Seuli Saha Keshpur : কেশপুরের প্রাক্তন মন্ত্রী খোদ এলাকা ছাড়া, বাড়িওয়ালা বলছে ঘর ছেড়ে দিতে! DM SP কে চিঠি শিউলি সাহার

Share

কেশপুর 23 সে মে :

এ যেন ঠিক উলট পুরান। রেকর্ড মার্জিন ভোটে জিতেও রেহাই মিলছে না, এলাকায় ঢুকতে পারছে না এলাকার জেতা বিধায়িকা তথা প্রাক্তন প্রতি মন্ত্রী শিউলি সাহা। তিনি এলাকায় ঢুকতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার কে ।

প্রসঙ্গত পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি বিধানসভার মধ্যে এক অন্যতম বিধানসভা হলো কেশপুর। এই কেশপুরে বেশির ভাগটাই রয়েছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বলে সূত্র অনুযায়ী জানা যায়। কেশপুরের একটা রাজনৈতিক চরিত্র রয়েছে যখন রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা পরিবর্তন হয় তখন কেশপুর অপরিবর্তিত থাকে। উল্লেখ করে বলা যায় ২০১১ সালে যখন রাজ্যে প্রায় সমস্ত জায়গায় বদল হয়েছে তখন কেশপুরে রেকর্ড মার্জিনে জিতেছে সিপিএম। এরপর ২০১৬ তে কেশপুর পরিবর্তন হয়েছে, লালের পরিবর্তে এলাকা দখল করেছে তৃণমূল। ২০২৬ এসে এবারও ঠিক উল্টো, ঠিক যখন রাজ্যের বিশেষ বিশেষ বিধানসভা গুলিতে পরিবর্তন হয়েছে, বিজেপি সমস্ত জায়গায় ধরাশায়ী করছে তৃণমূলকে। প্রায় ২০৭ টি সিট নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতাই দখল করেছে রাজ্যে তখন কেশপুর অপরিবর্তিত। তখনও দুহাত ভরে আশীর্বাদ দিয়েছে এবং জিতিয়েছে তৃণমূল বিধায়িকা প্রতিমন্ত্রী শিউলী সাহাকে।

কিন্তু তারপরও উলট পুরান! কারণ রেজাল্ট বেরোনোর পর থেকেই এলাকায় রাতারাতি তৃণমূলীরা হয়ে উঠেছে বিজেপি। প্রায় বেশিরভাগ তৃণমূলের পার্টি অফিস রাতারাতি গেরুয়া করন হয়ে গিয়েছে, মমতা-অভিষেকের কাট আউট সরে গিয়ে মোদি-শুভেন্দুর কাট আউট বসে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরছাড়া হয়েছে তৃণমূলীরা বলে অভিযোগ।পাশাপাশি এলাকা ছাড়া রয়েছে খোদ জেতা বিধায়ক শিউলি সাহা। এদিন তিনি মেদিনীপুরের একটি গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মিটিংয়ে এসেছিলেন। সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করে বসেন। এলাকায় তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,” বহু মানুষ আতঙ্কে এই এলাকা ছেড়েছেন, অনেকের বাড়িঘর ভাঙচুর করা,হয়েছে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে মারধর করা হয়েছে। অনেকে কেঁদে কেঁদে বহুবার মোবাইলে ভিডিও পাঠিয়েছে, অভিযোগ জানিয়েছে আমাকে।

আমিও সেই অভিযোগ নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার জেলাশাসক বিজেপি নেতা নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী কেও জানিয়েছে। কারণ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তিনি সুশাসন দেবেন বলে জানিয়েছেন। তাই এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার আবেদন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি। আমি চাই আর ১৩ টি বিধায়ক এলাকায় যে রকম ভাবে কাজ করতে পারবেন আমি চৌদ্দ নম্বর বা ১৫ নম্বর বিধায়ক হিসেবে ঠিক সেরকম যেন কাজ করতে পারি। সে ক্ষেত্রে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা বা বাধার সৃষ্টি না হয় তা দেখুন প্রশাসন,এই আবেদনই করব। আমি কেশপুরের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। সেখানে বিজেপি প্রায় ৯৪ হাজার ভোট পেয়েছে। তাদেরও আমি কাজ করতে চাই। এলাকায় ঢুকতে আতঙ্কিত এই প্রশ্ন করলে বিধায়িকা শিউলি সাহা বলেন, আমি এখনো এলাকায় ঢুকিনি এবং ঢুকতে পারিনি।

আমি কলকাতা থেকে যাতায়াত করি। আমি যেখানে থাকি সেটা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তবে আমিও কথা বলছি। অতি উৎসাহী কিছু মানুষ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে,তবে শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ আছে যারা এর সমাধান করবেন। যদিও এই বিষয়ে আমি লিখিতভাবে ডিএম,এসপিকে দিয়েছি,রাজ্যেও জানিয়েছি। তবে ঘর ছাড়ার সংখ্যা নিয়ে বিধায়িকা বলেন সঠিক এখন বলতে পারব না। কারণ অনেকেই আতঙ্কে বাড়ি ফেরেনি। আমি তাদের আসতে বলেছি, পুলিশও বলেছে। জেলার জেলা প্রশাসনও বলছে কিন্তু কিছু এমন ঘটনা ঘটেছে যার জন্য তাদের মনের দাগ কেটেছে। আর তাই তারা আসতে চাইছে না। সেই সঙ্গে আমি ওখানকার লোকাল বিজেপি লিডারদের আবেদন করেছি যে স্বাভাবিক সিচুয়েশন ফিরিয়ে দিয়ে যাতে পঞ্চায়েত কাজ করতে পারে এবং পঞ্চায়েতের নির্বাচনটা হয় ভালোভাবে।

কারণ এলাকার মানুষই কাজ করে,MLA কখনো ঝান্ডা ধরে কাজ করে না। তবে বিধায়িকা শিউলি সাহাকে কেউ হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলে আমাকে কেউ ডাইরেক্ট হুমকি দেয়নি। তবে আমি যেখানে থাকি সেখানে বাড়িওয়ালা বলেছেন, তাকে হুমকি দিয়েছে কিছু লোক। তারা এসেছিল ফ্লেক্স, ব্যানার ছিঁড়ে দিয়েছে এবং বলেছে বাড়ির চেঞ্জ করে নিতে। আক্ষেপ করে বিধায়িকা বলেন যদি আমাকে থাকতে না দেয় কেশপুরে তাহলে আমি পরিষেবা দেবো কিভাবে! “

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই কেশপুরে এবারে প্রায় ৫২ হাজার ভোটে রেকর্ড মার্জিনে জিতেছে তৃণমূল বিধায়িকা। তিনি হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সামন্তকে। যদিও কেশপুর ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত। তাই বিগত দিনে এখানকার ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব কে জেতানোর জন্য ১ লক্ষ ভোটের লিড দিয়েছিল কেশপুর আর তার খুশিতেই প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল এই শিউলি সাহাকে। যদিও সরকার পরিবর্তন হতে মন্ত্রী থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী হয়েছে এই জেতা বিধায়িকা। এখন দেখার কবে বিধায়কা বাড়ি ফেরেন এবং মানুষের দাবি দাওয়া পূরণ করেন?


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in