
চন্দ্রকোনা 6 ই এপ্রিল :
আগে রাস্তা পরে ভোট, রাস্তা নয় ভোট নয়। বেহাল রাস্তা মেরামতের দাবিতে গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়ে ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে মিছিল করে গ্রাম জুড়ে করল পোস্টারিং। যদিও এই ঘটনায় কটাক্ষ বিজেপি সিপিএমের অন্যদিকে পাল্টা যুক্তি তৃণমূলের।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র রাস্তাটি বেহাল একটু বৃষ্টি হলেই যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তাটি। কাঁচা মাটির রাস্তা কাদায় পরিণত হয়ে ওঠে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের রাঙামাটি গ্রামের। গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ এক মাত্র রাস্তার দুইধারে একাধিক বসতি নিয়ে গড়ে উঠেছে গ্রাম। এক বছরেরও বেশি সময় আগে ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে গ্রামের যাতায়াতের বেশ কিছুটা রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ হলেও বেশিরভাগ অংশই রয়ে গিয়েছে কাঁচা মাটির রাস্তা। আর এই কাঁচামাটির রাস্তা বৃষ্টি হলেই যাতায়াতের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে গ্রামবাসীদের, অনেক সময় জুতো হাতে করেই গ্রামের মানুষজনকে রাস্তায় যাতায়াত করতে হয়। এমনই বেহাল রাস্তায় যে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আসেনা বলছেন গ্রামের মানুষজন। ঘটনার কথা স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলে মিলেছে শুধু প্রতিশ্রুতি,কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ।

তাই গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে একটাই দাবি তুলছে আগে রাস্তা পরে ভোট, নাস্তা না হলে ভোট দেবে না তারা, রাস্তার দাবিতে ক্ষিপ্ত গ্রামের মানুষজন। তবে ঘটনায় শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা, বাম, বিজেপি, তৃণমূল, সমস্ত রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করতে শুরু করেছে। তবে প্রত্যেকেই বলছে তারা জয় লাভ করলেই হবে এই রাস্তা, কারণ এখন ভোটে সময় তাই রাস্তা করা যাবে না। এখন দেখার শেষমেষ কি হয়। ভোটের সময় এই আন্দোলনে কিছুটা হলেও চাপে শাসক দল তৃণমূল ।

এ বিষয়ে বিক্ষোভকারী স্থানীয়রা বলেন,”ভোটের সময় হলেই এই নেতারা দৌড়ে আসেন, আশ্বাস দেন কিন্তু ভোট ফুরোলেই আর দেখা পাওয়া যায় না।যার ফলে এই বেহাল রাস্তায় চলাফেরার করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে আহত হয় গ্রামবাসীরা। তাই আমরা দাবি করছি, নো রোড নো ভোট। অর্থাৎ রাস্তা মেরামত না হলে আমরা ভোট দেব না কাউকেই।
এলাকার বিজেপি প্রার্থী বলেন,’ দীর্ঘ ১৫ বছরের এলাকার তৃণমূল নেতা নেতৃত্বরা কোন কাজই করেনি। তাই আজও এই সমস্যা প্রকট হয়েছে। শুধু এই এলাকার নয় এমন বহু রাস্তা আছে যা তৈরি হয়নি। আমরা তাই মানুষকে বলবো বিজেপিকে ভোট দিয়ে জেতান আমরা এলে সমস্ত কাজই হবে।’

অন্যদিকে সিপিএম প্রার্থী অভিযোগ করেন ,’তৃণমূল এলাকার কোন উন্নয়ন করেনি এই ১৫ বছরে আর তাই এই বেহাল চিত্র চন্দ্রকোনা এলাকা জুড়ে। তাই মানুষের কাছে দাবী করব এবারের ক্ষমতায় বামেদের নিয়ে আসুন আর তাহলেই রাস্তা সংস্কার থেকে নতুন রাস্তা হবে এলাকায়।’
অন্যদিকে পাল্টা যুক্তি দেখেছেন তৃণমূল প্রার্থী।তিনি বলেন আমি বাংলার মানুষকে বলবো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রাখুন কারণ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার টাকা বন্ধ রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু কাজ করছেন রাস্তা ছাড়িয়েছেন। এবারে জেতার পর আশ্বাস দিলাম এই রাস্তা নতুনভাবে সংস্কার পাবে।

এই রাঙামাটি গ্রামে ক্ষমতায় রয়েছে শাসক দল তৃণমূল, তবে এই রাস্তার জন্য ভোটে শাসক দলের কোন প্রভাব পড়ে কিনা সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্নের।