
মেদিনীপুর 22 সে জানুয়ারি:
পুরাকালে গাছপালাকে মানুষ পুজো করত,পুজো করতো পাথর শিলাকে।আস্তে আস্তে রূপ পেয়েছে ভগবানের,আস্তে আস্তে রূপ পেয়েছে মা সরস্বতীর।তাই মেদিনীপুর শহরের পাটনা বাজার স্টুডেন্ট ক্লাবের এবারের নিরাকার থিম বিমূর্ত। ৫৮ তম বর্ষে ১০ লক্ষ টাকা খরচা করে এই থিম গড়ছেন ক্লাব উদ্যোক্তারা এবং শিল্পী।

রাত ফুরোলেই সরস্বতী পুজো আর এই সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যের সঙ্গে জঙ্গলমহল অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুরে।মেদিনীপুরের এবারের নতুন করে বেস্ট থিমের প্যান্ডেল হচ্ছে কয়েকটি জায়গায় যার মধ্যে এক উল্লেখযোগ্য হল পাটনা বাজার স্টুডেন্ট ক্লাবের সরস্বতী পুজো।এই পুজো এবারে ৫৮ তম বর্ষে পদার্পণ করল।প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচা করে এবারে থিম করা হচ্ছে বিমুর্ত। উদ্যোক্তাদের মতে ভগবান কখনো একটি মূর্তিতে নেই,পূর্বাপুরুষ ধরে মানুষ বিভিন্ন শিলালিপি,গাছপালা পাথরকে পুজো করে আসছে।আর সেই পুজো থেকেই মিলেছে ভগবানের দেখা ও শান্তি। উল্লেখ করে এও বলা হয়েছে এক সময় নারায়ণ শীলাকে পূজা করা হতো নারায়ণ দেবতা হিসেবে অন্যদিকে শিবলিঙ্গ কে ভগবান শিব হিসেবে সেইসঙ্গে বিভিন্ন গাছের নিচে পড়ে থাকা পাথরকে গাছ শীতলা এবং মা শীতলা হিসেবে পুজো করা হয়।

তাই ভগবানের কোন নির্দিষ্ট কোনরূপ হতে পারে না। সেইসঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন রূপ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে মা সরস্বতী সেই রূপকেও তুলে ধরা হয়েছে এই মন্ডপে।এখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে কাঠের গুঁড়িকে পুজো করা হতো একসময় এরই সঙ্গে বিভিন্ন ঠাকুর দেবতার রূপকে তুলে ধরা হয়েছে।অবশেষে প্রায় ১৬ ফুটের প্রতিমা রাখা হয়েছে যেখান থেকেই মিলবে ভক্তদের সরস্বতী ঠাকুর দেখার প্রাপ্তি। সব মিলিয়ে পাটনা বাজার স্টুডেন্ট ক্লাবের এই থিম দেখতে, ইতিমধ্যেই ভিড় জমাচ্ছে ভক্তরা।

যদিও এই নিয়ে শিল্পী সোমনাথ তামলি বলেন, “আমাদের মাইথোলজি অনুযায়ী আমরা নারায়ণ শিলা কে যেমন পুজো করি তেমনি আবার গাছে নিচে থাকা পাথরকে শিব শীতলা হিসেবে পূজা করে থাকি। আমরা আবার শিবলিঙ্গ কে ভগবান শিব বলেও পুজো করে থাকে। তাই আমাদের ভগবানের আকার বিমূর্ত, নিরাকার কোন আকার নেই। তাকে আমরা যেই আকারে ভেবেই পুজো করি না কেন তাতেই ভগবান সন্তুষ্ট হন।আর তাই আমরা বিভিন্ন আকার সম্বলিত বিশেষ করে গাছের গোড়া, গাছের ছাল,বিভিন্ন চিত্র অবশেষে মা সরস্বতীর প্রতিমা। এইভাবেই আমরা আমাদের থিম তুলে ধরেছি উদ্দেশ্য একটাই ভগবানকে যেই আকারেই পুজো করো না কেন ভগবান সন্তুষ্ট হন।

অন্যদিকে এই বিষয়ে ক্লাব উদ্যোক্তা লক্ষীকান্ত দাস বলেন,”দীর্ঘ সাতান্ন বছর ধরে আমরা বিভিন্ন থিমের প্রতিমা মণ্ডপ করেছি। আর তাতে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। এবারও তাই আঠান্ন তম বর্ষে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচা করে আমাদের থিম বিমূর্ত।যেই থিমের উদ্দেশ্যই হল ভগবানের বিভিন্ন আকার,তাকে যেই আকার ভেবে পুজো কারো না কেন ভগবানের দেখা মেলে।