
খড়গপুর 8 ই জুলাই :
বিনা টিকিটে ভ্রমণ রুখতে লাগাতর বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে দক্ষিণপূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশন,তাতেই মিলছে সাফল্য। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে খড়্গপুর ডিভিশনে জরিমানা বাবদ রাজস্ব বেড়ে দ্বিগুণ হল এমনকী, মাসে গড় জরিমানা আদায় হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকা! রেলের দাবি, নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের ফলেই মিলছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। যার প্রধান লক্ষ্য হল, বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করা যাত্রীদের সুরক্ষা এবং ভ্রমণে শৃঙ্খলা নিয়ে আসা।

এক মাসেই আয় ১০ কোটি ! ভাবা যায়,উদ্যোগী রেল। মূলত ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণের অভিযোগ দিনের পর দিন বেড়েই চলছিল। শুধু লোকাল ট্রেন নয় তা ছাড়িয়ে বন্দেভারত, জন শতাব্দী এক্সপ্রেস থেকে দূরপাল্লার সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে।পাশাপাশি সংরক্ষিত কামরায় উঠে পড়ছিল বিনা টিকিটের যাত্রী সঙ্গে থাকত লাগেজও। তাঁদের জ্বালায় অনেক সময় সংরক্ষিত আসনের যাত্রীরাও বসার জায়গা পেতেন না। বৈধ টিকিট না থাকা যাত্রীরা আদৌ ভ্রমণ করছেন নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য তা নিয়ে নানা সংশয় থেকে যায়। এই ঘটনায় কখনও দূরপাল্লার ট্রেনে তল্লাশি চালানো হয়েছে তো কখনও লোকাল ট্রেনেও চলেছে তল্লাশি অভিযান। আবার খড়্গপুর, মেচেদা, তমলুক, হলদিয়া, দিঘা, পাঁশকুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনেও নিয়মিত তল্লাশি চালানোয় ধরা পড়েছে বিনা টিকিটের যাত্রী। এরই সঙ্গে অনেকেই রাতের অন্ধকারে যাত্রীদের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের উদ্দেশেও ট্রেনে ওঠে। নাশকতার আশঙ্কাও থাকে।

নিয়মিত এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই খড়্গপুর ডিভিশন নিয়মিত তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেয়। তাতে দেখা যায়, এক একদিনেই ২৫০-৩০০ বিনা টিকিটের যাত্রী ধরা পড়ে। দিনে প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকা জরিমানাও আদায় হয়। চলতি বছরের জুন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, খড়্গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ১ লক্ষ ২১ হাজার ২৮৮ জন বিনা টিকিটের যাত্রী, বুকিং ছাড়াই লাগেজ নিয়ে ওঠার ঘটনা ধরা পড়ে। তাতে জরিমানা বাবদ মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৮২ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫০ টাকা! যেখানে ২০২৫ সালের জুন মাসে ৮৬ হাজার ১৭৯ জনের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ৮০ হাজার ২৭০ টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরে জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ। শুধু জুন মাসেই নয়, চলতি বছরে একটানা সাফল্য মিলেছে খড়্গপুর ডিভিশনে। রেল জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন তিন মাসে বিনা টিকিটের যাত্রী বা বুকিং না করে লাগেজ নিয়ে যাওয়া যাত্রী ধরা পড়েছে ৩ লক্ষ ২ হাজার ১৯৬ জন। আর জরিমানা বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৯ কোটি ১৯ লক্ষ ৯৫৫ টাকা! অর্থাৎ মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

রেল জানিয়েছে, বিশেষ অভিযানে জরিমানা আদায় কিন্তু তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। প্রধান লক্ষ্য, বৈধ টিকিট নিয়ে ট্রেনে ওঠা যাত্রীদের আরাম দায়ক এবং সুরক্ষিত ভ্রমণের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। বিনা টিকিটের যাত্রীরা যাতে কোনভাবেই তাঁদের বিরক্ত না করতে পারেন। তাই রেলের পক্ষ থেকে আবেদনও জানানো হয়েছে, যাতে সমস্ত মানুষ বৈধ টিকিট নিয়েই ট্রেনে ভ্রমণ করেন।