
নিজস্ব প্রতিনিধি,পূর্ব বর্ধমান:
রাজ্যের হাতে কেই-ই সুরক্ষিত নন,এবার বিরোধীদের পাশাপাশি খোদ নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই আক্রান্ত হলেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।এইদিন পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে যাওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা।সাথে সাথে ভাঙচুর চলল মন্ত্রীর গাড়িতেও। মন্ত্রীর অভিযোগ মত আহত হয়েছে ৬ জন।

মূলত যাওয়ার পথেই আক্রান্ত হলেন মন্ত্রী এবং অভিযোগ করলেন খোদ দলের বিরুদ্ধে।এই ঘটনায় মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী নিজের মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমদ হোসেন শেখের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন।মূলত সিদ্দিকুল্লা মন্তেশ্বরের বিধায়ক।একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভার আগে বৃহস্পতিবার সেখানে যান রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী। তাঁর কনভয় মালডাঙা এবং মন্তেশ্বর বাজার এলাকায় পৌঁছোতেই হাতে ঝাঁটা, কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েক জন। তোলা হয় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান।মন্ত্রীকে ‘চিটিংবাজ ধাপ্পাবাজ’ বলেও আক্রমণ করতে থাকেন বিক্ষোভ কারীরা।সেই সময়ে ইট-রড-লাঠি দিয়ে হামলা হয় মন্ত্রীর গাড়িতে।কনভয়ে থাকা মোট পাঁচটি গাড়িতে হামলা চলেছে।তাঁর অভিযোগ,আহমদের মদতে তাঁর অনুগামীরা হামলা চালিয়েছেন তার গাড়িতে।তাঁকে খুনের চেষ্টার পাশাপাশি গাড়িতে থাকা ছ’জন জখম হয়েছেন।তাঁরও হাতে চোট লেগেছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী।তাঁকে আদতে খুনের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সিদ্দিকুল্লা।এ বিষয়ে আহমেদের কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ,সিদ্দিকুল্লা গত চার বছর ধরে এলাকার খোঁজখবর রাখেননি।

শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিশেষ করে মালডাঙা ও আশপাশের এলাকার রাস্তাঘাট,পানীয় জল,স্বাস্থ্য পরিষেবায় অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা।এক বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘একুশে জুলাইয়ের সভা আয়োজনের আগে এলাকার সমস্যাগুলি মেটানো উচিত ছিল।কিন্তু তা না-করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের জন্য এলাকায় আসা মেনে নেওয়া যায় না।’’মন্ত্রীর অবশ্য দাবি, ‘‘বিক্ষোভকারীরা কেউ স্থানীয় নন।ওঁদের ভাড়া করে আনা হয়েছে।’’

যদিও এদিন এই গোটা ঘটনায় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী।