
মেদিনীপুর: 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এল বিজেপি। এই জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন?
এই নির্বাচনে বিজেপি কোনও নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীকে সামনে না রেখেই লড়াই করেছে। গোটা প্রচারপর্ব জুড়েই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিল। ফলে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে।

ভোটের ফলাফলে অন্যতম বড় চমক শুভেন্দু অধিকারীর সাফল্য। তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী হয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 15,105 ভোটে পরাজিত করেছেন। পাশাপাশি, নন্দীগ্রামেও তাঁর শক্ত অবস্থান বিজেপির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। অনেকের মতে, এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীকে যেভাবে প্রজেক্ট করা হয়েছে এবং তাঁর প্রার্থীপদ ঘোষণার সময় অমিত শাহের উপস্থিতি—এসবই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে অন্যতম শক্ত দাবিদার হতে পারেন।
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বেও দল সংগঠিতভাবে লড়াই করেছে। তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদে পৌঁছেছে বিজেপি, যা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে তিনিও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

তবে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল বিবেচনায় রেখে অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অতীতে দল একাধিক রাজ্যে অপ্রত্যাশিত মুখকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরেছে। ওড়িশায় মোহনচরণ মাঝি, মধ্যপ্রদেশে মোহন যাদব, ছত্তীসগড়ে বিষ্ণু দেও সাই কিংবা রাজস্থানে প্রথমবারের বিধায়ক ভজনলাল শর্মার মতো উদাহরণ সামনে রয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গেও শেষ মুহূর্তে সম্পূর্ণ নতুন কোনও মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই প্রেক্ষাপটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপর। তাঁদের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা চলতেই থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় শুধুমাত্র একটি সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গঙ্গাপাড়ের রাজ্যগুলিতে বিজেপির প্রভাব আরও বিস্তারের প্রতীক। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও পদ্ম ফুটল। ফলে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন নজর একটাই—কে বসছেন নবান্নের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে।