
হিজলি 26 সে আগস্ট:
এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের হাতেই তৈরি করে ‘শিখন শিক্ষণ উপকরণ সরকার পোষিত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে পড়ুয়াদের নিজেদের ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল,অডিটোরিয়াম সহ শিশুদের জন্য আছে স্মার্ট ক্লাসরুমও।তাছাড়া কয়েকমাস আগে সমগ্র শিক্ষা মিশনের সেই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানও অধিকার করে।সেই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা তনুশ্রী দাস পেতে চলেছেন জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার।

অতি সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাল্যবিবাহ’ প্রতিরোধের বার্তাবহ শর্ট ফিল্ম প্রতিযোগিতাতেও খড়্গপুর গ্রামীণের হিজলি সংলগ্ন এই কুচলাচাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা প্রথম স্থান অধিকার করেছে।এবার জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে ভূষিত হতে চলেছেন রাজ্যের দুজন যার মধ্যে জেলার রয়েছে তনুশ্রী দাস। যা নিয়ে উৎসাহ জেলায়। প্রসঙ্গত,কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে চলতি বছর শিক্ষক দিবসে সারা দেশের ৪৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’।গত সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,এই ৪৫ জনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দু’জন শিক্ষক আছেন।তাঁদের মধ্যেই একজন খড়্গপুর গ্রামীণের হিজলি সংলগ্ন কুচলাচাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা তনুশ্রী দাস।অপরজন কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এর শিক্ষিকা মধুরিমা আচার্য।

স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন থেকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদও।সোমবার দুপুর নাগাদ এই খবর পৌঁছনোর পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন শিক্ষিকা তনুশ্রী দাস। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা তনুশ্রী দাস-ই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’-এ ভূষিত হতে চলেছেন।এর আগে (২০২০ সালে), রাজ্য সরকারের ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। যদিও অর্থমূল্যের ২৫ হাজার টাকাই নিজের স্কুলের উন্নয়নকল্পে তুলে দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা তনুশ্রী দাস। অগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তাঁর হাতে রৌপ্য পদক এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।এই বিষয়ে শিক্ষিকা তনুশ্রী দাস বলেন “মেডেলখানি আমার হলেও, এই অর্থে আমার একার কোনও অধিকার নেই।এই অর্থ যতখানি আমার, ঠিক ততটাই আমার সহকর্মী সহ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের।

তাই স্কুলের জন্যই এই ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করব।” পাশাপাশি তিনি বলেন আমার জীবনের সবথেকে বড় প্রাপ্তি অভিভাবকদের আস্থা অর্জন। আর অবশ্যই সহকর্মীদের সহযোগিতা, প্রাক্তনীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং বর্তমান পড়ুয়াদের অগ্রগতি। এসব নিয়েই আগামীদিনও এগিয়ে যেতে চাই।”উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কুচলাচাটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছ বিদ্যালয় পুরস্কার সম্মানও পেয়েছে। ২০২৩ সালে রাজ্য সরকারের নির্মল বিদ্যালয় পুরস্কারও পায় এই স্কুল। ১৯৯৯ সাল থেকে শিক্ষকতা করলেও ২০১৬ সালে কুচলাচাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তনুশ্রী দাস। দীর্ঘ এই শিক্ষকতা জীবনে শুধু স্কুল নয়, তিনি বদলে দিয়েছেন স্কুলের আশেপাশের পরিবেশও। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই এলাকার ছাত্রছাত্রীরা এখন স্কুলের কাঁচের আলমারিতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা লক্ষ্মীর ভাঁড়ে প্রতিদিন ১টাকা, ২টাকা, ৫টাকা করে জমায়।

সঞ্জনা, রুবিনা, সৌমি, আফরিন, মানস, সাইনাদের সেটাই ‘চিলড্রেন্স ব্যাঙ্ক’। পড়ুয়াদের মনের কথা শোনার জন্য স্কুলে আছে ‘কানে কানে বলো’ বক্স।আছে স্বাবলম্বী কক্ষ। হঠাৎ কোন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আছে শুশ্রূষা কক্ষ।