College Math : হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কলেজ মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পড়ে রইলো বাঁশ, হেলি প্যাডের অংশ! বাধ্য হয়ে বাঁশ সরালেন খেলোয়াড় রা, কটাক্ষ বিজেপির

Share

মেদিনীপুর 12 ই এপ্রিল :

অস্থায়ী হেলিপ্যাড থাকা সত্ত্বেও কেন খেলাধুলার মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড করে তার জিনিসপত্র এবং গর্ত করে বাঁশ ছড়িয়ে রাখবে শাসকদল তা নিয়েই প্রতিবাদে সরল হলো বিজেপি। এরই পাশাপাশি মাঠে পড়ে থাকা যত তত্র বাঁশ নিজের কাঁধে বয়ে সরিয়ে দিলেন মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী সেইসঙ্গে এই বাঁশ সরাতে উদ্যোগী হল মাঠে খেলতে আসা খেলোয়াড়রা। উগরে দিলেন একরাশ ক্ষোভ এবং রাগ অভিমান।

মেদিনীপুর শহরের এক ও অন্যতম মাঠ হল এই কলেজ কলিজিয়েট মাঠ। এই রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা এবং দায়িত্ব রয়েছে কলেজ এবং কলিজিয়েট স্কুলের। এই মাঠে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের খেলোয়াড়রা যেমন খেলাধুলা করে সেই সঙ্গে বহু ছোট বড় এবং খুদে খেলোয়াড়রা খেলতে আসেন এই মাঠে সকাল বিকাল। এছাড়াও আট থেকে আশির মানুষজন সকালবেলা থেকে রাত্রিবেলা পর্যন্ত এখানে আসেন শরীর ব্যায়াম গড়তে এবং মর্নিং ওয়াক করতে। এই মাঠে রাজনৈতিক সভা নিয়ে বহু অভাব অভিযোগ রয়েছে। স্কুল এবং কলেজের অভিযোগ অভিযোগে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে এই মাঠে কোনরূপ খেলাধুলা ছাড়া অন্য কোন কারণে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু অতটুকুই! যেহেতু ভোট ঘোষিত হয়েছে তাই ইতিমধ্যেই সভা মঞ্চ এবং একাধিক রাজনীতি কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এ কলেজ মাঠ কে।

সম্প্রতি মেদিনীপুর পদযাত্রা করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার জন্যই হেলিপ্যাড করার সুবিধার্থে কলেজ মাঠকে ব্যবহার করা করে শাসক দল তৃণমূল। রাতারাতি মাঠের জমি কেটে বালি ইট বিছিয়ে গড়ে তোলা হয় অস্থায়ী হেলিপ্যাড এবং বড় বড় গর্ত বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় গোটা মাঠ। এরপর মুখ্যমন্ত্রী চলে যান কিন্তু অস্থায়ীভাবে পড়ে রয় সেই সব বাঁশ এবং অস্থায়ী হেলি প্যাডের অংশটুকু। এই পরিস্থিতিতে এখানে খেলতে আসা খেলোয়াড়রা অসুবিধায় পড়েন। এমত অবস্থায় তাদের অভাব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঠে ছুটে আসেন মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী শংকর গুছাইত। তিনি বসে মাইকিং করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং শেষে কাঁধে করে বাঁশ বয়ে সরিয়ে এর প্রতিবাদ করেন। অন্যদিকে খেলাধুলার অসুবিধা জেনে এই ক্ষুদে খেলোয়াড়রা নিজেরাই পড়ে থাকা বাঁশ কাঁধে তুলে নেন। এরপর তারা এক এক করে বাঁশ গুলি সরিয়ে খেলার অংশটুকু বার করানোর চেষ্টা করেন।

যদিও তাদের মধ্যে এই নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এখানে হাঁটতে আসা এবং যোগ ব্যায়াম করতে আসা সেই সঙ্গে খেলতে আসার ক্রীড়া অনুরাগীদের মধ্যে। মনের মধ্যে তীব্র যন্ত্রণা এবং একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এইটুকুই প্রশ্ন কেন বারবার বলা সত্ত্বেও, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ মাঠকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসন। তাদের এও অভিযোগ বিডিও অফিসের কাছে জাম বাগানে একটা অস্থায়ী হেলিপ্যাড রয়েছে সেই সঙ্গে মাঠের এক কোনে হেলিপ্যাড করা হয়ছিল তারপরে নতুন করে কেন গর্ত খুঁড়ে নতুন করে হেলিপ্যাড করা হলো?

এই নিয়ে এই খেলতে আসা খুদে খেলোয়াড়দের বক্তব্য খেলাধুলায় আমাদের প্রচন্ড অসুবিধা হচ্ছে তাই আমরা পড়ে থাকা বাঁশগুলো নিজেরাই সরিয়ে দিচ্ছি। আমরা চাই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিক রাজনৈতিক দলগুলি এবং প্রশাসন।

অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী শংকর গুছাইত বলেন,’এই মাঠে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ,হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে তারপরও এই ডাকাত রানী মমতা ব্যানার্জি সভা করার জন্য হেলিপ্যাড করা হয়েছে এখানে তার জন্য যত্রতত্র খুঁড়ের নষ্ট করা হচ্ছে এট কলেজ মাঠ কে। তাই আমরা জেলার জেলাশাসক এবং এসডিওকে সময় দিলাম ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মাঠ পরিষ্কার করুন খেলাধুলার উপযুক্ত করে তুলুন, না হলে আমরা অবস্থানে বসবো,বিক্ষোভ দেখাবো।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in