
খড়গপুর 2 রা জুলাই :
এবার শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ উঠল বড় বৌমার বিরুদ্ধে এবং সেই ভিডিও দেখে সোশ্যাল মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়। যদিও এই ঘটনায় তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিল খড়্গপুর মহিলা থানার পুলিশ,গ্রেপ্তার করা হলো মারধরে অভিযুক্ত মহিলাকে। যা নিয়ে খড়্গপুর এলাকায় চাঞ্চল্য।

ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে এক মহিলা এক বৃদ্ধা কে জুতো, ঝাঁটা দিয়ে মারধর করছে। কখন পা টেনে নিয়ে এসে তো কখন জুতো দিয়ে। পরে সমাজ মাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই চারিদিক থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় নড়ে চড়ে বসল প্রশাসন তড়িঘড়ি গ্রেপ্তার করা হলো ওই মহিলাকে। এলাকাবাসীর সূত্র এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায় ওই মহিলা এবং বৃদ্ধ মহিলার একই পরিবারের সদস্য। খড়্গপুর পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খরিদা এলাকার বাসিন্দা তারা। ওই কম বয়সী মহিলা সম্পর্কে ওই বেশি বয়সী মহিলার বৌমা হন। অভিযোগ এই মহিলা প্রতিদিনই তার বয়স্ক শাশুড়িকে কোন কারণ ছাড়াই জুতো ঝাঁটা দিয়ে মারধর করেন। যদিও এই বয়স্ক বৃদ্ধা বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করেন তখন তাকে পা ধরে টেনে এনে পুনরায় মারধর করা হয়। এই ঘটনায় ওই বাড়ির ছোট বৌমা প্রতিবাদ করলে তাকেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ। এরপরই এই ছোট বৌমায় বড় বৌমার মারধরের ভিডিও বিভিন্ন সোশ্যাল মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেন খোদ নিজেই।

আর সেই ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সবাই এর প্রতিবাদে মুখর হন। পাড়া-প্রতিবেশীরাও সোচ্চার হোন এই মারধোরের ঘটনায়। এই ঘটনার খবর পৌঁছায় পুলিশের কাছে। অবশেষে পদক্ষেপ নিল পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত বউমাকে গ্রেপ্তার করল খড়্গপুর মহিলা থানার পুলিশ। ঘটনা ঘিরে শোরগোল রেল শহর খড়্গপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ১৯ নং ওয়ার্ডের খরিদা বাজার এলাকার। নব্বই বছর বয়সী শাশুড়িকে নৃশংসভাবে মারধর করেন তাঁর বড় বৌমা। বাড়ির অন্য এক বৌমা ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ওই বউমাই ভিডিও করে সমাজমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেন বলে সূত্রের খবর। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই এলাকাবাসীরা এদিন বিকেল নাগাদ বিক্ষোভ দেখান অভিযুক্তের বাড়ির সামনে। পৌঁছান স্থানীয় এক বিজেপি নেত্রীও।

তিনিই বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। এরপর পাশবিক এই ঘটনার ভিডিও দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় খড়্গপুর মহিলা থানার পুলিশ। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন সমগ্র খড়্গপুরবাসী। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বউমাকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এই বিষয়ে বাড়ির ছোট বৌমা রানু তেওয়ারি বলেন,” পাঁচ বছর আগে আমাকে এই আমার বড় বৌদি এবং বড়দা মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমাকে প্রতিদিন টর্চার করত মারধর করতো সেই সঙ্গে আমার শাশুড়িকে। এরপর আমার মা এসে এখান থেকে আমাকে নিয়ে যায়। এই ঘটনা এর আগেও ঘটেছে এবং আমার দাদা এবং তার দুই ছেলে মিলে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে এরা সবাই সমান দোষী। তাই পুলিশকে জানাবো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার।”

এ বিষয়ে গীতা সিকান্দার নামে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কার বলেন,” এই ভিডিও আমরা যেমন সোশ্যাল মাধ্যম থেকে পেয়েছি, ঠিক তেমনি আমাদের গ্রুপ থেকেও পেয়েছি। তাই আমরা সবাই মিলেই থানায় হাজির হয়েছি সেই সঙ্গে ওই বৌমা ওর ছেলে এবং স্বামী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। কারণ ওনার শাশুড়ির বয়স প্রায় ৯০ বছরের উপরে। উনি এখন বাচ্চার মতন হয়ে গেছে এবং হয়তো বাড়িতেই পায়খানা করে দেন। তাই ওনাকে দেখার জন্য যাতে ব্যবস্থা করা যায় তারই দাবি জানাচ্ছি।
যদিও এদিন এই ধৃত বৌমাকে আদালতে তোলার সময় তিনি বললেন পাপ করে ফেলেছি আমি।