
চন্দ্রকোনা (1) 13 ই মে :
বারবার বলা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেই চলছে বিভিন্ন জেলায়। এবার বলির হাঁড়ি কাঠ করে ১২ জন নেতাকর্মীর নাম কাগজে চিটিয়ে বলি দেওয়ার নিদান। যা ঘিরে সোরগোল চন্দ্রকোনাতে। তৃণমূলের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজেপির পাল্টা যুক্তি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এলাকার মানুষ বিজেপির নেতা-নেত্রী নয়।

বলি দেওয়ার কাঠ তাতে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো তৃণমূল নেতাদের নাম। সেই কাঠে ঝোলানো কাগজে লেখা ,”২০১১ সালের তৃণমূল আসার পর নেপাল মানিকের কি অপরাধ জন্য তাকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল এবং তার নামে পুলিশ কেস করা হয়েছিল, তার জবাব আপনাদের দিতে হবে। আর সেই কাগজে লেখা ১২ জন তৃণমূল নেতাকর্মীর নাম।” এই ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর বাজার এলাকায়। মূলত ২০২৬ এর নির্বাচনের তৃণমূলের টিকিটের বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী করা তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই ( ব্লক তৃণমূলের সভাপতি) অভিযোগ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেই চন্দ্রকোনার বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ভাঙ্গা হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে তৃণমূল কর্মীদের উপর।

এমনকি রাতের বেলা মনোহরপুর বাজার এলাকায় তিনটি বলির কাঠ মাটিতে পুৃৃঁতে তাতে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো তৃণমূল নেতাদের নাম, এর মানেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের বলি দিতে চাইছে বিজেপি। যদিও এই ধরনের বিষয়টি প্রকাশ্য আসতেই তড়িঘড়ি সরিয়ে ফেলা হয় ওই বলির কাঠ। ঘটনার কথা নজরে এসেছে বললেন এলাকার বিজেপি নেতা। তথা মণ্ডল বিজেপির সভাপতি সবুজ মজুমদার। তবে তার দাবি ঘটনাটি বিজেপি করেনি, এলাকার কিছু মানুষের তৃণমূলের উপর ক্ষোভ থাকার কারণেই তারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনা ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

এই বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই বলেন,”২০২৬ এর ভোট গণনার পর থেকেই গোটা রাজ্যের সঙ্গে জেলায় জেলায় এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ছড়াচ্ছে বিজেপি। সেই ঢেউয়ে আমাদের এই চন্দ্রকোনাতেও এই ধরনের হাঁড়ি কাঠ করে ১২ জন নেতা-নেত্রীর নাম লিখে রাখা হয়েছে। যারা তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট ছিল বা তৃণমূল নেতা ছিল এলাকায়। তাদের নাম লিখে হাঁড়িকাঠে পাশে চিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই ২০১১ তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের পরিস্থিতি সিপিএমের বিরুদ্ধে আমরা করিনি। তাছাড়া যে নির্বাচন কমিশন পুলিশ প্রশাসন বারবার ধরে বলছে যে কোন কিছু অশান্তি হবে না বিজেপির নেতা এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন কোন ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটবে না তাহলে এই ঘটনার ঘটছে কিভাবে।”

যদিও এই নিয়ে পাল্টা যুক্তি বিজেপির। এলাকার বিজেপি নেতা তথা মণ্ডল বিজেপির সভাপতি সবুজ মজুমদার বলেন,”এই ঘটনার সঙ্গে এলাকার কোন বিজেপি নেতা কর্মী জড়িত নয়। এই ঘটনা ঘটিয়েছে সম্পূর্ণ এলাকার মানুষ যারা ২০১১ এর পর থেকে বিভিন্নভাবে তৃণমূলের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে,ভেঙেছে বাড়িঘর।দীর্ঘদিন ঘর ছাড়া ছিলেন তারা ক্ষোভে রাগে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। পাশাপাশি এই বিজেপি নেতা বলেন তৃণমূল নেতাদের ,আপনারা সাবধান হন, সুষ্ঠুভাবে বসবাস করুন এলাকায়।”