Narayangarh Prathi: ‘অবিলম্বে নারায়ণগড় প্রার্থীকে পরিবর্তন করতে হবে, এই প্রার্থী আমরা মানছি না’ দাবীতে জেলা বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালালো বিজেপি কর্মীরা

Share

খড়্গপুর 21 সে মার্চ :

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি কে নিয়ে ক্ষুব্ধ বিজেপি।প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে তীব্র অসন্তোষের জেরে নিজেদের দলীয় কার্যালয়েই ভাঙচুর চালাল বিজেপির একাংশ কর্মী-সমর্থক। নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ ক্রমেই উত্তপ্ত রূপ নেয়। যদিও জেলা সভাপতির দাবি বিষয়টা তিনি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়, অন্যদিকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তবে এলাকার বিজেপি প্রাক্তন মন্ডল সভাপতির দাবি এই সব করাচ্ছে বিজেপি জেলা সভাপতি নিজে।

সূত্রের খবর, নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে রামপ্রসাদ গিরির নাম ঘোষণার পর থেকেই দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় স্তরে কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ক্ষোভই শনিবার বিস্ফোরিত হয় খড়্গপুরের কৌশলায় অবস্থিত জেলা বিজেপির সদর কার্যালয়ে। এদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে প্রথমে প্রার্থী বদলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ক্ষুব্ধ কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অফিসের চেয়ার, টেবিল ভেঙে ফেলা হয়, এমনকি কার্যালয়ের ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাও রেহাই পায়নি। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। এই বিষয়ে বিজেপি বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে নারায়ণগড়ের বর্তমান প্রার্থী রামপ্রসাদ গিরিকে বদলাতে হবে এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য মুখকে প্রার্থী করতে হবে।

অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা বিজেপির অন্দরেই চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। নির্বাচনের আগে এ ধরনের অশান্তি দলীয় সংগঠনের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

এই বিষয়ে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী প্রদীপ মন্ডল রা বলেন উনি দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। উনার প্রার্থী হওয়া আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আমাদের নারায়ণগড় এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব মন্ডলরা আহত হয়েছেন। তাই আমরা চাইছি অবিলম্বে প্রার্থী বদল করুক যদিও এই প্রার্থী বদল নিয়ে আমরা বহু জায়গায় আবেদন নিবেদন করেছি,জানিয়েছি রাজ্য কেন্দ্র স্তরে। কিন্তু কিছু না হওয়ায় আজকে বাধ্য হয়ে জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছি।যদিও এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি সুমিত কুমার মন্ডল বলেন,”পার্টি অফিসে গন্ডগোল হয়েছে তবে বিষয়টা সম্পর্কে জানি না। উনাদেরকে আমি ডেকেছি কথা বলব বলে আলোচনার পর আপনাদের বলতে পারব। যদিও ভাঙচুর নিয়ে তার বক্তব্য একটা গন্ডগোল হয়েছে জেলা দপ্তরে তাই আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাপার।

যদিও অন্যদিকে নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রমা প্রসাদ গিরি সাংবাদিকদের সামনে কিছু না বললেও এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব ইলেকশন এজেন্ট সুভাশিষ মহাপাত্র বলেন,”এই পুরো ঘটনার জন্য দায়ী জেলার জেলা সভাপতি সুমিত কুমার মন্ডল। তার ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটেছে। কারণ তার ভাই হল প্রদীপ মন্ডল তার স্ত্রীকে এলাকায় প্রার্থী করার কথা ছিল কিন্তু সেই প্রার্থী না হওয়াতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কিছু বিজেপি নেতৃত্ব কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে,যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”

অন্যদিকে এই ঘটনায় কটাক্ষ করেছে তৃণমূল তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলেন এটা বিজেপির নিজস্ব দ্বন্দ্ব এদের শাসক দল কোন ভাবে জড়িত নয়। এটাই বিজেপির কালচার। বিজেপির বিরুদ্ধে বিজেপি ই বিজেপিকে শেষ করে দেবে, এখানে তৃণমূলের দরকার নেই। এই নিয়ে আমাদের কিছুই বলার নেই। আমরা শুধু এটাই বলব একটা প্রেসিডেন্ট রাজত্বের মধ্যে দিয়ে ভোট নির্বাচন হচ্ছে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in