
মেদিনীপুর 22 সে জানুয়ারী:
আগে শোনা যেতো একজন অন্যের হয়ে ক্লাসে অ্যাটেনডেন্স দেওয়ার জন্য প্রক্সি দিচ্ছে।এবার তৃণমূলের আমলে শাসক দলের মধ্যেও প্রতিমাতে প্রক্সি!এরকমই ঘটনা মেদিনীপুর শহরে। তৃণমূল সভানেত্রীর পুজোতে নিজেদের প্রতিমার বদলে অন্য প্রতিমা নিয়ে এসে উদ্বোধন যা নিয়ে কটাক্ষের মুখে তৃণমূল সভানেত্রী। কটাক্ষ বিজেপির।

রাত ফুরালে সরস্বতী পুজো কিন্তু তার আগেই সরাসরি পুজোকে কেন্দ্র করে ফেল নতুন করে চাঞ্চল্য শাসকদলের মধ্যে।ঘটনা সূত্রে জানা যায় মেদিনীপুর শহরের সার্কিট হাউসের বিপরীতে তৃণমূল মহিলা নেত্রী সঙ্গীতা ভট্টাচার্যের একটি সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছিল।গত কয়েক বছর ধরে এই সরস্বতী পুজো করে আসছেন এই মহিলা নেত্রী ও তার সহকর্মীরা। গতকাল বুধবার মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়ার হাত ধরে ঘটা করে উদ্বোধন হয় সেই সরস্বতী প্রতিমার। এরপরই সে প্রতিমা চলে যায় তার নির্দিষ্ট জায়গায় তার ফলে ফের মন্ডপ প্রতিমাহীন হয়ে পড়ে সভানেত্রীর।এই ছবি চাউর হতেই অনেকে প্রশ্ন তোলেন,অনেকে কটাক্ষ করেন।খোদ শাসকদলের ভেতর থেকেই প্রশ্ন ওঠে এরকম কেন। অন্যদিকে এ বিষয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি।বিজেপির বক্তব্য এই রাজ্যে সবই সম্ভব।কয়লা চুরি থেকে বালি চুরি,পাথর থেকে ফাইল চুরি।কোনটাই অসম্ভব নয় এরাজ্যে।

পাশাপাশি তাদের এও অভিযোগ যে রাজ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুলভাল সরস্বতী মন্ত্র পড়েন সেখানে এই মূর্তি চুরি নতুন কোন ঘটনা নয়।যদিও এই ঘটনার সাফাই দিতে পথে নেমে পড়েছে তৃণমূল।তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এই আমাদের প্রতিমা দুটোই।যেহেতু উদ্বোধনের দিন আমাদের প্রতিমা বড় হওয়ার তা তৈরি হয়নি,তাই তড়িঘড়ি সাংসদের হাত ধরে উদ্বোধন করানোর জন্যই আমাদেরই আরেকটি প্রতিমা নিয়ে আসা হয় মন্ডপে।এটা দোষের কিছু না।যদিও পুজোর পরেই আমরা প্রতিমা আবার আমরা ফেরত দিয়ে দিই।সেই প্রতিমা চলে যায় দু নম্বর ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট মন্ডপে।যদিও এই ঘটনায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য শহর জুড়ে।

এ বিষয়ে পূজা উদ্যোক্তা তথা তৃণমূলের মহিলা সহ-সভাপতি সঙ্গীতা ভট্টাচার্য বলেন,”গত কয়েক বছর ধরে আমাদের এই মহিলা পরিচালিত পুজো হয়ে আসছে এই সংশ্লিষ্ট জায়গায়।গতকাল ছিল সাংসদ দ্বারা উদ্বোধনের কথা।কিন্তু আমাদের প্রতিমা বড় হওয়ায় এবং তৈরি না হওয়ায় আমার আমরা আমাদেরই আরেকটি প্রতিমা নিয়ে এসে উদ্বোধন করায় সাংসদ কে দিয়ে।এটা আমরা দোষের কিছু দেখছি না।কারণ হিসেবে আমরা এটাই বলব আমাদের দুটো প্রতিমা আমাদের দলের।আসলে আমাদের দলের দুটো পুজোয় হচ্ছে শুধু জায়গা ভেদে।যারা সমালোচনা করছে তাদের কাজই হল সমালোচনা করা।তারা বছরে একটা পুজো পর্যন্ত করতে পারে না।তবে শেষ পর্যন্ত তিনি এটাও মেনে নেন যে উদ্বোধনের পর এই প্রতিমাটা নামানো উচিত ছিল না যতক্ষন না এই মণ্ডপের আসল প্রতিমাটা নিয়ে আসা হয়।যেটা করা উচিত হয়নি।”

অন্যদিকে যেখান থেকে প্রতিমাটা আনা হয়েছিল সেই দু নং ওয়ার্ডের পুজোর উদ্যোক্তা শাসকদলের নেতা সুদীপ দাস বলেন,”যেহেতু সাংসদ উদ্বোধন করবেন বলে ছিলেন সেহেতু আমাদের প্রতিমাটা ছোট হওয়ায় তড়িঘড়ি সেটা নিয়ে গিয়ে উদ্বোধন করা হয়।এরপর সাংসদ চলে গেলে পুনরায় আমাদের প্রতিমা আমাদের মণ্ডপে চলে আসে। এটা দোষের কিছু নয়।এটা স্বাভাবিক ব্যাপার।অনেক মানুষ এই নিয়ে অনেক রকম ভুল ভ্রান্তি খবর ছড়াচ্ছেন।”

যদিও এ নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।বিজেপি নেতা সংকর গুছাইত বলেন,”এই রাজ্যে সবই সম্ভব।ফাইল চুরি থেকে কয়লা চুরি,টাকা চুরি থেকে প্রতিমা চুরি সবই পারে এরা।পাশাপাশি তিনি ও বলেন যে রাজ্যে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো সরস্বতী ভুল মন্ত্র উচ্চারণ করেন সেখানে এর থেকে আর বেশি কি পাওয়ার আছে।আমরা এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা করছি।”