
মেদিনীপুর ১২ ই মার্চ :
বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে জেলা জুড়ে ABECA এর বিক্ষোভ। পরে Regional Manager এর নিকট বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিক্ষোভ ডেপুটেশন শহরে বিক্ষোভ মিছিল অবশেষে DM গেটে প্রতিকি অবরোধ,প্রতিলিপিতে অগ্নিসংযোগ।

আন্দোলনে ABECA ! এদিন কয়েক দফা দাবিতে তারা বিক্ষোভ দেখান শহরের বিভিন্ন জায়গায়। সংগঠনের তরফ থেকে একাধিক অভিযোগ করা হয় সেইসঙ্গে দাবি তোলা হয় জনবিরোধী কর্পোরেট পন্থী বিদ্যুৎ আইন (সংশোধনী) বিল-২০২৫ বাতিল, স্মার্টলি টাকা লুটের যন্ত্র স্মার্ট মিটার বসানোর RDSS প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল, বসিয়ে দেওয়া স্মার্ট মিটার খুলে নেওয়া, ক্ষুদ্রশিল্পে ফিক্সড চার্জের বোঝা বাতিল, লোড বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত সিকিউরিটি চার্জ সহ বিভিন্ন ধরণের বিপুল চার্জ আদায়ের প্রক্রিয়া বন্ধ করা, গ্রাহককে না জানিয়ে মিটার খুলে নেওয়া, মিথ্যা মামলা দেওয়া সহ দপ্তরের অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা, গৃহস্থের ২০০ ইউনিট পর্যন্ত এবং কৃষিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ, বাঁশের খুঁটির পরিবর্তে ইলেকট্রিক পুল দেওয়া সহ একাধিক বিষয়।

মূলত গ্রাহক স্বার্থের অন্যান্য দাবিতে ABECA পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সহস্রাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।এইদিন ঘাটাল, গড়বেতা, মোহনপুর,শালবনি সহ সমগ্র জেলার বিভিন্ন কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের গ্রাহকরা এই বিক্ষোভের সামিল হয়েছিলেন। এদিন আন্দোলনের পূর্বে মেদিনীপুর স্টেশন থেকে সংগঠনের মিছিল শহর ঘুরে DM দপ্তরের সামনে ক্ষুদিরাম মোড়ে পৌঁছে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ক্ষুদিরাম মোড়ে হয় প্রতিকী অবরোধ।বিদ্যুৎ বিল-২০২৫ এর প্রতিলিপিতে অগ্নিসংযোগ করেন ABECA পশ্চিম মেদিনীপুর (দক্ষিণ) জেলা সভাপতি পূর্ণচন্দ্র পাত্র ও উত্তর জেলার সহ সভাপতি সেখ মানোয়ার আলি। প্রায় আধঘন্টা অবরোধ চলে। এরপর বিক্ষোভ মিছিল আরএম দপ্তরে পৌঁছায়।সেখানে বিক্ষোভ দেখান সংগঠনের সদস্যরা। এরপর জমায়েত সংগঠনের সদস্যরা ফকিরকুয়াঁ সংলগ্ন রাস্তায় বসে পড়েন। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে।

বিক্ষোভ সভা থেকে গ্রাহক আন্দোলনের প্রবীণ নেতৃত্ব ABECA রাজ্য সহ-সভাপতি পশ্চিম মেদিনীপুর (উত্তর) জেলার সভাপতি মধুসূদন মান্নার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল আর এমের নিকট ডেপুটেশন দেন। নেতৃত্বের অভিযোগ ১৯ শে ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ABECA রাজ্য নেতৃত্বের কাছে যে ঘোষণা গুলি করেছিলেন তা দ্রুততার সঙ্গে এ জেলায় কার্যকর করতে হবে। মন্ত্রীর ঘোষণা মত আর কোন স্মার্ট মিটার না বসানো, বসিয়ে দেওয়া স্মার্ট মিটার গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে খুলে নেওয়া, ক্ষুদ্র শিল্পে ফিক্সড চার্জ ২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করে ক্ষুদ্র শিল্প বাঁচানো, প্রান্তিক কৃষি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ, বাঁশের খুঁটি পাল্টে কংক্রিটের পুল দেওয়া, লোড বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া বন্ধ করা এই বিষয়গুলি কার্যকর না হলে আগামী দিনে আরও তীব্র গ্রাহক প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।

এই গ্রাহক বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী সদস্য বিদ্যাভূষণ দে, জেলা সম্পাদক অশোক ঘোষ, দীপক পাত্র, সুশান্ত সাহু প্রমুখ।