Ghatal Flood : বন্যার আগাম প্রস্তুতি পুলিশ সুপারের! ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি আগে ভাগে সরানো হচ্ছে ঘাটালের সম্ভাব্য বন্যা কবলিত প্রসূতি মায়েদের

Share

ঘাটাল 9 ই জুলাই :

ঘাটাল বাসীর মাথা ব্যথার কারণ সেই বন্যা। যদিও সেই বন্যার আগে নতুন সরকারের উদ্যোগে শুরু হলো ত্রাণ বিতরণ। এইদিন পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি দেওয়া হলো শুকনো খাবার। পুলিশ সুপার জানালেন আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঘাটালে বন্যার আগে মানুষজনের হাতে তুলে দেওয়া হল প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী, ত্রাণ তুলে দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। মূলত বর্ষা আসলেই বন্যার খবরের শিরোনামে থাকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল। ভারী বৃষ্টি ও জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে প্লাবিত হয় ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা। একাধিক গ্রামের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বন্যা হলে ঘাটালের বেশ কয়েকটি এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তাই ত্রান সামগ্রী থেকেও কিছুটা হলেও বঞ্চিত থাকে ঘাটালের মানুষজন। তাই বন্যার আগেই ঘাটালের এই সমস্ত এলাকার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হল আগাম ত্রাণ সামগ্রি। এই আগাম ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়ার একটাই লক্ষ্য বন্যা হলে ওই সমস্ত এলাকার মানুষজন যাতে শুকনো খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখতে পারেন।

এদিন ঘাটালের মনসুকা গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হলো ত্রাণ সামগ্রী। পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কথা অনুযায়ী এলাকার সম্ভাব্য ডেলিভারি হবে এমন প্রসূতি মায়েদের সরানো হচ্ছে অন্যত্র জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের উদ্যোগে। এরই সঙ্গে যাদের ডেলিভারির সময়সীমা তিন থেকে চার মাস তাদের জন্য স্পেশাল বোটের ব্যবস্থা এবং স্পেশাল চিকিৎসক রাখা হচ্ছে এলাকায়। এরই সঙ্গে যাতে বন্যা কবলিত হয়ে এলাকায় শর্ট-সার্কিট না হয় তার জন্য নিচু ইলেকট্রিকের ট্রান্সফরমার গুলোকে তোলা হচ্ছে উপর করে সেই সঙ্গে এক্সট্রা করে রাখা হচ্ছে জেনারেটর। যাতে প্রয়োজনীয় পানীয় জল সাবমারসিবল এর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ পেতে পারে এই বন্যা কবলিত অবস্থায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের শেষ প্রান্ত অর্থাৎ অন্যতম ডিভিশন হল এই ঘাটাল আর এই ঘাটাল বাসীর মূল মাথা ব্যথার কারণ হলো এই বর্ষাকালের বন্যা। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরেই বন্যা কবলিত ঘাটাল। তৎকালীন সময়ে কংগ্রেস সরকার, পরবর্তী কালে বামেরা এবং তার পরবর্তীকালেও তৃণমূল বহু চেষ্টা করেছে ঘাটালের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার। তাই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়িত করার প্রতিশ্রুতিতে ভোট বৈতরণী পার হয়ে গেছে কিন্তু জল যন্ত্রণা কমেনি ঘাটালের মানুষের। এবারে সরকারে বিজেপি, যদিও সরকারের বয়স দুমাস। তবে ঘাটাল বাসীর কথা মাথায় রেখে এবং বন্যার ভ্রুকুটিকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। তাই দফায় দফায় যেমন একদিকে জেলাশাসক বৈঠক সারছেন বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে তেমনি এলাকা পরিদর্শন করছেন পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসনের মানুষজন। সম্প্রতি মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও ঘুরে গেছেন এলাকা পরিদর্শন করে। এই বছর যদি ঘাটাল বন্যায় প্লাবিত হয় এবং মানুষ যাতে সমস্যায় না পড়েন তার জন্য আগে থেকে নেওয়া হচ্ছে সমস্ত রকম প্রস্তুতি।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন ” আমরা আগের ঘটনা দেখে শিক্ষা নিয়েছি এবং যেহেতু আমরা নতুন তাই সমস্ত রকম প্রস্তুতি রাখতে চাইছি। একদিকে যেমন ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার গুলোকে উপরে উঠানো হচ্ছে যাতে জলমগ্ন না ওঠে তেমনি সেইসঙ্গে এক্সট্রা করে জেনারেটর সংরক্ষণ করা হচ্ছে যাতে সাবমারসিবল থেকে জল নিয়ে মানুষ তার পানীয় এবং ব্যবহারিক জল ব্যবহার করতে পারে। এরই পাশাপাশি স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রসূতি মা দের আগেভাগে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বন্যা কবলিত হবে এমন এলাকা থেকে। এরই সঙ্গে প্রয়োজনীয় এক্সট্রা ডক্টর এবং স্পেশাল বোটিং এর ব্যবস্থা থাকছে,যে কোন প্রসূতি কে জরুরি প্রয়োজন ডেলিভারি করানোর জন্য।

আমরা ইতিমধ্যে ত্রাণ যেমন বিলি করছি সেই সঙ্গে বন্যা কবলিত হতে পারে এমন এলাকা থেকে মানুষকে সরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in