
মেদিনীপুর 5 ই এপ্রিল :
১৯৯৩ সালে রাজনীতিতে প্রথম হাতে খড়ি কলেজ জীবনে।এরপর তিনি দীর্ঘদিন পালন করেছেন তৃণমূলের ম্যানেজারের দায়িত্ব। কখনো মৃগেন মাইতি কখনো বা সন্ধ্যা রায়,দিনেন রায় আবার কখনো বা তিনি জুন মালিয়ার হয়েও কাজ করেছেন। প্রতিটা ভোটের প্রচারে থেকে কর্মীদের উজ্জীবিত করে ভোট ক্যাম্পেনিং এবং দেওয়াল লিখন এর মধ্য দিয়ে তাদের ভোট উতরে দিয়েছেন। তার দৌলতে কেউ কেউ বিধায়ক হয়েছেন কেউ সাংসদ আবার কেউ কেউ মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন তৃণমূলে।খুব তাড়াতাড়ি প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন অভিষেকের। পদ পান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির।

২০২৪ সালে উপনির্বাচনে তার কাজে দল খুশি হয়ে টিকিট দেন মেদিনীপুর বিধানসভার। ভরসা যোগ্য একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যজুড়ে। আর তাই সেই বিশ্বাস যোগ্যতা কে সামনে রেখেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপির শুভজিৎ রায় কে প্রায় ৩৪ হাজার ভোটে পরাজিত করে তিনি জয়ী হন মেদিনীপুর বিধানসভা থেকে। দেড় বছর মেদিনীপুর বিধানসভা সামলেছেন। এই দেড় বছরে কয়েক কোটি টাকা খরচা করে রাস্তাঘাট, গ্রামীণ আলো,খেলার সরঞ্জাম বিতরণ,স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন সেইসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। শুধু তাই নয় রাতে ভিতে লোকে বিপদে পড়লে এক ডাকে হাজির হন সদা হাস্যমুখে। হাসপাতালে কারো রোগী ভর্তি থাকলে তিনি তা খোঁজখবর চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বেড ও পাইয়ে দেন। প্রয়োজনে কলকাতায় রেফার পাঠানো রোগীর সমস্ত সহযোগিতার দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন একাধিকবার।

এবারও তাই দল ভরসা করে তাকে টিকিট দিয়েছে এবং পিঠ চাপড়ে আশ্বাস দিয়েছেন নেত্রী ও তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমতো প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এই সুজয় হাজরা। একটানা ওয়ার্ড ভিত্তিক, গ্রাম্য এলাকা ভিত্তিক,সেই সঙ্গে এলাকায় এলাকায় পাড়ায় পাড়ায় কর্মীসভা, পাড়ার আলোচনা সমস্যা সমাধান মিছিল জনসংযোগ কোন কিছুতেই বাদ রাখছেন না তিনি।এদিন আমাদের।মুখোমুখি হয়েছিলেন সুজয় বাবু। সোজা প্রশ্নের উত্তর দিলেন কিছুটা সোজা সাপটা ভাবেই।
১)প্রশ্ন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আপনারা কতটা প্রস্তুত ? প্রচারের দিক গুলো কি কি?
উত্তর : মেদিনীপুরের শহর ও গ্রাম এলাকার মিলিয়ে প্রায় ৩০৪ টি বুথ রয়েছে। শহরের মূল সমস্যায় হলো যানজট যা সমাধান হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এর সঙ্গে রয়েছে নদী ভাঙ্গন রোধ করা এবং একটি অডিটোরিয়াম তৈরি করা। সেইসঙ্গে মেদিনীপুর হাসপাতালে নিউরোর পার্মানেন্ট সেন্টার এবং ট্রমা কেয়ার তৈরি করা যায় সেটাও প্রচারে আনছি।

২) প্রশ্ন: SIR হওয়ার ফলে ভোটের উপর কেমন প্রভাব পড়েছে?
উত্তর : SIR এর নাম করে বিজেপি গোটা বিধানসভার মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে এবং পাপ করেছে তা ফল তাকে ভোগ করতে হবে। বিশেষ করে এই লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি যা মানুষকে হয়রানি ছাড়া কিছুই নয়। যদিও আমাদের কর্মী-সমর্থক এবং নেতা নেত্রী সবাই মানুষের পাশে থেকে তাদের আইনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
৩) প্রশ্ন: রাজনৈতিক প্রচার ছেড়ে প্রার্থীরা রান্না করছে,আলু বিক্রি করছে,ফুটবল খেলছে,মাছ নিয়ে খেলছে কি চোখে দেখছেন?
উত্তর : আজকের রাজনীতিতে ক্যাম্পেনিং এর অনেক রকম পদ্ধতি রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছে জনসংযোগের প্রধান মাধ্যম এসব হতে পারে তাই সেসব করে বেড়াচ্ছে। এই নিয়ে কাউকে কোন দোষারোপ করব না।

৪) প্রশ্ন: গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং গরহাজির নেতাদের নিয়ে কি ভাবনা চিন্তা?
উত্তর : আমাদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে কিছু নেই ।আমাদের সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।গতকাল মনোনয়ন দিতে গিয়েও সবাই একসঙ্গে কাজ করেছিল। যার জন্য মনোনয়নে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে উৎসাহিত তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতিতে। এছাড়া খড়্গপুর ডিভিশনে প্রায় পাঁচটি বিধানসভা রয়েছে যেগুলো প্রচার পর্বর ক্ষেত্রে বিভিন্ন নেতা বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। যুব সভাপতি নির্মাল্য চক্রবর্তী ওখানে গিয়েছিলেন সেই মনোনয়নে এবং সন্ধ্যেবেলায় এসে আমরা আবার মিটিং করেছি একসঙ্গে,আমাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমাদের প্রধান শত্রু বিজেপি যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।
৫) প্রশ্ন: উপ নির্বাচনে প্রায় ৩৪ হাজারের উপর লিড ছিল এবারের লিড কত?
উত্তর : দীর্ঘদিন রাজনীতিতে থাকার সুবাদে এই বিধানসভার অলিগলি,পাড়া মহল্লা সবাই আমার হাতে চেনা। যেহেতু চিরদিন আমি ভোট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি। তার থেকে বলতে পারি এবারে ৪০ হাজারের উপর লিড হবে।

৬) প্রশ্ন:জিতে আসার পর প্রথম কাজ কি ?
উত্তর : দেড় বছর নয় আমি ১৫ মাস হাতে পেয়েছিলাম এবং তার জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা করে ডেভলপমেন্ট কাজ করেছি। যার মধ্যে বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির সংস্কার করা,নদী ভাঙন রোধ করার ক্ষেত্রে টাকা খরচা করা, বিভিন্ন স্কুল রক্ষণাবেক্ষণে টাকা খরচা করা, খেলার সাজ সরঞ্জাম বিতরণ, বিভিন্ন লাইট লাগানো সহ একাধিক কাজ। এবারে কাজ হবে শহরের যানজটমুক্ত, শহর বাসীর ড্রিংকিং ওয়াটার পৌঁছে দেওয়া সেই সঙ্গে ছেড়ে আসা নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৭) প্রশ্ন: প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে কি ধারণা?
উত্তর : রাজনীতির ময়দানে প্রতিপক্ষকে বলবো রাজনীতির লড়াই করুন। আপনি ১২ বছরে কি করেছেন আর আমরা কি করেছি তা মানুষকে বলি , মানুষ যাকে ভোট দেবে সেটাই আমরা মেনে নেব।