PGT Suspension: মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় PGT 7 ডাক্তারের সাসপেনশন প্রত্যাহার মুখ্যমন্ত্রীর

Share

নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:

অবশেষে দেড় মাসের মাথায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের পিজিটিদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন অর্ডার প্রত্যাহার করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।সেইসঙ্গে বৃদ্ধি করলেন বেতন। যদিও এই ঘটনায় অভিযোগ হওয়া মামলা চলবে যার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি।

অবশেষে দেড় মাসের মাথায় মেদিনীপুরের পিজিটি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন প্রত্যাহার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর যার জেরে জয় দেখছে জুনিয়ার ডাক্তাররা।মূলত মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের মাতৃমাতে গত জানুয়ারি মাসের শুরুতেই প্রসূতি মৃত্যু নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে।যেই ঘটনায় রোগী পরিবার আত্মীয়স্বজন অভিযোগ করে চিকিৎসার গাফিলতি ও স্যালাইনের বিষক্রিয়া।যদিও সেই ঘটনায় তড়িঘড়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটি সিআইডি টিম পাঠান।সেই সঙ্গে অভিযোগ করতে বলা হয় সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত জুনিয়র ডাক্তার,সিনিয়র ডাক্তার এবং বাকি হাউসস্টাফ সহ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

যদিও স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেই সেই ঘটনায় প্রথমে ১২ জন পরে আরও একজন পিজিটির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এফআইআর এ।এরই পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাসপেনশন অর্ডার ঝুলিয়ে দেন এই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।এরপর পর্যায়ক্রমে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে তদন্ত চালিয়ে যায় সিআইডির টিম।ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ায় কর্মবিরতিতে নেমে পড়ে জুনিয়র ডাক্তাররা।পরবর্তীকালে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিলে তারা কর্মবিরতি তুলেও নেন।অবশেষে এই দিন কলকাতার ধনধান্য স্টেডিয়াম থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জি ডাক্তারদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সাসপেনশন অর্ডারের প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন।যা নিয়ে কিছুটা উচ্ছ্বসিত এই পিজিটিরা।

উল্লেখ্য,সেই দিন পাঁচ প্রসূতির মধ্যে একজন প্রসূতির মৃত্যু হয় বাকি তিন প্রসূতি কে আশঙ্কা জনক অবস্থায় কলকাতায় রেফার করা হয়।এই প্রসূতি মৃত্যুতে অভিযুক্ত PGT র ৭ জন ডাক্তারের সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হলো,তারা আজ থেকেই যোগ দিতে পারবেন তাদের কর্মস্থলে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে পাঁচ অসুস্থ প্রসূতির মধ্যে মামনি রুইদাস নামে এক প্রসূতি মৃত্যুতেই এই গন্ডগোলের সূত্রপাত তৈরি হয়।অভিযোগ ওঠে চিকিৎসার গাফিলতি ও স্যালাইনের বিষক্রিয়া।সেই ঘটনায় ৭ জন পিজিটি সহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুপার নিয়ে মোট ১৩ জন ডাক্তারের নামে অভিযোগ জমা পড়ে,সঙ্গে সাসপেনশন অর্ডার।যদি শ্বেতা সিং নামে আরেক পিজিটির নাম পরবর্তীকালে অন্তর্ভুক্ত হয় এই FIR এ। যে ঘটনার তদন্তভার চালাচ্ছে সিআইডি।এই তালিকায় রয়েছেন বিভাগীয় প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিন,হাসপাতাল প্রাক্তন সুপার জয়ন্ত রাউত।

মাতৃমা বিভাগে ইউনিট ১ সি-র বেড ইনচার্জ দিলীপ পাল,সিনিয়র চিকিৎসক হিমাদ্রি নায়েক, আরএমও সৌমেন দাস,অ্যানাস্থেশিস্ট পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায়, পিজিটি প্রথম বর্ষের চিকিৎসক মৌমিতা মণ্ডল,পূজা সাহা, ইন্টার্ন চিকিৎসক সুশান্ত মণ্ডল,পিজিটি তৃতীয় বর্ষের চিকিৎসক জাগৃতি ঘোষ,ভাগ্যশ্রী কুন্ডু, পিজিটি প্রথম বর্ষের অ্যানাস্থেশিস্ট মণীশ কুমার ও শ্বেতা সিং(PGT)।

যদিও এই ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য সংকর সড়ঙ্গি এক বার্তায় বলেন,”মেদিনীপুর হাসপাতালের মাতৃমাতে এই প্রস্তুতি মৃত্যুতে সাসপেনশন অর্ডার দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।সেই ঘটনায় বহুদূর পর্যন্ত জল গড়িয়েছে।অবশেষে আজ ধনধান্য স্টেডিয়াম থেকেই তাদের এই সাসপেনশন অর্ডার প্রত্যাহার করলেন।এর দ্বারা এই পিজিটিরা আবার কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন আর কাজ করতে পারবেন আগের মতন।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in