
মেদিনীপুর 21 সে মে :
ইংলিশ চ্যানেল পার হল,পক প্রণালীও হলো পার আফরিনের এবার লক্ষ্য ক্যাটলিনা চ্যানেল। মূলত এখন আর মেদিনীপুরের নয় গোটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নাম উঠেছে আন্তর্জাতিক সাঁতারু মেদিনীপুরের মেয়ে আফরিন জাবির। একটি সামান্য আয় করা পরিবার থেকে উঠে আসা এই কন্যা এখন দুনিয়া কাঁপাচ্ছে তার সাঁতারের দক্ষতায়।

একে একে দুর্গম ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার করেছে অনায়াসে। শত বাধা বিপত্তি সেইসঙ্গে আর্থিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও অনেকের সাহায্য সহযোগিতায় অবশেষে পক প্রণালী অতিক্রম করেছে এই বছর ২৪ এর সাঁতারু আফরিন জাবি। তবে জুলাইয়ের আবার স্বপ্ন বাঁধতে শুরু করেছে আফরিনের চোখে, তবে এবারে তার স্বপ্ন ক্যাটলিনা চ্যানেল। তবে সেই স্বপ্ন কি আদৌ পূরণ হবে সে নিয়েই ভেঙ্গে পড়েছে কিছুটা সে। কারণ আর্থিক সাহায্য তার কাছে এখন সবচেয়ে বড় দুর্গম পরিস্থিতি। জলের ভয়ংকর পরিস্থিতি জেলিফিশের আক্রমণ কে সে প্রতিহত করেছে। তবে অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে বারে বারে। কারণ গতবারে পক প্রণালী পার হতে আর্থিক সাহায্য দিয়েই এগিয়ে এসেছে মেদিনীপুর রোটারি ক্লাব হসপিটাল। এবারেও প্রচুর টাকার প্রয়োজন আর সেক্ষেত্রে এখন থেকেই ভাবনায় বিভোর এই সাঁতারু।

এদিন Dnews কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আন্তর্জাতিক সাঁতারু বলেন ছোট থেকেই জলে পড়ে থাকায় আমার অভ্যাস। কখনো পুকুরে কখনো নদী কখনো বড় বড় জলাশয়ে সাঁতরে পার হয়েছি অনায়াসে। বাবা মায়ের সাহায্য সহযোগিতা সেই সঙ্গে মেদিনীপুর বাসীর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সমস্ত দুর্গম পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছি। এরপর একে একে পার করেছি ইংলিশ চ্যানেল ও পক প্রণালী। এখন স্বপ্ন ক্যাটনীলা চ্যানেল। কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।কারণ এ ক্ষেত্রে সাহায্যের একান্তই প্রয়োজন। পাশাপাশি এই দিন আফরিন জাবি জানালেন অবসর টাইমে সিনেমা দেখি বা সিরিয়াল দেখতে ভালোবাসি। তবে বেশিরভাগ সময় কাটে জলে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুসলিম মেয়ে আফরিন এখন সোনার মেয়ে হিসেবে পরিচিত। ইংলিশ চ্যানেল জয় করার আসার পর থেকেই বিভিন্ন ক্লাব সংস্থার সংগঠন তরফ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে, দিয়েছে সম্বর্ধনাও অনেকের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি পক প্রণালী জয় করে আশায় তাকে নিয়ে গোটা শহর পরিক্রমা করা হয়েছে, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাব সংঘ সংগঠন প্রশাসন থেকেও তাকে সহযোগিতা এবং সম্মান দেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর শহরের আর এক্স অন্বেষনা নামে একটি হসপিটাল তার হাসপাতালে ব্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নামেও তার নাম ঘোষণা করেছেন। এবার দেখার আগামী দিনের স্বপ্ন আফরিন এর পূরণ হয় কিনা।

এদিন দেওয়া সাক্ষাৎকারে আফরিন বলেন,”ছোট থেকেই জলাশয়ে কাটিয়ে এসেছি আমি এবং জলের নামায় আমার এক অদম্য ইচ্ছা। একে একে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে কিন্তু বেশ কিছু স্বপ্ন এখনই অধরা রয়ে গেছে। তবে তার অধরার কারণ অর্থনৈতিক অবস্থা। আমি চাই এই পরিস্থিতিতে মানুষের সাহায্য ও শুভেচ্ছা। তাতে আমি যেমন একদিকে দুর্গম পরিস্থিতি অতিক্রম করতে পারব ঠিক তেমনি জয় করতে পারব আন্তর্জাতিক নদী সাগর।”