
নিজস্ব প্রতিনিধি,গড়শালবনি:
খাবারের সন্ধানে রান্না ঘরের দরজা ভেঙে আবাসিক হোস্টেলের ভিতরে ঢুকে পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতি।আর সেই সময় বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুটি শাবক সহ আরো দুটি পূর্ণবয়স্ক হাতি।রান্না ঘরের পাশে থাকা স্টোর রুমে মুড়ির বস্তা টেনে বাইরে বার করে দেয় ভিতরে ঢুকে পড়া হাতিটি। স্টোর রুমে থাকা কয়েক বস্তা মুড়ি খাওয়ার পর অবশ্য হাতির দলটি জঙ্গলে ফিরে যায়।

মূলত শনিবার ভোরে ঝাড়গ্রাম থানার গড় শালবনির বিকাশ ভারতী শিশু বিকাশ আবাসিক কেন্দ্রের ঘটনা।জানা গিয়েছে বেশ কয়েকদিন ধরে ঝাড়গ্রাম ও লোধাশুলি রেঞ্জের শালবনি,গড় শালবনি,কৈয়মা ও জিতুশোল সংলগ্ন এলাকায় দলছুট দাঁতাল হাতি রামলাল সহ বেশ কয়েকটি হাতি রয়েছে। মাঝেমধ্যে খাবারের সন্ধানে রাত হলেই হানা দিচ্ছে জঙ্গল সংলগ্ন গ্রাম গুলিতে।এদিন ভোররাতে দুটি শাবক সহ মোট পাঁচটি হাতি বিকাশ ভারতী শিশু বিকাশ আবাসিক কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে।দুঃস্থ ও অসহায় শিশুদের হোস্টেলে রেখে পঠন-পাঠন করানো হয় বিকাশ ভারতী শিশু বিকাশ আবাসিক কেন্দ্রে।শিশুদের থাকার হোস্টেলের অন্য পাশে রয়েছে রান্নাঘর এবং স্টোর রুম। হাতিগুলি আবাসিক কেন্দ্রে ঢুকে প্রথমে সবজির বাগান খেয়ে তছনছ করে দেয়।ভেঙে ফেলে পাঁচিল এবং রান্নাঘর সংলগ্ন দেওয়াল।তারপর রান্নাঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতি।সেই সময় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে অন্য হাতি গুলি। সকালে বাচ্চাদের টিফিনের জন্য রাখা ছিল কয়েক বস্তা মুড়ি।মুড়ি খেয়ে রান্নাঘরে তান্ডব চালানোর পর হাতিগুলি জঙ্গলে ফিরে যায়।

বিকাশ ভারতী শিশু বিকাশ আবাসিক কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’প্রতিনিয়ত খাবারের সন্ধানে রাত হলেই হাতি চলে আসছে। আজ রান্না ঘরের দরজা ভেঙে হাতি ঢুকে পড়ে। স্টোর রুমে মুড়ি রাখা ছিল।সমস্ত মুড়ি খাওয়ার পাশাপাশি তছনছ করে দেয়।আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। হোস্টেলের ঘরে ঢুকে পড়লে আমাদের আর প্রাণ রক্ষা হবে না। বনদপ্তরের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ কিছু একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক হাতির সমস্যা সমাধানে’।