেচ দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মনীষ জৈইন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসক খুরশিদ আলী কাদরী, ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস সহ জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।পরিদর্শন শেষে ঘাটালে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক দের নিয়ে বৈঠক করেন।

এদিন মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া কে এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কবে হবে তার ডেল লাইন নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি হেসে উত্তর দিয়ে বলেন এসব ইংরেজী কড়া কড়া কথাবার্তায় প্রশ্ন করবেন না আপনারা আপনারা বাংলায় প্রশ্ন করুন।তিনি বলেন এবারের বর্ষায় যাতে কোনো ভাবেই এলাকায় জল না ঢুকে তার জন্য যা করা উচিত তাই করব।এরপর ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান এর কোন কোন কাজ এই মুহূর্তে চলছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন সব কাজগুলি নিখুঁতভাবে চলছে।সেই সঙ্গে তিনি বলেন জমি কতটা নেব এবং জমির দাম ফাইনাল কত হবে এটাই শেষ পর্যায়ে রয়েছে।এরপর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান জমি জটিলতা থাকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন এ পৃথিবীতে শ্রীকৃষ্ণ কে যখন অর্জুন জিজ্ঞেস করেছিলেন যে সখা আমি এখন কি করব,আমি তো ভয়ংকর আবর্তে বসে আছি।তখন শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন জীবনে অনেক সমস্যা থাকবে কিন্তু তোমাকে এগোতে হবে।তবে এই দিন কাজের গতি নিয়ে আধিকারিকদের ধমক দিয়ে তিনি বলেন আমাদের মূলত এই স্লুইলিস গেট গুলি কিভাবে চটজলদি তৈরি করে ফেলা যায় তার উপরই আমরা নির্দেশিকা দিয়েছি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কম জটিলতা হয়নি।যদিও এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে গত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঘাটালের মানুষকে যে তিনিই জিতে এলে মাস্টার প্ল্যান রুপায়ন করবেন।কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি তা করে উঠতে পারেননি।এরপর তিনি ২০১৯ সালে ফের ঘাটাল থেকে লোকসভা ভোটে লড়াই করেন দেব। তখনও ও তার একই প্রতিশ্রুতি ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করে দেওয়ার।দুর্ভাগ্যবশত ২০১৯ এ জেতার পরও তিনি করে উঠতে পারেননি।একসময় তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবে বলেও পিছিয়ে আসেন কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তিনি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘাটাল থেকে লড়াই করেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে এসে দুজনেই প্রতিশ্রুতি দেন ২০২৪ এর ডিসেম্বর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ কাজ শুরু হবে সে মোতাবিক জিতে আসার পরেই কাজ শুরু হয়েছে।তবে এখনো জমি জটে আটকে রয়েছে এ মাস্টার প্ল্যান।এখন শেষ পর্যন্ত দেখার এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কবে পূরণ হবে ঘাটাল বাসীদের?


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in