
মেদিনীপুর 11 ই জুলাই :
স্কুলের মধ্যেই ছোট্ট শিশুর ওরাল সেক্স অস্থায়ী সুইপারের। যা নিয়ে উত্তেজনা শহরে একটি স্বনামধন্য ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে। যদিও অভিযোগ পেয়েই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলো কোতওয়ালি থানার পুলিশ,সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে শুরু হয়েছে তদন্ত। অন্যদিকে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি অভিভাবক সহ স্কুল কর্তৃপক্ষের। এদিন স্কুলের অনুষ্ঠানে এসে মন্ত্রী দিলীপ।ঘোষ স্কুল কে একটু সচেষ্ট হওয়ার আবেদন করেন।

মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রকে যৌন হেনস্তা করার অভিযোগ স্কুলের এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ঐ কর্মীকে আটক করে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রকে ওরাল সেক্স করান স্কুলেরই ওই অস্থায়ী কর্মী। সেই সঙ্গে যৌন নির্যাতন ও করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর স্কুল ছুটির পর বাড়ির অভিভাবকদের গোটা বিষয় খুলে বলে ওই ছাত্র। এরপর অভিভাবকদের তরফে যোগাযোগ করা হয় ওই বেসরকারি স্কুলের কর্তৃপক্ষের সাথে। দুপুরের পর গোটা বিষয়টি জানাজানি হতে স্কুলে এসে পৌঁছায় অন্যান্য অভিভাবকেরাও। অভিভাবকের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই স্কুলেই আটকে রাখা হয় ওই অস্থায়ী কর্মীকে। এরপর মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাকে।

যা নিয়ে উত্তেজনা সংশ্লিষ্ট স্কুলে। স্কুল সূত্র অনুযায়ী, ওই অস্থায়ী কর্মী সম্প্রতি ৮ থেকে ৯ মাস আগে যোগ দিয়েছেন এই কাজে। কোম্পানি মারফত তাকে কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল। এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই অভিভাবককে লিখিত কমপ্লেন দিতে বলা হয়। কিন্তু অভিভাবক অভিযোগ না করে তিনি অন্যান্য অভিভাবকদের এবং থানায় জানান। এরপরই পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায় থানায়। যদিও এই ন্যাকার জনক ঘটনায় ফুঁসছে গোটা স্কুল। এক সূত্র অনুযায়ী স্কুলের তরফে জানা যায়, এই ঘটনায় ওই অভিভাবক তাদের জানালে তারা দ্রুত লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেন। পাশাপাশি অভিযুক্তকে একটা রুমে আটকে রাখা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় স্কুলে তরফ থেকে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ অনুযায়ী, ওই অভিভাবক তাদের লিখিত অভিযোগ স্কুলে জমা দেয়নি। ওই অভিভাবককে একাধিকবার ফোন করাও হয় বলে স্কুলের তরফে জানানো হয়।

এরপর ওই অভিভাবক আরো অভিভাবকদের নিয়ে এসে স্কুলে হাজির হন। তারা দাবি করেন অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। এই ঘটনার পরই পুলিশ এসে অভিযুক্ত কে নিয়ে যায়,নিয়ে যাওয়া হয় স্কুলের সংশ্লিষ্ট ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। যদিও এই ঘটনায় রাতে অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্ত শুরু করে কোতওয়ালি থানার পুলিশ। এইদিন অভিযুক্ত কে আদালতে তোলা হয়।

এই বিষয়ে আক্রান্ত পড়ুয়ার পরিবার বলেন,”আজকে ছুটির পর যখন ছেলেকে নিয়ে বাড়ি আছি তখন আসার পথে ছেলে আমাকে বলে আজকে স্কুলে একটা ঘটনা হয়েছে মা তোমাকে আমি জানাবো। এরপর ছেলে বলে আজকে মেইল এটেন্ডেন্স তাকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে চোখ বন্ধ করতে বলে এবং যৌন নির্যাতন করে। এই ঘটনার শোনার পরই আমার হাজব্যান্ড কে নিয়ে আমরা স্কুলে আসি এবং অভিযোগ জানায়। আমরা চাই ওই অভিযুক্তর দৃষ্টান্ত থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। পাশাপাশি তিনি বলেন যেখানে ছোট্ট একজন মেইল চাইল্ডের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটে,সেখানে আমরা আমাদের নিরাপত্তা কোথায়।”
যদি ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলে ,”এই ঘটনায় আমরা অভিযুক্তকে আটকে রেখেছিলাম। পুলিশ এলে তার হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা ওই পড়ুয়ার পাশে রয়েছি এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক এই দাবি করছি।

অভিযুক্ত যুবকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি বাকি অভিভাবকদের। অনিকেত বোস নামে অন্য এক পড়ুয়ার বাবা বলেন,”অত্যন্ত জঘন্যতম অপরাধ।এই অভিযুক্ত নিশ্চয় আগেও এই ধরণের কুকীর্তি করেছে। আমরা চাই ওর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক।”
যদিও এ বিষয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ দিন এক অনুষ্ঠানে এই স্কুলে আসেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্কুলের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,’এই ধরনের সামাজিক অপরাধ অনেক বেড়েছে। আগে এই ধরনের অত্যাচারের কোন বিচার হতো না। আজ পুলিশ সক্রিয় হয়েছে, সেই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট হওয়ার আবেদন মন্ত্রীর।”