Dev Sir Hearing: “রাজনীতিবিদদের জীবন থেকে হ্যারাস শব্দটি সরিয়ে ফেলা উচিত, কারণ এই দল করলে ওই দল হ্যারাস করবে” শুনানীতে এসে মন্তব্য দেবের

Share

কলকাতা 14 ই জানুয়ারি:

নির্দিষ্ট শুনানি দিন মত শুনানী কেন্দ্রে হাজির হলেন অভিনেতা দীপক অধিকারী ও ওরফে দেব।কেন্দ্রে এসে অভিনেতা-সাংসদ বলেন, ‘এই নির্বাচনটা হচ্ছে দেশকে এক করার,ভাগ করার জন্য নয়।সমস্ত দলের নেতারা যেন মানুষকে এক থাকার বার্তা দিক।এমন কিছু যাতে না হয় যে আমাদের রাজ্য নাম খারাপ হোক।

এবার শুনানির ডাকে হাজির হলেন ঘাটালের সাংসদ অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব। এদিন নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে নথি হাতে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন এই টলিউডের অভিনেতা। মূলত ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় দেবের বাবা মায়ের নাম নেই। তাই সাউথ সিটি আবাসনের বাসিন্দা দীপক (দেব) অধিকারীকে শুনানিতে তলব কমিশনের। এইদিন তিনি আনোয়ার শাহ রোডে কাটজুনগরে যান তিনি।দেখা করে দিয়ে এলেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। শুনানিকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সাংসদ। প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার আগেই তিনি প্রথমেই বলেন, ‘এটাই এখন নতুন নর্মাল। আমি একজন রেসপন্সিবল সিটিজেন হিসাবে আইনকে ফলো করেছি। নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, এই রাজ্য নাগরিক হওয়ার জন্য যা যা নথি দরকার, সব জমা করেছি। আমার শুধু এটাই বলার আছে, ইতোমধ্যেই আমার কাছে অনেক ফোন এসেছে। SIR শুনানিতে ডাকা হয়েছে আমাকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আমার কাছে অনেক ফোন আসে।

যেমন প্রজাপতি ২-তে যিনি আমার মা হয়েছিলেন। তিনি আমাকে জানান, ফর্ম ফিলাপ করতে এসে তিনি ৩ ঘণ্টা ধরে হয়রানি শিকার হয়েছেন। তাঁরা একা থাকেন, সিনিয়র সিটিজেন।’দেব আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় উত্‍সব হল নির্বাচন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডেমোক্রেটিক দেশ হচ্ছে ভারত। এর আগে ভারতে লাইন লেগেছিল, যখন নোটবন্দি হয়েছিল। তখন আমি সেটাকে সাপোর্ট করেছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিল, কালো টাকা অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে। এটার ভালো জন্য হচ্ছে, তাই সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে, বিশেষ করে বয়স্ক-অসুস্থদের নাগরিকদের রিলিফ দেওয়া দরকার। কারণ অনেকেই একা থাকেন, শরীর খারাপ, আসতে পারছেন না। নোটবন্দির সময় আমি এত কথা বলতে পারিনি। কারণ সেই সময় আমাদের দেশ ইকোমনিক্যালি এত বড় ছিল না। দেব একজন সাংসদ হিসাবে নয়, মানবিকতার খাতিরে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করছি যে, আমাদের মত যুব সম্প্রদায়ের কোনও আপত্তি নেই।

কিন্তু সিনিয়র সিটিজন, যাঁরা একা থাকেন, হাঁটতে পারেন না, হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে আসতে পারছেন না- তাদের বাড়িতে অন্তত প্রতিনিধি দল পাঠানো হোক। তাঁরা যেন বাড়িতে বসে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণের ফর্ম ফিলাপ করতে পারে।’অভিনেতা-সাংসদ বলেন, ‘এই নির্বাচনটা হচ্ছে দেশকে এক করার, ভাগ করার জন্য নয়। সমস্ত দলের নেতারা যেন মানুষকে এক থাকার বার্তা দিক। এমন কিছু যাতে না হয় যে আমাদের রাজ্য নাম খারাপ হোক। কারণ রাজ্যের নাম খারাপ মানেই দেশ নাম খারাপ। নির্বাচন আসছে, সমস্ত দল যেন তাদের প্রতিনিধিদের জনসাধারণকে একতার বার্তা দেয়।’হয়রানি হওয়ার প্রসঙ্গে দেব স্পষ্ট বলেন, ‘সাংসদ বা রাজনীতিবিদদের নিজেদের জীবন থেকে হ্যারাস শব্দটি সরিয়ে ফেলা উচিত। কারণ এই দল করলে ওই দল হ্যারাস করবে। এগুলি খুবই সাধারণ হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে আসার পর আমি খুব একটা সাধারণ জীবনযাপন করি না।

মাঝে মাঝে এমন জিনিস ঘটে, যা অকল্পনীয়।’দেব বলেন, ‘এই SIR যখন হওয়ারই ছিল, তাহলে সেটা এক বছর আগে হয়নি কেন? নির্বাচনের এক-দুমাস আগে কেন হবে। সবাই জানে বাংলায় এপ্রিল-মে মাসে নির্বাচন। সাংসদ দূরের কথা, নাগরিক হয়ে আমার প্রশ্ন SIR এক বছর শুরু হল না কেন। যাঁদের নিজেকে প্রমাণ করতে এক মাসের বেশি সময় লাগবে, তাহলে তাদের কী হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে যে দলই জিতুক। কিন্তু ভোটার যেন জীবিত অবস্থায় মৃত না হয়ে যায়। শহরে নাগরিক হিসাবে তাঁরা যেন ভোটের অধিকার পায়। নির্বাচন কমিশনের চক্করে যেন তাদের থেকে সেই অধিকার না চলে যায়।’ সবার শেষে দেবকে প্রশ্ন করা হয়, শুনানি কেন্দ্রে কী হল? তার উত্তরে অভিনেতা-সাংসদ বলেন, ‘ভিতরে অনেক গুলো ছবি তুললাম। অটোগ্রাফার দিলাম আর কিছু সই করলাম।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুধু দীপক অধিকারীকেই নয়, এর আগে অনির্বাণ ভট্টাচার্য,লক্ষ্মীরতন শুক্লা সহ বিভিন্ন ভিভিআইপিদেরও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।



Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in