
খড়গপুর 10 ই এপ্রিল :
কেউ বললেন যথেষ্ট ভিটামিন ডোজ দিয়ে গেছে আবার কেউ বললেন আমাদের মধ্যে কোন সমন্বয়ের অভাবই নেই,কারো কারো মুখে আবার দ্বন্দ্ব সেটা আবার কি! ঠিক এই ভাবেই বৈঠক সারার পর মন্তব্য করল মেদিনীপুর এবং ঘাটালের সাংগঠনিক তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত,বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর ছেড়ে খড়্গপুরের গ্রীনল্যান্ডে এক জরুরী বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের কিছুদিন আগে এই বৈঠকের উদ্দেশ্যই ছিল সবাই কে এক ছাতার তলায় এনে নিজের দ্বন্দ্ব ভুলে ২০২৬ ভোটের বিতরণী পার করা। সেই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার জেলা সভাপতি, সাংসদ, বিধায়ক, বিভিন্ন কর্মাধ্যক্ষ এবং প্রার্থীদের সেইসঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন মেদিনীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান বুধ সভাপতি এবং ওয়ার্ড সভাপতিরা। ঘাটালের ক্ষেতেও প্রার্থীরা ছাড়াও উপস্থিত হয়েছিলেন জেলা সভাপতি, বিধান সভা প্রার্থী ও ব্লক সভাপতিরা। প্রথম দফায় পৌনে দুটো থেকে তিনটে পর্যন্ত প্রায় এক’ঘণ্টা মেদিনীপুরের ক্লাস নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রায় দু’ঘণ্টা ক্লাস নেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার। যদিও এই ক্লাস শেষে যখন নেতৃত্বরা বেরিয়ে আসে তখন কেউই তার নিজেদের ভাব ভঙ্গি সঠিকভাবে প্রকাশ করেন না।

অনেকেই পুরোপুরি এড়িয়ে যান দ্বন্দ্বের কথা। অনেকেই এড়িয়ে গেছেন অভিষেকের বকাঝকারও কথা। তাই এদিন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই কেউ বলেছেন যথেষ্ট ভিটামিন ডোজ দিয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আবার কেউ কেউ বলেন আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কোন জায়গা নেই!তবে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন যে অভিষেকের মূল কথাই হল একসাথে কাজ করা এবং ভোটের বৈতরণী পার করা। তবে এই নিয়েই কৌতুহল রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই মনে করছেন এবারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫ টি বিধানসভার মধ্যে ১৩ টি সিট দখল রাখতে অনিশ্চিত তৃণমূল। অনেকেই মনে করছেন হয়তো এবারে হাতছাড়া হবে আবার নতুন করে পাঁচটা সিট। বিজেপি দুটোর জায়গায় হয়তো দখল করে নেবে সাতটা আর অন্যদিকে তৃণমূলের ভাগ্যে ১৩ টার পরিবর্তে জুটবে আটটা সিট। যা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পাশাপাশি জেলায় মিছিল আলাদা আলাদা বিধানসভা ভিত্তিক মুখ্যমন্ত্রীর সফর, অভিষেকের সফর, আভ্যন্তরীণ বৈঠক সেরে ফেলছে এই শাসক দল।

এরই পাশাপাশি মাঠে ময়দানে নামানো হয়েছে আই প্যাকের কয়েক’শ সদস্যদের। যারা দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত ফোন করে তথ্য নিচ্ছেন এই জেলার হাল হাকিকাত নিয়ে। অনেকে আবার স্টুডেন্ট এবং পলিটিক্যাল কলেজের স্টুডেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে তথ্য জোগাড় করছেন,এখন অপেক্ষা ভোটের।
এই বিষয়ে সাংসদ জুন মালিয়া বলেন,” হাতে মাত্র ১২ টা দিন বাকি, অভিষেক ভিটামিন ডোজ দিয়ে গেছেন।একজন সেনাপতির যা কর্তব্য তাই করে গেছেন অভিষেক, I always proud of you। বলেছে আমাদের ভালো রেজাল্ট করতে হবে।

অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন,’এটা অভ্যন্তরীণ মিটিং,উনি ধরে ধরে বৈঠক করেছেন। কোথাও যদি গ্যাপ থাকে সেগুলো মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে। পাশাপাশি তিনি বলেন যারা ভালো পারফরমেন্স করবে তারা অ্যাওয়ার্ড পাবে আর যারা দলে থেকে কাজ করবে না তারা অ্যাওয়ার্ড থেকে বঞ্চিত হবে।’ অন্যদিকে খড়গপুর প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলেন,”আমাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ নেই আগে যা ছিল তা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। আমি যেদিন থেকে প্রার্থী হয়েছি সবাই আমার হয়ে প্রচারে নেমেছে খড়্গপুরে।আমরা বিপুল ভোটে জিতব এবার।

তবে ডেবরার প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক সভাপতি।তিনি সমস্ত বুথ স্তরীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সবাইকে একসাথে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।আলাদা করে ডেবরার জন্য নতুন কিছু বলেননি।’
যদিও খড়গপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণী ঘোষ বলেন,’আমরা সবাই একসাথে,আমাদের মধ্যে কোন সমন্বয়ের অভাব নেই।’
মেদিনীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন,’সবাই কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে অভিষেক বলেছে দল কে জেতাতে হবে।’