
ভাদুতলা 7 ই মে :
গতকাল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি ব্লকের ভাদুতলাতে রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। অন্যদিকে পোস্ট মর্টেমের পর দেহ পৌঁছালো বাড়িতে, এলাকায় শোকের ছায়া।

সম্প্রতি শেষ হয়েছে ২০২৬ সালের ভোট প্রক্রিয়া। তার ফলাফল বেরিয়েছে তাতে তৃণমূলকে হারিয়ে ২০৭ সিটে দখল করে জিতে রাজ্য সরকার দায়িত্ব দিতে চলেছে বিজেপি। আর আগামী ৯ই মে তার শপথ গ্রহণ। অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত গোটা রাজ্যের সঙ্গে জেলায় জেলায়। একাধিক পার্টি অফিস লুট জি এম, ভাঙচুর, তৃণমূল নেতা কর্মীদের মারধরের ঘটনা যেমন সামনে এসেছে তেমনি এসেছে বিভিন্ন গন্ডগোলের ঘটনা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে আসরে নেমেছে বিজেপির নেতা নেতৃত্ব রাজ্য সভাপতি এবং খোদ শুভেন্দু অধিকারী। তারা বারেবারে মেসেজ দিচ্ছেন বার্তা দিচ্ছেন যাতে গন্ডগোল কেউ না করে। সমস্ত জেলায় সাংবাদিক বৈঠক করে গন্ডগোলকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসন সেই সঙ্গে তৃণমূলের পার্টি অফিস খুলে দেওয়া হচ্ছে বিজেপির তরফে।

এরই মধ্যিখানে গতকাল রাতে এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করা হলো শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ কে যা নিয়ে ফের রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। এই ঘটনায় চারিদিকে প্রতিবাদের ঝড় সেই সঙ্গে জেলাতেও শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী বিধানসভার ভাদুতলা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। বেশ কিছুক্ষণ রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিজেপি নেতাকর্মীদের দাবি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে মেরেছে তৃণমূলের হার্মাদ রা তাই তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে। এরই পাশাপাশি এই ধরনের বহু তৃণমূলের হার্মাদ এবং দুষ্কৃতীরা রয়েছে এই জেলার কোনে কোনে।তাদেরও গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে তবেই শান্তি ফিরবে রাজ্যে। যদি এইদিন দুপুর বিকেল নাগাদ চন্দ্রনাথ রথের মরদেহ পৌঁছায় তাঁর বাড়িতে। এলাকায় শোকের ছায়া।এই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাড়িতে বসে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক, নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা কাঁদতে কাঁদতে শুধু একটাই কথ বলেন,’বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই ওরা এটা করেছে।’ তিনি এও বলেন,’আমি দোষীদের শাস্তি চাই। আমি একজন মা, আমি চাই না ওদের ফাঁসি হোক। আমি ওদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।’

উল্লেখ্য,গত বারো বছরে শুভেন্দু অধিকারীর মোট চারজন আপ্তসহায়ক খুন হলেন। প্রথম খুন হন প্রদীপ ঝা (২০১৩) সালে, শুভব্রত চক্রবর্তী (২০১৮), পুলক লাহিড়ী (২০২১) অবশেষে চন্দ্রনাথ রথ (২০২৬) সালে। প্রশ্ন উঠছে এই মৃত্যু নিয়ে।

এই ঘটনা নিয়ে ভাদুতলার স্থানীয় বিজেপি নেতা অপূর্ব ঘোষ বলেন,”গতকাল রাতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে যেভাবে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে এই তৃণমূলের দুষ্কৃতিকারী হার্মাদদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা এই দাবি করছি এই ধরনের তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা যাদের নামে এফ আই আর রয়েছে তারা জেলার ভিন্ন কোনে কোণে রয়েছে। তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন চালিয়ে যাব।