Bus Terminal : ভোটের প্রতিশ্রুতি রক্ষা বিধায়কের! দ্বিতীয় বাস টার্মিনাল পাচ্ছে মেদিনীপুর, জায়গা পরিদর্শন প্রশাসনিক ও রাজ্যের কর্তা ব্যক্তিদের

Share

মেদিনীপুর 1 লা জুলাই :

মেদিনীপুরবাসীর কাছে সুখবর! কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের পাশাপাশি দ্বিতীয় টার্মিনাল হতে চলেছে মেদিনীপুরের আবাস, কুইকোটা এলাকায়। রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মেদিনীপুরের প্রশাসনিক কর্তারা ঘুরে দেখলেন। এলাকা যানজট এড়িয়ে কিভাবে বাস পারাপার করা যায় তা নিয়েও খতিয়ে দেখলেন তারা। মেদিনীপুর বিধায়কের দাবি, দ্রুত প্রজেক্ট জমা দেওয়া হবে এবং শুরু হবে এই টার্মিনাল এর কাজ।

ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল এবার সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চলেছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক,মেদিনীপুরে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় বাস টার্মিনাল, যার জন্য জায়গা পরিদর্শন করলেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি, রাজ্যের প্রতিনিধি এবং মেদিনীপুরের বিধায়ক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫ টি বিধানসভা প্রায় ৪০ লাখের উপর জনগণ। প্রতিদিন সরকারি বাস ছাড়াও প্রায় ৬০০-৭০০ বেসরকারি বাস যাতায়াত হয় বিভিন্ন বিধানসভা এবং ডিভিশন ভিত্তিক। এছাড়াও দূর-দূরান্তের উড়িষ্যা সহ ভিন্ন রাজ্যেও বাসের যাতায়াত হয় জেলা থেকে। বহুদিন থেকে এই জেলার মানুষদের দাবি ছিল মেদিনীপুরে যে বাসস্ট্যান্ড রয়েছে তার পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল করার। কারণ মেদিনীপুরের কেন্দ্রস্তরে যে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড রয়েছে তার জায়গা অতি অল্প এবং প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। যার ফলে সময়মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে না এই বেসরকারি বাস এবং বাস যাত্রীরা।

ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় প্রচারে গিয়ে মেদিনী পুরের বিজেপি প্রার্থী শংকর গুছাইত ভোটারদের তার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে দ্বিতীয় বাস টার্মিনালের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন। আর ভোটে জেতার পর একে একে প্রতিশ্রুতি যেমন রক্ষা করেছেন ঠিক তেমনি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্বিতীয় বাস টার্মিনাল এর জন্য তিনি উদ্যোগী হলেন। বিধানসভায় গিয়ে যেমন প্রশ্ন তুললেন, সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তিনি দ্রুত টার্মিনাল করার ব্যবস্থা নিলেন। এদিন বিধায়ক ছাড়াও ছিলেন পুলিশ আধিকারিক, জেলার পরিবহন কর্তা (RTO) রাজ্যে থেকে আসা প্রতিনিধি দল এবং মেদিনীপুরের প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা। তারা মেদিনীপুর শহরের আবাসের একটি ফাঁকা জায়গা যেমন ঘুরে দেখেন তেমনি দ্বিতীয় সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে এসবিএসটিসির(SBSTC) ভেতরের পাশের জায়গায় তারা ঘুরে দেখেন। কারণ এই দ্বিতীয় বাস টার্মিনাল হলে এখান থেকে যাতায়াতে কোনো অসুবিধা না হয় এবং বাসগুলি যাতে দ্রুত পরিবহনের সহায়তা করে তার দিকটাও তারা খতিয়ে দেখেন। প্রথমে আবাসের জায়গাটা খতিয়ে দেখতে গিয়ে বাস ঢোকা আর বেরোনোর মুখ ছোট থাকায় দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এস বি এস টি সি সরকারি বাস ডিপোর মধ্যে দ্বিতীয় জায়গাটি তারা পরিদর্শন করেন এবং সেটা পছন্দ হয় প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের। যার ফলে মেদিনীপুরবাসীর কাছে এখন সুখবর দ্বিতীয় বাস টার্মিনালের জন্য।

এ বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন,”দীর্ঘ বাম জমানায় এবং এরপর ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় দ্বিতীয় বাস টার্মিনাল গড়ে ওঠেনি তাদের অসহযোগিতা এবং না উদ্যোগী হওয়ার জন্য। কিন্তু ভোটের আগে আমি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ভোটের পর তাই রক্ষা করছি। জেতার পরই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে প্রজেক্ট জমা দিতে বলেছেন আর তার জন্যই আমরা জায়গা পরিদর্শন করলাম। দ্রুত প্রজেক্ট জমা দেওয়া হবে এবং গড়ে তোলা হবে মেদিনীপুরে মেদিনীপুরবাসীর জন্য দ্বিতীয় বাস টার্মিনাল।”

যদিও এ বিষয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী বাস যাত্রী অরুণ অধিকারী, সঞ্জিত পাত্ররা বলেন,”আমরা প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হই।কারণ দুদিকে যেমন দোকানপাটে ভর্তি হয়েছে তেমনি এত বাস থাকার এখানে জায়গা হচ্ছে না। তাই আমাদের কর্মক্ষেত্রে যেতে এক ঘন্টা দেড় ঘন্টা দেরি হয়ে যায় প্রতিদিন। এক্ষেত্রে যদি দ্বিতীয় টার্মিনাল গড়ে ওঠে তাহলে অনেক সুবিধা হবে। কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই আমরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাইমে পৌঁছাতে পারবো নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in