
সাঁকরাইল 23 সে ফেব্রুয়ারী:
আর পাঁচটা দিনের মতোই বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোচিংয়ে পড়াশোনার জন্য গিয়েছিল ১৩ বছরের সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া। কোচিংয়ে অঙ্ক ক্লাসের পর বাইরে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। শিক্ষকরা ছাত্রের সন্ধানে কোচিংয়ের পিছনে বাগানে গিয়ে ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় । ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে সোমবার সকালে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল থানার পাথরা এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম সোহম মাহাতো । বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জামশোলা এলাকার চুনাপাড়ায় গ্রামে। সাঁকরাইলের পাথরায় মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো সে। পাথরা জয়চন্ডী এস সি হাইস্কুলের ছাত্র সে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাথরায় জ্ঞান মন্দির কোচিং সেন্টার নামের একটি কোচিং সেন্টারে পড়তে যায় । প্রথমে অঙ্ক ক্লাস হওয়ার পর শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে কোচিংয়ের বাইরে বাথরুম যায়। দীর্ঘক্ষণ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ফিরে না আসায় কোচিংয়ের পিছনের জঙ্গলে তার সন্ধানে শিক্ষকরা গিয়ে দেখে গামছায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে ছাত্রটি। বিষয়টি সাঁকরাইল থানায় জানানো হলে পুলিশ উদ্ধার করে ভাঙাগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। মৃতের কাকু নৃপেণ মাহাতো ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে বলেন,’কোচিং সেন্টারটির কাছেই আমার দোকান রয়েছে ।

খবর পেয়েই ছুটে যায়। একটা বা দুটো ক্লাস করেই একজন সহপাঠীর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিল। সেই ছাত্রটি ক্লাসে ফিরে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। যে গামছা গলায় ছিল সেটাও বাড়ির নয়। কোচিং সেন্টারেই কিছু হয়ে থাকতে পারে। থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ দাদু মিহির মাহাতো বলেন , ‘ এই ছোট্ট ছেলে গলায় দড়ি দিতে পারে না। আমরা চাইছি পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দেখুক’।

যদিও এই বিষয়ে জ্ঞান মন্দির কোচিং সেন্টারের প্রধান চঞ্চল মাহাতো বলেন, ‘কোচিং সেন্টার পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৬০০ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। অঙ্কের ক্লাস করার পর বাথরুম যাওয়ার কথা বলে বাইরে যায়। দীর্ঘক্ষণ না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পিছনের বাগানে গিয়ে ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। এই ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত’।সাঁকরাইল থানার পুলিশ জানিয়েছেন , দেহ ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই আত্মহত্যা না খুন তা স্পষ্ট হবে। ইতিমধ্যে ঘটনা তদন্ত শুরু হয়েছে।