Midnapore Medical college: পেঁচানো বিরল হার্নিয়া অপারেশন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের! খুশি রোগীর পরিবার, ফিরবে বাড়ি

Share

মেদিনীপুর 24 সে ফেব্রুয়ারি:

এও এক ধরনের বিরল হার্নিয়া। যে হার্নিয়া অপারেশন করতে গিয়ে ভয় খেয়ে যান চিকিৎসকেরা।এই বিরল হার্নিয়া অপারেশনের নাম রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া উইথ অবস্ট্রাকশন। অবশেষে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এসে রোগী মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে এই অপারেশন করলেন চিকিৎসক সার্জেন ডক্টর সুদীপ্ত চ্যাটার্জী।রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে দু চার দিনের ভেতরেই বলে দাবি চিকিৎসকের। খুশি চিকিৎসক খুশি রোগীর পরিবার।

রোগের নাম ‘রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া উইথ অবস্ট্রাকশন’ এক কথায় বিরল। এই রোগের উপসর্গ পেট ব্যাথা, বমি, পেট ফেঁপে যাওয়া, পেটে লাম্প। এরকমই সমস্যা নিয়ে বেসরকারি নার্সিং হোমের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছিলেন বেলদার বাসিন্দা বছর ৪৬ এর এক মহিলা। একদিকে তীব্র যন্ত্রণা অন্যদিকে অপারেশনের খরচ যোগানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের। এই অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের মুখ্য সার্জেন ডাঃ সুদীপ্ত চ্যাটার্জীর দ্বারস্থ হয় পরিবার। হাসপাতালের ডাক্তার বাবু সব দেখাশোনার পর ঠিক করেন এই অপরেশন করে রোগী কে সারিয়ে তুলবেন সেই মত সহকারী সার্জেন ডাঃ সুপ্রতিম চাকী, ডাঃ অংকন কর্মকার, ডাঃ অমর্ত্য, ডাঃ দেব শংকর
অ্যানাসথেটিস্ট, ডাঃ দেবাশিস ভড় কে নিয়ে গত ১৬ ই ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর সব ঠিক করে গত ১৮ ই ফেব্রুয়ারি বুধবার প্রায় দু’আড়াই ঘণ্টার টানা অপারেশন করেন।

এরপর অপারেশন সাকসেস হয়ে রোগী কে বেডে দেন। এখন তিনি সুস্থ। দু চারদিন পর ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরবেন তিনি। চিকিৎসকের কথায় ‘রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া’ অতি বিরল কনজেনিটাল ইন্টারনাল হার্নিয়া, যার কনফার্মড রিপোর্টেড কেস সার্জারির লিটারেচারে এ যাবৎ মাত্র চল্লিশ-পঞ্চাশের মতো। সাধারণত দেখা যায়,এই কেসে পেশেন্টের খাদ্যনালীর ম্যালরোটেশন ( অর্থাৎ , খাদ্যনালীর অঙ্গ সংস্থানগত অস্বাভাবিকতা,যা মূলত জন্মগত ) থাকে। এই কারণে খাদ্যনালী জড়িয়ে পাক খেয়ে কিছু ক্ষেত্রে ‘ওয়াল্ডেয়ার্স ফোসা’-তে হার্নিয়া হয়ে ঢুকে যায় ও আটকে যায়। ডুয়োডেনামের ডান দিক দিয়ে হার্নিয়া হয় বলে একে রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া বলে। চিকিৎসকের দাবি সঠিক সময়ে অপারেশন অত্যন্ত জরুরি, কারণ, এ ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা নেই। সময় মতো অপারেশন না করালে খাদ্যনালীতে পচন সৃষ্টি হয় ও রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারে।

এই বিষয়ে চিকিৎসক সার্জেন ডাঃ সুদীপ্ত চ্যাটার্জী বলেন,”‘রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া’ অতি বিরল কনজেনিটাল ইন্টারনাল হার্নিয়া।সচরাচর এই হার্নিয়া দেখা যায় না মানুষের মধ্যে।এই কেসে এই পেশেন্টের খাদ্যনালীর ম্যালরোটেশন অর্থাৎ খাদ্যনালীর অঙ্গ সংস্থানগত অস্বাভাবিকতা,যা মূলত জন্মগত থাকে। এর ফলে খাদ্যনালী জড়িয়ে পাক খেয়ে কিছু ক্ষেত্রে ‘ওয়াল্ডেয়ার্স ফোসা’-তে হার্নিয়া হয়ে ঢুকে যায় ও আটকে যায়।তিনি বলেন,ডুয়োডেনামের ডান দিক দিয়ে হার্নিয়া হয় বলে একে রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া বলে।যার কনফার্মড রিপোর্টেড কেস সার্জারির লিটারেচারে এ যাবৎ মাত্র চল্লিশ-পঞ্চাশের মতো। এই অপারেশনের পর রোগিনী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। খাদ্যগ্রহণ ও হাঁটাচলা স্বাভাবিক ভাবেই করছেন। দু তিন দিন পরে ওঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা।

এ বিষয়ে রোগীর এক সদস্য বিদ্যুৎ কর বলেন,”আমরা এর আগে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে এক ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে দেখিয়েছিলাম কিন্তু আর্থিক খরচ প্রচুর এবং কিছুতেই রোগী সুস্থ হচ্ছিল না। তখন আমরা ডক্টর সুদীপ্ত চ্যাটার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং উনি দায়িত্ব নিয়ে বিনে পয়সায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করে এই বিরল রোগের অপারেশন করেছেন এবং রোগী আমাদের সুস্থ রয়েছে। এই চিকিৎসক কে আমাদের তরফ থেকে অনেক ধন্যবাদ।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in