Sujay Hazra : স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের 25% কাটমানি চাওয়ার অভিযোগে ফের পুলিশি হেফাজত তৃণমূল জেলা সভাপতির, সুমিতের নামে ওয়ারেন্ট

Share

মেদিনীপুর 16 ই জুন :

“জমি মামলা থেকে এবার তৃণমূল সভাপতির নাম জড়ালো স্বাস্থ্য সাথীর কাটমানির ৩ কোটি টাকার” সরকারি আইনজীবীর তথ্য মত,’তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা ২৫% টাকা নির্ণয় নামক নার্সিংহোম থেকে কাটমানি নিতেন। সেইসঙ্গে নার্সিংহোমের ডিরেক্টারের গন্ডগোলে একজন ডিরেক্টর কে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে ১২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। এর ফলে শালবনির জমি কেলেঙ্কারি মামলায় তৃণমূল নেতার আইনজীবীর জামিনের আবেদন বাতিল হয়ে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। অন্যদিকে কোতোয়ালিতে নার্সিংহোমের কাটমানি চাওয়ার মামলায় ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের।’ অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিতের বিরুদ্ধেও ওয়ারেন্ট জারি।

এক ও একাধিক মামলায় জড়িয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক এবং জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। এদিন তাকে মেদিনীপুর কোর্টে তোলার সময় চারিদিক থেকে চোর চোর স্লোগান উঠে। যদিও মুখ ঢেকে কোর্টে ঢোকানো হয় এই তৃণমূলের জেলা সভাপতি কে। যা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য জেলায়। প্রসঙ্গত, রাজ্যের রাজনৈতিক পালা বদলের পরেই তৃণমূল নেতা মন্ত্রী বিধায়ক এবং ছোটখাটো জেলা পরিষদ সদস্যকেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হতে হয়। এরকমই এক জমি মামলায় গ্রেপ্তার হন পশ্চিম মেদিনীপুরের সাংগঠনিক তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। তার বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারি, টাকা তছরুপ তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ হয় শালবনি থানায়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে শালবনি থানার পুলিশ তৃণমূলের জেলা সভাপতি কে গ্রেপ্তার করে এবং কোর্টে চালান করলে তাকে আট দিনের পুলিশে হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল জেলা আদালত।

এই দিন সেই আট দিন শেষ হতে ফের নতুন করে মেদিনীপুর আদালতের তোলা হয় এবং সেখানে শালবনী থানার পাশাপাশি মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার একাধিক কেসে ফের নতুন করে মামলা শুরু হয় এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।। আইনজীবীর কথামতো,’এই তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিরুধে মেদিনীপুরের এক নার্সিংহোমের ডিরেক্টারের সুবিধে পাইয়ে দেওয়ায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে ৩ কোটি টাকার টুয়েন্টি পার্সেন্ট কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলায় ফের নতুন করে মেদিনীপুর কোর্টে উঠলে এই তৃণমূল জেলা সভাপতিকে নয় দিনের পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দেয় আদালত। অন্যদিকে শালবনী জমি মামলায় ১৪ দিনের জেল হেফাজতে নির্দেশ দেয় আদালত। এই দুই মামলা ও একাধিক অভিযোগে ফের নতুন করে নাম জড়িয়ে গেল এই তৃণমূল নেতার। যদিও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী তৃণমূল নেতার বাড়িতে তদন্ত করতে গিয়ে BLO দপ্তরের বেআইনি স্টাম্প পাওয়ার পাশাপাশি বেআইনি বিভিন্ন কাগজপত্র পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

এই বিষয়ে সরকারি এই আইনজীবি সৈয়দ নাজিম হাবিব বলেন,” শালবনি জমি কেলেঙ্কারি মামলায় তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরার আট দিনের পুলিশি হেফাজতের পর আজ কোর্টে তোলা হয়। ওরা জামিনের আবেদন করে কিন্তু বিচারক তা নাকচ করে দেয়।উল্টে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি মেদিনীপুর কোতওয়ালিতে একটা কেস হয়। এক নার্সিং হোমের দুই ডারেক্টরের মধ্যে একজন কে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে ১২ লক্ষ টাকা কাটমানি নিয়েছে বলে অভিযোগ করে অন্যজন। সেই সঙ্গে সেই নার্সিং হোমে স্বাস্থ্য সাথীর কাজ পাইয়ে দিতে ৩ কোটির বেশি টাকায় প্রায় ২৫% কাটমানি নিয়েছেন। সেই মামলায় ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।”

এই বিষয়ে বিজেপি নেতা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন,” এই রকম অনেক নেতার নামে জায়গা জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। রেলের জায়গা ইরিগেশনের জায়গা দখল করে বাড়ি ঘর করে নিয়েছে। সেই সব কেসের পুলিশ তদন্ত করছে। একজন নেতা নয় তাদের সঙ্গে অনেকে যুক্ত আছে, সেগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in