
মেদিনীপুর 22 সে মার্চ :
ভোটের মুখে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ালো মুসলিম সমাজ। এবার প্রার্থী নিয়েই গন্ডগোল শাসক দলের সঙ্গে। সাংবাদিক বৈঠক করে মেদিনীপুর এবং খড়গপুরে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা। মুসলিম কমিটির বক্তব্য শাসক দলের থেকে আমরা বঞ্চিত, অবহেলিত তাই আমাদের দাবি পূরণে মুসলিম প্রার্থী প্রয়োজন। যদিও এ বিষয়ে পাল্টা যুক্তি শাসক দলের। তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরার দাবি,’গণতান্ত্রিক দেশে প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবারই আছে।’

ইতিমধ্যে গোটা রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়েছে, চলছে শাসক ও বিরোধী দলের প্রার্থীদের ভোট প্রচার। জনসংযোগের পাশাপাশি কর্মী সম্মেলন এবং ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছেন তৃণমূল,বিজেপি,সিপিএম,নির্দলরা। তবে এই ভোটের মুখেই এবার তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব ঘোষণা করল টাউন মুসলিম কমিটি। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে মুসলিম কমিটির নেতৃত্ব জানায়,তারা খড়গপুর গ্রামীণ এবং সেই সঙ্গে মেদিনীপুরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রার্থী করে ভোটের লড়াই লড়বেন এই ২০২৬ এর বিধানসভায়।যা নিয়ে ফের নতুন করে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে জেলা শহর জুড়ে। কমিটির কর্তাদের এও দাবি,’জেলা শহরে তাদের বিভিন্ন অভাব অভিযোগ শোনেন না এলাকার বিধায়ক তথা শাসক দলের সভাপতি। দেখা করতে গেলে তাদের দেখা করতেও দেওয়া হয় না। কেবলমাত্র ভোট এলে লুঙ্গি, শাড়ী বিলি করে ভোটের বৈতরণী পার হন।

পাশাপাশি তাদের এও অভিযোগ ২০০- ৩০০ বছরের পুরানো কবরস্থান, মাজার, মাদ্রাসাগুলো রাতারাতি দখল হয়ে যাচ্ছে সেদিকেও টনক নড়ছে না শাসক দলের নেতা নেতৃত্বের। যা মুসলিম সমাজের মধ্যে যথেষ্ট বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে। তাই আর তারা পিছিয়ে থাকবে না বরং সমাজে মুসলিম প্রার্থী পাঠিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবে। এইদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন শহর মুসলিম কমিটির সম্পাদক সরফরাজ খান সহ সহ-সম্পাদক তানভীর সহিদ,সেক ফিরোজ, সেক দিলসাদ, তাসলিম উদ্দিন, সৈয়দ রাজু আলম,রহিম বক্স,সেক গুরা প্রমূখ।

এদিন টাউন মুসলিম কমিটির সম্পাদক সরফরাজ খান বলেন,” এতদিন পর্যন্ত শাসক দলকে ভোট দিয়ে এসেছি আমরা, আমাদের সমস্ত কমিউনিটি শাসক দলের সঙ্গেই ছিল কিন্তু তার বদলে কিছুই পাইনি আমরা। এলাকার তৃণমূল প্রার্থী তথা জেলা সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি ব্যস্ত আছি বলে দেখা করার সুযোগই দেন না। তাছাড়া মেদিনীপুর এবং মুসলিম অধ্যুষিত খড়গপুরে কোনদিনই তাদের প্রার্থী করা হয় না যা যথেষ্ট অবহেলার শিকার হয়েছি আমরা। তাই আমরা এই খড়গপুর গ্রামীণ এবং মেদিনীপুর থেকে নিজেদের মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করাবো, তাকে জিতাবো এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া পূরণ করব। পাশাপাশি তিনি এ অভিযোগ করেন এখানকার জেলা সভাপতি তিনি দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত,তলায় তলায় বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে ভোট করিয়ে চলেছেন। আমাদের পুরনো কবরস্থান,মাজার রাতের অন্ধকারে দখল হয়ে যাচ্ছে,দুষ্কৃতীরা নানা রকম দুষ্কর্ম করে বেড়াচ্ছে এ বিষয়ে কোন হেলদোল নেই শাসকদলের। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

যদিও এ বিষয়ে পাল্টা যুক্তি দেখিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা এলাকার তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা। তিনি বলেন ভারত গণতান্ত্রিক দেশ,এখানে সংবিধানই শেষ কথা। আর এই সংবিধান অনুযায়ী সবারই ভোটে লড়াই করার অধিকার রয়েছে। এ বিষয়ে আমার বা আমার দলের কোন মন্তব্য নেই।