
খড়গপুর 10 ই জুলাই :
২০ শতাংশ এর কম পড়ুয়া একাডেমিক পড়াশোনার প্রেসার এর সঙ্গে কানেক্টেড হওয়ার সম্ভাবনা কম পড়াশুনার চাপে আইআইটি তে পড়ুয়া মৃত্যু নিয়ে সোজাসাপটা ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন এই ছাত্র মৃত্যুর কারণ পার্সোনাল এবং সোসাইটি কানেক্টেড। তবে একটি ছাত্র মৃত্যুও কাম্য নয়।

সম্প্রতি শেষ হয়েছে খড়্গপুর আই আই টির ৭২ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে মোট ৩৯৩৬ জন পড়ুয়া ডিগ্রী সম্মান পান বিশিষ্ট মন্ত্রী এবং প্রফেসর ডাক্তারের হাত ধরে মঞ্চ থেকে। প্রায় ২০ হাজার পড়ুয়া নিয়ে আইআইটি চলছে যা দেশের সর্ববৃহৎ এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কারিগরি বিদ্যা, প্রযুক্তি বিদ্যা,অধ্যাপক সাইনটিস্ট সেইসঙ্গে এআই দ্বারা পড়াশোনায় মগ্ন এই আইটির পড়ুয়ারা । কিন্তু মেধার সঙ্গে এক ও একাধিক ছাত্র মৃত বেড়েই চলছে খড়্গপুর আইআইটিতে। ২০২৫ সালে এক ও একাধিক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে, বেশিরভাগই সুসাইড তত্ত্ব খাড়া করেছে আই আই টি। ২০২৬ এও বেশ কয়েকজন ছাত্রের মৃত্যু ঘটেছে এই IIT এর হোস্টেলের মধ্যে। তবে এই ছাত্র মৃত্যু নিয়ে নব্য নির্বাচিত ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী এক ও একাধিক কমিটি apps এবং এআইয়ের সাহায্য নিয়েছেন তিনি এবং সর্বদাই চেষ্টা করছেন যাতে কোনভাবে একটিও পড়ুয়া এই আইআইটিতে মৃত্যু না ঘটে।

বারে বারে কাউন্সিলিং করাচ্ছেন এবং ছাত্রদের তিনি পার্সোনালি কথা বলছেন, শুনছেন অভাব অভিযোগ। তারপরও ছাত্র মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না আইআইটি খড়্গপুরে। যদিও অন্যদিকে এই সমাবর্তনে আসা অভিভাবকদের বক্তব্য ছিল,’ ছাত্র-মৃত্যু এটা আইআইটির গাফিলতি নয়, বরং সেই পড়ুয়ার নিজস্ব সমস্যা। এক্ষেত্রে প্রতিটা মৃত্যুই তার আলাদা আলাদা কারণ অবশ্যই রয়েছে। এর সঙ্গে আইআইটির কোনোভাবে কানেক্টেড নয় বলেই তারা ব্যাখ্যাও করেন।
যদিও এই নিয়ে আইআইটি ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীর বক্তব্য,”আমরা যত রকম চেষ্টা করার চেষ্টা করছি সেই সঙ্গে আত্মবিশ্লেষণ করছি কিভাবে এই মৃত্যু কমানো যায়। পাশাপাশি তিনি বলেন ছাত্র মৃত্যু ছাড়া এমন প্রচুর কেস প্রতিদিন আমাদের কাছে আসে যেগুলো প্রতিদিন খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসছে। আমরা বিভিন্ন রকম চেষ্টা করছি আর তাতে সহায়তা হয়েছে তাদের।যদিও সেখান থেকে আমরা অনেক শিক্ষাও পাচ্ছি।

এই শিক্ষা থেকে আমরা এটাই উপলব্ধি করছি পুরোপুরি যন্ত্র নির্ভর বা এই আই দিয়ে কোনভাবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব না। আবার শুধু কাউন্সিলর দিয়েও সম্ভব নয়। কারণ আমাদের কুড়ি হাজার প্রায় স্টুডেন্ট রয়েছে। কত কাউন্সিলর দেবো আমরা। তাই আমরা মানুষ এবং কৃত্রিম প্রযুক্তি দিয়ে চেষ্টা করছি একসাথে মিলেমিশে কাজ করে এই মৃত্যুর ঠেকানো। এইজন্য আমরা কাজে লাগাচ্ছি ফ্যাকাল্টি এডভাইজার,হোস্টেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ওয়ার্ডেনদের দিয়ে। যাতে তারা পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে সামান্য কিছু সমস্যা হলে তা যেন শনাক্ত করতে পারে। কারণ যে কোন রোগের মত এই পড়ুয়া মৃত্যু আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং হয়েছে সনাক্ত করা। শনাক্ত করা গেলি তাকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায় অতি সহজে।তবে খবর শিরোনামে আসায় ছাত্র মৃত্যু নিয়ে তিনি বলেন অনেকেই না জেনে শুনেই লেখালেখি করেন যে পড়াশোনার চাপের জন্য পড়ুয়া মৃত্যু হয়েছে। পুরো ব্যাপারটা না বুঝেই উনি লিখে ফেলেন,এটা ঠিক না।

কেননা ২০ শতাংশ এর কম পড়ুয়া একাডেমিক পড়াশোনার প্রেসার এর সঙ্গে কানেক্টেড হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন অনেকগুলো বিষয় আছে ছাত্রদের, যেগুলো খুব পার্সোনাল এবং সোসাইটি কানেক্টেড । এটা খুব সহজ বিষয় নয় বলেই আমার মনে হয়। কিছুটা পরামর্শ এর সুরেই ডিরেক্টর বলেন,’আমি অনেককেই বলে থাকি আমার ছেলে মেয়েরা যারা পড়াশোনা করে তারা সাধারণ মাইনে নিয়ে বেঁচে থাকুক, খুব বেশি মাইনে পাক আর না পাক অন্তত বেঁচে থাকুক। এটা আমরা যেমন গার্জেনদের বলি তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদেরও বলে থাকি। তবে চাইলেই তো সবকিছু হয় না তিনি কিছুটা উদাহরণ স্বরূপ বলেন খড়্গপুর আইআইটির যা অবস্থা, তার থেকেও অনেক খারাপ অবস্থায় অন্যান্য আইআইটির। কানপুর আইআইটির উদাহরণ টেনেও তিনি বলেন গত ১০ বছরে ছাত্র মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। খড়্গপুর আইআইটির ছাত্র মৃত্যু বেশি চোখে পড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন খড়্গপুর আই আই টির ছাত্র সংখ্যা বেশি, তাই আমাদেরও রিক্স ফ্যাক্টর ও বেশি। তবে তিনি শেষে বলেন কোন একটা মৃত্যু ও কাম্য নয় আমাদের আইআইটি র।

এ বিষয়ে ভিন রাজ্য থেকে আসা মেধাবী পড়ুয়াদের অভিভাবকরা বলেন,”আইআইটির ছাত্র মৃত্যু তাতে আইআইটি কর্তৃপক্ষের কোন দোষ নেই, এটা ভিন্ন ভিন্ন কারণে পড়ুয়ারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। অন্য এক অভিভাবক বলেন এর জন্য আইআইটি কে আরেকটু সচেষ্ট হতে হবে, মেডিয়েশন করাতে হবে এবং পড়ুয়াদের সমস্যা শুনতে হবে কমিটির মধ্য দিয়ে।”

উল্লেখ্য, লাস্ট গত ১৮ এপ্রিল খড়্গপুর আইআইটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া জয়বীর সিং দোডিয়ার দেহ উদ্ধার হয়েছিল অটলবিহারী বাজপেয়ী হলের নিচ থেকে। গুজরাটের আমেদাবাদের ওই পড়ুয়া ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এনিয়ে গত ১৬ মাসে আইআইটি খড়্গপুরের ৯ জন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হল। গতবছর (২০২৫) আইআইটি খড়গপুরের সাত ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ জনেরই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার তত্ত্বে শিলমোহর দেয় পুলিশ। গতবছর জুলাই মাসে ডিরেক্টরের দায়িত্ব নেওয়ার পরই পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সেতু অ্যাপ, মাদার ক্যাম্পাস, নিয়মিত পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন নতুন ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। তারপরও এই ধরনের ঘটনায় হতাশ কর্তৃপক্ষ।