
মেদিনীপুর 18 ই মে :
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের IQAC-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক সপ্তাহব্যাপী ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (FDP) “গবেষণায় AI-এর সংযোজন উন্নত ফলাফলের জন্য গবেষণা-পদ্ধতির বিকাশ”। এইদিন এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয় এবং এটি আগামী ২৩ মে, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।

এইদিন IQAC-এর অধিকর্তা অধ্যাপক মধুমঙ্গল পালের স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। তিনি এই FDP-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গবেষণা ও শিক্ষণ পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (AI) অন্তর্ভুক্ত করার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন।অন্যদিকে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে শিক্ষাজগৎ ও গবেষণা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগান্তকারী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার সমস্যা নির্ধারণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং জ্ঞান বিতরণের পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিচ্ছে। একইসাথে এটি নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে নিয়ে আসছে। সময়োপযোগী এই কর্মসূচির আয়োজনের জন্য তিনি IQAC-এর প্রশংসা করেন এবং মন্তব্য করে বলেন, উদীয়মান প্রযুক্তিগুলোকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, এই আয়োজনটি তারই প্রতিফলন।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিনও এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার গুরুত্বের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও উদ্ভাবনের অগ্রগতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কোষের অধিকর্তা অধ্যাপক অজয় কুমার মিশ্র আধুনিক গবেষণা পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুলস এবং সুদৃঢ় গবেষণা পদ্ধতির ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পরিচালিত গবেষণার কৌশলগুলো সম্পর্কে সঠিক ও গভীর ধারণা অর্জন করতে পারলে গবেষক ও শিক্ষাবিদগণ তাঁদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজের গুণমান ও প্রভাব বৃদ্ধিতে প্রভূত উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ড. জে. কে. নন্দীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে এই উদ্বোধনী অধিবেশনটি সমাপ্ত হয়।

তিনি এই কর্মসূচিটিকে সফল করে তোলার জন্য উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বক্তাগণ, আয়োজকবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই FDP-তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুলস-এর মৌলিক বিষয়সমূহ, গবেষণা পদ্ধতি, গবেষণাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সংক্রান্ত নৈতিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে, দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ এই কর্মসূচিকালে বক্তৃতা প্রদান করবেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সাথে মত বিনিময় মূলক অধিবেশনে অংশ নেবেন।