
চন্দ্রকোনা 13 ই জুন :
রাজ্য জুড়ে চলছে ডিম থেরাপি! পচা ডিম গচ্ছিত করে রাখছেন বিক্রেতারা। ডিমের দাম বাড়ার পেছনে অনেক গুলো কারণ লক্ষ করছেন ক্রেতা থেকে বিক্রেতারা। এই সময় সাধারণত ডিমের দাম কম হওয়া উচিত কিন্তু তারপরও ক্রমবর্ধমান বেড়ে চলছে তার কারণ ডিমের অপচয় হচ্ছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। অন্যদিকে আকাশছোঁয়ার ডিমের দামে ডিম কিনতে গিয়ে হতাশ ক্রেতারা।

সাধারণত এই সময় ডিমের দাম কমে আর তাতে ভাতে বাঙালি ডিম ভাত খেয়ে কোনক্রমে সংসারে জীবন যাপন করে। কিন্তু রাজনৈতিক পালা বদলের পরেই তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে এবং তাদের উপর ডিম থেরাপিতে রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরও হচ্ছে ডিমের অগ্নি মূল্য। এই পরিস্থিতিতে হুহু করে বাড়ছে ডিমের দাম, পকেটে টান পড়ছে মধ্যবিত্তদের।গত দুই সপ্তাহে লাগাম ছাড়া দাম বৃদ্ধি হলো ডিমের। গত দুই সপ্তাহে যেই ডিম বাজারে খুচরো বিক্রি হচ্ছিল ৬ টাকা থেকে সাড়ে ৬ টাকা প্রতি পিস।
এখন সেই খুচরো ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা থেকে সাড়ে ৭ টাকা প্রতি পিস। গত দুই সপ্তাহ আগে ট্রে পতি যেই ডিম বিক্রি হচ্ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা। সেই ডিমের ট্রে এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ করে। হঠাৎ করে ডিমের দাম বাড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ লক্ষ্য হচ্ছে ক্রেতা থেকে শুরু করে বিক্রেতারা।

কেউ বলছেন রাজ্য জুড়ে ডিম থেরাপি চলছে তাই বাজারে ডিমের চাহিদা থাকায় বাড়ছে ডিমের দাম। কেউ আবার বলছেন অত্যধিক গরমের কারণে প্রোডাকশন কম তাই ডিমের দামে আগুন।ডিমের দাম বাড়ার ফলে কিছুটা হলেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে বাড়ির হেঁসেলেও।(২ সপ্তাহ আগে প্রতি পিস ডিম — ৬ টাকা/৬:৫০ পয়সা। এখন প্রতি পিস ডিম–৭ টাকা/৭:৫০ পয়সা) (২ সপ্তাহ আগে প্রতি ট্রে ডিম –১৮০/১৮৫ টাকা ।এখন প্রতি ট্রে ডিম – ২১০)রাজ্য জুড়ে ডিম থেরাপি চললেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই ডিম থেরাপির খুব একটা প্রভাব পড়েনি বললেই চলে। কেবলমাত্র জেলা শহরে ডিম নিয়ে হাজির হয়েছিল বিজেপির লোকজন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কে মারার জন্য কিন্তু তাতেও তারা অসফল হয়েছেন। তারপরও ডিমের অগ্নি মূল্যে নাভিশ্বাস মেদিনীপুরের মানুষের। জেলায় ডিম্ থেরাপি শুরু না হলেও গচ্ছিত করে রাখতে হচ্ছে পচা ডিম বলছেন বিক্রেতা। রাজ্য জুড়ে ডিম থেরাপি খেসারত গুনতে হচ্ছে জেলার মানুষকেও।

ডিম বিক্রেতা আলতাফ আলী শেখ,মুজিবুর রহমানরা বলেন,”এই সময় ডিমের দাম বাড়া উচিত নয়, বাড়েও না কিন্তু এখন ডিম খাওয়ার থেকে মানুষ ছুড়ছে বেশি। আর যার জন্যই ডিমের দাম বাড়ছে বলে আমাদের মনে হয়। মানুষের জন্যই ডিমের দাম বাড়ছে।”
যদিও ক্রেতা লক্ষীকান্ত পান, গৌর অধিকারীরা বলেন,”আমরা সাধারণত খাবার জন্য ডিম কিনে থাকি কিন্তু যে পরিমাণ ডিমের দাম বাড়ছে তাতে আগামী দিনে কিনতে পারবো কিনা জানি না। কিন্তু এখনকার মানুষ খাওয়ার থেকে বরং নষ্ট করার জন্য ডিম কিনছে। কারণ টিভি খুললেই আমরা দেখতে পাচ্ছি কোন না কোন নেতাকে মারার জন্য ট্রে ট্রে ডিম নিয়ে যাচ্ছে মানুষ। আর তাতে দাম বাড়ছে ডিমের।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এখন টিভি ডিজিটাল প্লাটফর্ম খুললেই দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে পচা ডিম। যদিও তার আটকানোর চেষ্টা করছেন পুলিশকর্মী এবং দায়িত্ব থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা কিন্তু তারপরও এক ও একাধিক ডিম দ্বারা আক্রান্ত তৃণমূল নেতারা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ডিম থেরাপি। এই পরিস্থিতি কতদিন চলে সেটা এখন দেখার এবং ডিমের দাম কবে কমে সেদিকে তাকিয়ে মেদিনীপুরের মানুষজন।