
খড়গপুর 24 সে আগস্ট:
ছেলে বলেছিল খড়গপুর আইআইটি তে সুযোগ পেয়েছে সেই মোতাবেক ভর্তি করতে আসছিলেন বাবা-মা,সঙ্গে ছিল ছেলের মামা। কিন্তু মাঝপথে উধাও হলো পড়ুয়া, মোবাইলে চার্জে বসে শৌচাগার যাওয়ার নাম করেই ফিরলো না ছেলে আর তাতেই হাহাকার পরিবারের। যদিও এ বিষয়ে আইআইটির বক্তব্য এই ধরনের মেল তারা পাঠায়নি ওই পড়ুয়াকে।যদি ওই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর পুলিশ।

ঘটনা সূত্রে জানা যায় অর্জুন পাটিল নামে এই পড়ুয়ার বাড়ি মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার চোপড়াতে। বাবা রবীন্দ্র কুমার পাটিল এবং মা মমতা পাটেল। সম্প্রতি অর্জুন জানায় খড়্গপুর আইআইটি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে।তাকে মেইল মিল করা হয়েছে আইআইটি থেকে।আর সেখানে ভর্তি করার জন্যই ছেলে অর্জুনকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা ২৪ মিনিটে জলগাঁও স্টেশন থেকে শালিমার এক্সপ্রেসের ৩২নং কোচে উঠেছিলেন তাঁরা।সঙ্গে ছিলেন অর্জুনের মামা রমেশ ইমরূপও।এরপর ২১ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টা-১২টা নাগাদ ট্রেন যখন ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া স্টেশনে পৌঁছয় ট্রেন।তখন মোবাইল ফোন চার্জে বসিয়ে ট্রেনের শৌচাগারে গিয়েছিলেন অর্জুন। তারপর আর ফেরেননি!প্রায় ২০ মিনিট পরও ছেলে না ফেরায়, খোঁজাখুঁজি শুরু করেন বাবা-মা ও মামা।

দুপুর দেড়টা নাগাদ ট্রেন খড়্গপুর স্টেশনে পৌঁছনোর পর তাঁরা জিআরপি-র দ্বারস্থ হন। এরপর, খড়্গপুর জিআরপি-র সহায়তায় সন্ধ্যা নাগাদ এফআইআর দায়ের করেন চাকুলিয়া জিআরপি-তে।অর্জুনের বাবা সংবাদ মাধ্যমকে জানাই,”ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে।” তারপর থেকেই লাগাতার চলছে খোঁজাখুঁজি। অর্জুনের বৃদ্ধ বাবা-মা এবং মামা অর্জুনের ছবি হাতে কখনও ছুটছেন চাকুলিয়া স্টেশনে, কখনও ঘাটশিলা স্টেশনে, কখনও ঝাড়গ্রাম স্টেশনে আবার কখনও খড়্গপুর স্টেশনে। এরপর অর্জুনের বাবা-মা ও মামা আইআইটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। আইআইটি-থেকে এরকম কোনও মেল পাঠানো হয়নি। আর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে।” যদিও, শনিবার বিকেল নাগাদ আইআইটি খড়্গপুরের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে, “এই নামে কোন পড়ুয়া আইআইটি-তে সুযোগ পায়নি।

আর আমারা ওই মেল অ্যাড্রেস খতিয়ে দেখেছি। পুরোপুরি ফেক মেল খোলা হয়েছিল।” খড়্গপুর ডিভিশনের রেল পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা যেটুকু জানতে পেরেছি, JEE Advance-এ ভালো রেজাল্টে করার জন্য ওর (অর্জুনের) উপর বাড়ির প্রচুর চাপ ছিল। এমনও হতে পারে, র্যাঙ্ক আশানুরূপ হয়নি বলেই বাবা-মা’কে মিথ্যে কথা বলে ট্রেনে উঠেছিল। তারপর ট্রেন খড়্গপুর ঢোকার আগেই উধাও হয়ে যায়।” অর্জুনের খোঁজে সর্বত্র তল্লাশি চলছে। তবে ওর সঙ্গে যেহেতু মোবাইল নেই, তাই লোকেশন ট্র্যাক করতে একটু সমস্যা হচ্ছে।” নিখোঁজ অর্জুনের ছবিও চেটানো হয়েছে বিভিন্ন স্টেশনে।এমনকি কয়েকটি স্টেশনের ওইদিনের সিসিটিভি ফুটেজও দেখানো হয়েছে বাবা-মা’কে।
এই বিষয়ে অর্জুনের মামা রমেশ বলেন, “ও খুবই মেধাবী। দশম ও দ্বাদশে ৯০ শতাংশের উপর নম্বর পেয়েছে।

জেইই অ্যাডভান্সের জন্য রাজস্থানের কোটাতে একটি নামকরা কোচিং সেন্টারেও পড়েছে।” তাঁর দাবি, অর্জুন তাঁদের জানিয়েছে সে নিজের ক্যাটাগরিতে ১৩২৯ র্যাঙ্ক করেছে।যদিও এই নিয়ে চাঞ্চল্য সংশ্লিষ্ট এলাকায়।