
মেদিনীপুর 9 ই জুলাই :
প্রাক্তন ছাত্র তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও মৎস্য দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাত কে সংবর্ধনা জানাল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ। ১৯৯৮ সালে ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক হওয়ার প্রায় ২৮ বছর পর নিজের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

ছাত্রজীবনে তিনি প্রয়াত অধ্যাপক তপন জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক আক্রম হোসেন মোল্লা, অধ্যাপক শঙ্কর প্রসাদ সিংহ, অধ্যাপক তীর্থঙ্কর দাস পুরকায়স্থ সহ বিভাগের বহু শিক্ষকের সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেছিলেন। স্ত্রী, পুত্র এবং নব্বইয়ের দশকের একাধিক সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা,গবেষক এবং বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর তাঁর দপ্তরে মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাদর সম্ভাষণ জানান। ইংরেজি বিভাগের ছাত্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন বিশিষ্ট মন্ত্রী হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণামূলক জীবনযাত্রাকে উদ্যাপন করতেই এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুপুর ১২টায় নব সংস্কারিত ও কানায় কানায় পূর্ণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল সভাগৃহে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুভ সূচনা হয়।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর, কলা ও বাণিজ্য অনুষদের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অরিন্দম গুপ্ত, বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র জানা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী এবং ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. দেবদাস রায়। এছাড়াও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সাগর আচার্য, মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মনোজ কুমার পতি এবং তাঁদের বিভাগের শিক্ষক ও কর্মীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইংরেজি বিভাগের সকল অধ্যাপক-অধ্যাপিকা বৃন্দ, শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তনী এবং বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলন মেলায় পরিণত হয়।

সংবর্ধনা গ্রহণের পর নিজের আবেগঘন বক্তৃতায় রাজেশ মাহাত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং বলেন,’ছাত্রজীবনের শিক্ষাই তাঁকে আজকের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।’ তিনি তাঁর প্রয়াত ও জীবিত সকল শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শৈশবের সংগ্রাম ও জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথাও তিনি তুলে ধরেন। ইংরেজি বিভাগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন ‘ইংরেজি সাহিত্য তাঁকে শুধু বইয়ে যা লেখা আছে তা-ই শেখায়নি, বরং যা লেখা নেই, তা-ও কীভাবে উপলব্ধি করতে হয়, সেই শিক্ষা দিয়েছে। এই শিক্ষাই তাঁর জীবনদর্শন ও জনসেবার পথকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।’ বক্তব্যের শেষে তিনি একটি মনোমুগ্ধকর ঝুমুর লোকগান পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন।

স্বাগত ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর রাজেশ মাহাতকে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশিষ্ট প্রাক্তনী এবং ‘মাটির সন্তান’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন ‘তাঁকে সংবর্ধনা জানানো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।’ জন সেবায় তাঁর নিষ্ঠা, বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন এবং কুর্মালি সম্প্রদায়ের কল্যাণে তাঁর নিরলস কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপাচার্য। তিনি আরও বলেন ‘একজন শিক্ষকের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি তাঁর ছাত্রের সাফল্য। মাহাতর কৃতিত্ব বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।’ তাঁর কথায় ‘এই সংবর্ধনা প্রাক্তনী ও তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিরন্তন বন্ধনেরই এক উজ্জ্বল উদ্যাপন।’

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. দেবদাস রায় উপস্থিত অতিথি, প্রাক্তনী এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন ‘বিভাগের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রাক্তনী রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন, যা বিভাগের কাছে এক অভূতপূর্ব ও গর্বের মুহূর্ত।’ গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে রাজেশ মাহাতর জনমুখী ভূমিকা এবং কুর্মালি ভাষা সংরক্ষণে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টার কথাও তিনি বিশেষ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ‘এই সংবর্ধনা কোনও আনুষ্ঠানিক সম্মান নয়; বরং বিভাগের পক্ষ থেকে একজন প্রিয় প্রাক্তনীর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং আত্মিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।’ অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক ইন্দ্রনীল আচার্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক জয়জিৎ ঘোষ।

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার প্রাক্তনীদের মধ্যে গভীর আত্মিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রইল এবং বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।