
দাসপুর 18 ই মে :
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক মমতা ভূঁইয়ার ছেলে কুমারেশ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক তোলাবাজি এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেইসঙ্গে পোয়া মামলায় গ্রেপ্তার করলো দাসপুর থানার পুলিশ। এদিন মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় বিচারক। যদিও এই ঘটনায় প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত কুমারেশ। অন্যদিকে এই তৃণমূলে নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিজেপি।

এবার সরকার চেঞ্জ হতেই ‘প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার’ মন্তব্য তৃণমূল প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে কুমারেশ ভূঁইয়ার যা নিয়ে উত্তপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর। মূলত রবিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন দাসপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মমতা ভুঁইয়ার ছেলে কুমারেশ ভুঁইয়া। এই কুমারেশ দাসপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। তোলাবাজির অভিযোগ ও এসটি এসসি আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। এছাড়াও রয়েছে তার বিরুদ্ধে একাধিক তোলাবাজির অভিযোগ।
রবিবার দুপুর নাগাদ তাকে দাসপুর থানায় আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাত নাগাদ পুলিশ জানায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের সরগরম পশ্চিম মেদিনীপুর। উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের ৩ বারের বিধায়ক বর্তমানে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মমতা ভুঁইয়ার ছেলে কুমারেশ ভুঁইয়া।

সে দাসপুর ১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। জানা যায় সরকার পরিবর্তন হতেই কুমারেশের নামে দাসপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে এলাকার মানুষজন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছে এলাকার মানুষ। সেই ঘটনায় তাকে এস সি ও এস টি আইনে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দাসপুর থানার বালিপোতা এলাকায় কুমারেশ তার একটি কোল্ডল্ড্রিংসের দোকানে যখন গিয়েছিল তখনই তাকে এলাকার মানুষজন ঘিরে ধরে চোর চোর শ্লোগান তুলতে থাকে। আর সেখান থেকেই এলাকার মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে থানায়। কুমারেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী থেকে বিজেপির নেতা নেতৃত্ব এবং স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা।

যদিও এই ঘটনায় ছেলের জন্য এদিন গভীর রাত নাগাদ থানার সামনেই বসে থাকতে দেখতে পাওয়া যায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া সহ তৃণমূল কর্মীদের। সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়ে মমতা কোন প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। যদিও সোমবার কুমারেশ কে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়।সব শোনার পর বিচারক ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত কুমারেশ ভূঁইয়া বলেন,”এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ। সরকার পরিবর্তন হতেই তার উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে। যে জায়গা নিয়ে গন্ডগোল তার কারণ আসলে ওইটা গভমেন্টের ল্যান্ড ছিল একসময় আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর জবর দখল কারীদের সরিয়ে দিয়ে গভমেন্টকে ফেরত দিয়েছিলাম, এটাই আমার অপরাধ।”

এ বিষয়ে বিজেপির এসসি মোর্চার সদস্য রাজু আড়ি বলেন,” গত ২০১৩ সালের পর থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ১৩৬ খানা মামলা হয়েছে বিনা কারণে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে বিজেপির কর্মী নেতৃত্বের যার মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন ওই কুমারেশ ভূঁইয়া, যিনি প্রাক্তন এম এল এ মমতা ভূঁইয়ার ছেলে। পাশাপাশি এলাকায় বালি মাটি সিন্ডিকেটের প্রধান মুখ এই কুমারেশ। মায়ের বিধায়কের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন, শুধু তাই নয় নাড়াজোল এলাকায় বিভিন্ন রকম সিন্ডিকেটের সঙ্গে জুড়ে ছিল এই কুমারেশ যার জন্য এলাকার মানুষ ভয়ে তটস্থ ছিল। আমরা অভিযোগ করেছি তোলাবাজির এবং আমরা চাইবো উনার শাস্তি হোক দৃষ্টান্তমূলক।”