
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
একদিকে নিয়ম রীতি এবং ঢাক ঢোল পিটিয়ে নারী দিবস পালন আর অন্যদিকে সেই পাঠ পড়েনি মেদিনীপুরের সবজি বিক্রেতারা।আর সেই নারী দিবসের ছবি মেদিনীপুরে।মিনু,বহ্নি ও মালা সুখী দের বক্তব্য এই ‘নারী দিবস’সেটা আবার কি?

একদিকে যখন নারী দিবস ঢাক ঢোল পিটিয়ে পালন হচ্ছে গোটা দেশব্যাপী তখন অন্যদিকে রীতিমতো সবজি বিক্রি এবং শামুক ছাড়িয়েই এই দিবস পালন করল মেদিনীপুরের মিনু,বহ্নি,সুখী ও মালারা।মূলত আজ বিশ্ব নারী দিবস।নারীদের সম্মান জানিয়ে আজকে গোটা দেশজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে।একদিকে সেলিব্রেটি অন্যদিকে অভিনেত্রী এরই সঙ্গে বিভিন্ন সংঘ সংগঠন পালন করছে এই দিবস।কিন্তু এই সব থেকে দূরে মেদিনীপুরের আরেক ছবি ফুটে উঠল এদিন মেদিনীপুর শহরের মির্জা বাজার এলাকায়।এই এলাকায় বাজার বসে আসছে দীর্ঘ ৫০ বছরের পথ ধরে।আর এই বাজারে পুরুষের পাশাপাশি দোকান দিয়ে ব্যবসা করেন মিনু মালা,বহ্নিরা।কেউ আলু পেঁয়াজ তো কেও ডাটা,লঙ্কা,লেবু।আবার কেউ কেউ শামুক ছাড়িয়েই জীবন জীবিকা নির্বাহ করে।

প্রতিদিনের মতন এই দিনও তারা ভোরবেলা থেকে চলে এসেছে বাজারে নির্দিষ্ট জায়গায় ঘিরে তারা শুরু করেছে ব্যবসা।তাদের এই নারী দিবস নিয়ে নেই কোন মাথা ব্যথা,নেই কোন উচ্চাশা।এক মনে কাজ করে যাওয়া এই মহিলারা এক বাক্যেই স্বীকার করলেন যে তারা নারী দিবস বলে কিছুই জানেন না,এই পাঠ পড়ানো হয়নি তাদের।তাই প্রতিদিনকার মতো এই দিনও বাজারে এসেছি এবং ব্যবসা করছি।আর যার ই চিত্র মেদিনীপুর জুড়ে।

এ বিষয়ে শামুক বিক্রেতা বহ্নি,মিনুরা বলে,”একসময় সংসার টানতে এই শামুক গেড়ি ব্যবসাতে আসা।সেই ভোরবেলা থেকে আমরা নিয়ে আসি এবং বসে বিক্রি করে ঘরে যায় সেই টাকাতেই চাল ডাল এনে আমাদের জীবিকা জীবন নির্বাহ হয়।ঘরে আরও লোক রয়েছে। আমাদের চাল ডাল নিয়ে গেলে তা রান্না হয় এবং খাওয়া দাওয়া হয়।নারী দিবস কি এটা তো বলতে পারব না। কখনো শুনিনি।

অন্যদিকে ডাটা আলু পিঁয়াজ বিক্রেতা সুখী মুখী,মালাদের বক্তব্য,”দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই ডাটা সবজি ব্যবসাতে আসা।এই নারী দিবস কথাটি কখন আমরা শুনিনি।আমরা যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে ব্যবসা করা এবং তার বিনিময়ে টাকা উপার্জন করে ঘরে নিয়ে যাওয়া।আমাদের কাছে নারী দিবস মানে আমাদের এই কাজ করা এবং খাওয়া দাওয়া সংসারের ছেলে পুলেদের মুখে দুটো অন্ন তুলে দেওয়া।